যে সব মানুষ পাপ করে এবং পাপকে যারা প্রশ্রয় দেয়, সেই পাপের শাস্তি তাদের এক দিন অবশ্যই ভোগ করতে হয়। দুনিয়ার মোহে পড়ে আখিরাতকে যারা ভুলে যায় , সেই দুনিয়ারই একদিন তাদের ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে দেয়।
তেমনি একটি বাস্তব ঘটনা বলছি আপনাদের কে।
গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে সায়মা। ছোট বেলা থেকেই নিয়মিত নামাজ, রোজা ও কুরআন পড়তো।
তারপর একটু বড় হতেই স্কুল , তারপর কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় বিয়ে হয় তার। বিয়ের পরেও সে নামাজ, রোজা ও কুরআন পড়তো নিয়মিত।
এক কথায়, স্বামীকে নিয়ে তার দাম্পত্য জীবন অনেক সুখের ছিল। মাঝে মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ে একটু টান পড়লেও সুখ- শান্তির কোন অভাব ছিল না তার জীবনে।
এরপর বিয়ের কিছুদিন পর তারা গ্রাম থেকে শহরে বসবাস করতে শুরু করে। কিন্তু গ্রামের মেয়ে সায়মা শহরে এসে প্রথম প্রথম কিছু টা হিমসিম খাচ্ছিল একা একা সব কাজ সামলাতে। আবার শহরের পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে সংসারে কিছুটা অভাব অনটন শুরু হলো। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার।
তারপর একদিন হঠাৎ করে অনেক রাত করে তার স্বামী অফিস থেকে ফিরে। এসে বলে, সায়মা! ঢাকা শহরে বাড়ি বানানোর জন্য জমি কিনবো।
সায়মা তো অবাক!
সায়মা তার স্বামীকে বলে, এতো টাকা তুমি কোথায় পাবে?
তার স্বামী বলে, সায়মা! ভুলে যাও পেছনের কথা।ঢাকা শহরে একটা নয় , কয়েকটি বাড়ি বানাবো আমি। তুমি দেখে নিও।
সায়মা আর কোন প্রশ্ন করলো না তার স্বামীকে।
কারণ শহরের পরিবেশে তাল মেলাতে গিয়ে সেও ভাবে, আসলেই তো অনেক টাকা হলে সমস্যা কি?
সে দিন থেকে দ্রুত বদলে গেল তাদের জীবন।গাড়ি, বাড়ি, টাকা পয়সা, গহনা কোন কিছুর অভাব আর থাকলো না তাদের।
বিত্তের মোহে পড়ে সায়মা ও তার স্বামী ভুলে গেল নামাজ, রোজা ও হালাল হারাম।
এভাবেই চলতে থাকলে তাদের জীবন।
কিন্তু কথায় আছে না?
পাপ তার বাপকে ছাড়ে না।
কয়েক বছর যেতে না যেতেই শুরু হলো নতুন খেলা।বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত সায়মা র জীবনে নেমে এলো অন্ধকারের কালো ছায়া।
বদলে গেল তার স্বামীর চরিত্র। প্রায় সময়ই অনেক রাতে বাড়িতে ফেরে মদ্যপ অবস্থায়।মদ ও নারী নিয়ে খেলা করাটাই হলো তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
এসব এর পরেও সায়মা জানতে পারলো তার স্বামী আর একটা বিয়ে করেছে।
সায়মা তার চোখের সামনে দেখতে পেল সব ধ্বংসলীলা।
সে উপলব্ধি করতে পারলো, হায় এখন আমার কি হবে?
কেন এমন হলো?
তাহলে এতো দিন কি আমি অন্ধকারে ছিলাম?
ছিলাম কি ভুল পথে?
আমার স্বামীর কাছে কি তবে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে?
হায় আল্লাহ!
আমি যদি ধন সম্পদের প্রতি লোভ না করতাম।যদি জানতে চাইতাম, আমার স্বামী কোথা থেকে টাকা আয় করছে? তাহলে আজকে আমার জীবনে এই পরিনতি হতো না।
সব হারিয়ে সায়মা এভাবেই পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু এখন আর এসব ভেবে লাভ কি?
সায়মা পরে জানতে পারে, তার স্বামী একজন অপরাধ জগতের মানুষ। মাদকদ্রব্য ছিল তার ব্যবসার প্রধান পন্য।
সায়মা ভাবে, তার স্বামী তো অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে।এ অন্ধকার থেকে তার তো উঠে আসা অসম্ভব।
তাই সে নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়। বেছে নেয় একাকী জীবন।
সায়মা হয়ে গেল একা, বড় একা।
উপরোক্ত ঘটনা থেকে আমার একটা মহামূল্যবান কথা মনে পড়লো।
হারামে আরাম নেই,
হালালেই প্রশান্তি, হোক না তা অপ্রতুল, হোক না তা ছোট।