Bangladesh একটি নাম। যে নামটি 16 কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন। যে নামটি কে 16 কোটি মানুষ ভালোবাসে। যে নামটি আদায়ের জন্য 30 লক্ষ মা-বোনেরা তাদের ইজ্জত বিলিয়ে দিয়েছে। যে নামটি আদায়ের জন্য দীর্ঘ নয়টি মাস ধরে সোনার ছেলেরা যুদ্ধ করেছে। যে নামটি আদায়ের জন্য 1952 সালে সংগ্রাম করেছি। 1969 গণঅভ্যুত্থান করেছি। উনিশশো একাত্তর সালে 26 শে মার্চ থেকে 16 ই ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ করে এসেছি। বহু উত্থান-পতনের পর বাংলাদেশ নামে একটি দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। কিন্তু আমরা যে এই যুদ্ধ বিদ্রোহ করলাম কিসের জন্য করলাম? কি ছিল আমাদের উদ্দেশ্য? আমরা তো ছিলাম পাকিস্তান?পূর্ব পাকিস্তান বলে ডাকা হতো আমাদের। সেখান থেকে কেন আমরা বাংলাদেশ নামক একটা দেশকে গড়ার জন্য এত আন্দোলন-সংগ্রাম করলাম? এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল?
পাকিস্তান তারা আমাদের উপর জোরপূর্বক জুলুম অত্যাচার করত। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতনের পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসলেন। তিনি এসে আমাদের উপর আরো চাপ,আরো জুলুম-নির্যাতন শুরু করলেন। ঠিক তখনই বাংলার 7 কোটি মানুষের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে 7 মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভা হয়। সেখানে তিনি জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। সেখান থেকেই মূলত স্বাধীনতার ঘোষণা হয়। যুদ্ধের ঘোষণা হয়। এরপর 25 মার্চ রাত্রে পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে হামলা হয়। সেখানে বহু মানুষ নির্যাতিত হয়। বহু মা-বোনেরা তাদের ইজ্জত হারায়। ঠিক সেদিনই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে ঘোষণা করে দেন যে, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে তোমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ো। সেখান থেকেই শুরু হয় যুদ্ধ। বহু আন্দোলন-সংগ্রাম যুদ্ধ,বহু মানুষের প্রাণ,বহু রক্ত দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। এই লাল সবুজের পতাকা। তারপর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসলেন। গঠন করা হয় সরকার।
Source
1972 সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। 1975 সালে 15 আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তারা বেঁচে যায়। তারপর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম বহু উত্থান-পতন হয়ে গেল। জেনারেল এরশাদ খান ক্ষমতায় আসলেন
তিনি 10 বছর শাসন করলেন। তখনকার সময় এরশাদকে বলা হত স্বৈরশাসক। এরপর আবার শুরু হল আন্দোলন। আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকার এর পতন হয়। এরপর ক্ষমতায় বসানো হয় বিএনপিকে। তারপর আওয়ামী লীগ। তারপর বিএনপি। আবার আওয়ামী লীগ। এখনো চলছে আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা।
স্বাধীনতার পর 48 বছর পেরিয়ে গেল। বহু ক্ষমতার পালাবদল আমরা দেখলাম। কিন্তু শুধু ক্ষমতার পালাবদলই হয়ে যায়। দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায় না। বিএনপি সরকারের 10 বছর ক্ষমতার সময় আমরা দেখেছি দুর্নীতি দুঃশাসন। আওয়ামী সরকারের 14 বছর ক্ষমতার সময় আমরা দেখছি দুর্নীতি-দুঃশাসন। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডঃ ফখরুদ্দীন এর সময় তখন আমরা দেখেছি দুর্নীতি-দুঃশাসন।
দীর্ঘ নয়টি মাস ধরে আমরা যুদ্ধ বিদ্রোহ করে বহু প্রাণ দিয়ে বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশকে স্বাধীন করেও এখনো আমরা পরাধীন। এখনো আমরা জালিমের বেড়াজালে বন্দী। তারা আমাদের উপর যেভাবে অত্যাচার করে যাচ্ছে। যেভাবে গরীব-দুঃখী,কৃষক-মজুরদের উপর অত্যাচার করছে তাতে মনে হয় আরেকবার বাংলার সোনার ছেলেদের অস্ত্র হাতে জ্বলে উঠতে হবে। আরেকবার বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিল কি? কৃষক-মজুর এদের উপরে জুলুম করা হত এজন্যই তো বাংলাদেশ স্বাধীন করা! কিন্তু স্বাধীনতার 48 বছর পরেও যদি এখনো সেই কৃষক-মজুর আম জনতার প্রতি এভাবে অত্যাচার করা হয়। গরিব-দুঃখীদের প্রতি এভাবে অত্যাচার করা হয়। দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো না হয়। মাদক বিরোধী অভিযানের নামে যদি এভাবে বিনা বিচারে মানুষ মারা হয়। তাহলে কি লাভ এই স্বাধীনতার? স্বাধীনতার কোন লাভ নেই। তাই আমি বাঙালি যুবকদের আহবান করব,আমরা একটা জাতি। আমরা এমন একটা জাতি যে জাতি বুকে বুলেট নিতে ভয় করে না। নিজেদের স্বাধীনতার জন্য নিজের জাতিকে স্বাধীন করার জন্য যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিতে ভয় পায় না। গুলি বৃষ্টির মাঝেও যারা পিছু হটে না। আমরা সেই জাতি।
সুতরাং আমরা যদি আরেকবার জ্বলে উঠি তাহলে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
আপনারা যারা আমার সঙ্গে একমত আছেন তারা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন
যারা আমার মত steemit এর নতুন তারা যে কোন সমস্যার জন্য সাহায্য পেতে আমার দেওয়া এই লিংকে ক্লিক করে discord সার্ভারে join হতে পারেন। যদি আপনি না বুঝেন তাহলে এখানে দেখুন
Join now
এখানে আপনি সপ্তাহে সাত দিন দিনের 24 ঘন্টা যে কোন সময় আপনি এখান থেকে যে কোন ধরনের সাহায্য পেতে পারেন। ধন্যবাদ।