রাজদরবারের উজির-নাজিরগিরী ছেড়ে এলাম খোট্টাদের দ্যাশে, নুন-আনতে পান্তা ফুরানোদের পটে, সেতো আগেই বলেছি!
রক্তে যে কবে মুসাফিরের বান ডেকেছে, কবে থেকে যে জিপসিদের জিনের অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া গ্যাছে, তা জানিনা।
এদিকে সে প্রিমিটিভ তাড়না থেকেই হোক, আর জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচবার উপায় হিসাবেই হোক, একটা নির্দিষ্ট সময় পরে, পাতা চুলকায়, কোথাও ঘর ছেড়ে, চেনা এলাকা ছেড়ে কদিনের জন্য বেরুতে না পারলে দম ঘুঁটে মরবারই জেনো উপক্রম হয়!
ঘুরতে যাবার পয়সা জোগাড় করা এই চাকরিতেতো হবার নয়!
কিন্তু
একজীবনের এক-তৃতীয়াংশ যখন কুয়ার ভেতরে কাটিয়ে, যখন কুয়া ছেড়ে বেরিয়ে এলাম, আমাকে আকৃষ্ট করলো, ছুটে বেড়ানোর এই দুরন্ত জীবন!
প্রজাপতির মতো দুরন্ত উড়াউড়ি করতে পারবার একটা বন্দোবস্তও করে ফেললাম! বহুদিনের সে জমিয়ে আসা চর্চায় এখন হঠাৎ শেকল পড়তে দেখে থমকে উঠেছি।
স্থবির এই জীবনের অন্তরালে থাকা এক ভয়াল কালো গহ্বর থেকে উঠে আসা গভীর নিনাদের মুহুর্ষমুহূ আর্তনাদে আঁতকে উঠি।
মনে হয় ছুটতে না পারলে মারা যাবো হাঁসফাঁস করে।
লক্ষ্যহীন, উদ্দেশ্যবিহীন এক নিষাদের উত্তরসূরি ছুটে চলাই শিখেছি কেবল, কোথায় থামতে হবে জানিনি। একটু জিরোতে শিখেছি, কিন্তু থিতু হতে, শেকড় গাড়তে শিখিনি।
এখন যখন এই দুপয়সার চাকরি করে আড়াইপয়সা যাপন করতে খরচ হয়ে যায়, তখন আর অন্য দিকে তথাকথিতের যুক্তিতে "অপচয়ের" সুযোগ কোথায়!
কিন্তু অনুক্ত এই চাপা অন্তর্দ্বন্দ্বে আহত, বিক্ষত হতে হতে মনে হয়, "নাহ! হলো, এবার একটু যাত্রাবিরতি হোক।"
এইবেলা খরচা করে আসি, ফিরে শ্রম দিয়ে তার মাশুলগুনে দেবোখন!
তাই নেমেছি পথে, কত যুগ পর, নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে। নতুন বাতাসে, নতুন মাটিতে ঘ্রান নেবার ইচ্ছে।
এতদিন যেখানেই গেলাম, সেখানের ভাষা, সংস্কৃতি সব চেনা জানা, এডজাস্ট করতে কোনো অসুবিধেই হয়নি।
একেবারে এই নতুন পরিবেশে, ভাঙা ইংরিজিতে কাজ চালাতে হবে কোনোমতে!
Source
ঝোঁকের বসে ক্রেডিটে কেটে ফেলেছিলাম টিকিট। কেটেই হতম্ভের মতো কিছুক্ষন থেকে গেলাম ভিসা নিতে!
কোনো হোটেল বুকিং না, কোনো সঙ্গী না, না কোনো চেনা কেউ।
শংকা, অপ্রত্যাশীতের এন্টিসিপেশনে, অজানার প্রতি কৌতূহল, কোথায় যাবো, কি করবো, কিভাবে করবো এইসব অজানারা সব মিলেমিশে এক পাঁচমিশেলি আবেগ আর উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
কোনো সফরই আমাকে কখনো হতাশ করেনি, আশা করছি প্রত্যাশার চেয়ে বহুগুন প্রাপ্তি নিয়ে ফিরে আসবো।