"এই মিয়া দাঁড়াও, যাইতেছ কই? তোমারে ত এখন দেখা যায়না, ব্যাপার কি?"
"ভাই, আসসালামু আলাইকুম, আপনারে তো দেখা যায়না এখন… … … "
এলাকার এক বড় ভাই, রাস্তায় হঠাৎ দেখে ডাক দিল আর এই কথোপকথন। আসলে এমন না যে আমি একদম বের হয়না আবার এমনও না যে উনিও আগের মতো এলাকায় ঘোরাঘুরি করে যে আমায় দেখতে পাবেন। কিন্তু মূল বিষয়টি হলো আমাদের আর আগের মতো দেখা সাক্ষাৎ হয়না, হয়তো রেগুলার কথা হতো না কিন্তু এলাকায় একে অপরের উপস্থিতি ঠিকই বোঝা যেত।
আমরা এলাকায় স্থানীয় বিদায় বড় ভাইদের সাথেও সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ, একসাথে খেলাধুলা, মজ-মাস্তি, আদর-শাসন সবই হয়েছে। একসাথে প্রতিনিয়ত চলাফেরা দেখা-সাক্ষাৎ চলমান থাকলে মাঝখান দিয়ে বিরতি আসলে সেগুলো সহজেই চোখে আটকায়।
এই মনে করেন আগে বিকেলে খেলার মাঠে যারা যারা আসতো সবাই খেলতাম একসাথে। কেউ একজন একটানা অনেকদিন নেই, কাছের কেউ না হলে কেউ তেমন জিজ্ঞেস করবে না সে কোথায় কিন্তু সপ্তাহ খানেক পর যখন সে ফিরে আসে তখন ঠিকি তার উপস্থিতি টা একটু বিশেষ ভাবে জানান দেয়। এমন কিছু একটাই ঘটেছে আজকে।
যে বড়ভাই ডাক দিয়েছেন তার মাস-ছয়েক আগে নতুন চাকরি হয়েছে, আগে টিউশন করাতো এলাকায় অনেক সময় দিত। এখন চাকরিতে বিদায় বাড়তি সময় নেই, এই দিকে আমিও তেমন একটা আড্ডা দেই না গত কয়েক মাস ধরে, দুইজনের দিক থেকেই একটা ব্যস্ততার সময় এবং দেখা সাক্ষাতের একটা বিশাল গ্যাপ, একজনের কাছে অন্য জনকে মনে হচ্ছিল সে যেন হারিয়ে গিয়েছে তাই দেখা হচ্ছে না অথচ দুজনই দুদিক থেকে ব্যস্ততার বেড়াজালে আটকে আছি, তাই সবকিছু পূর্বের ন্যায় অনুভব করার অবকাশ নেই। যাইহোক কিছুক্ষণ বসে জম্পেশ একটা আড্ডা দিয়েছি সাথে আরো কয়েকজন, শুক্রবার বিদায় অনেকেই ছিল।
সবকিছু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও তার সাথে একে অপরের সর্ম্পক। দায়িত্ব ও ব্যস্ততার বেড়াজালে আটকে গিয়ে কতশত উপভোগ্য মুহূর্ত গুলো শুধুই স্মৃতি হয়ে আটকে আছে, হয়তো হঠাৎ দেখা-সাক্ষাৎ গুলো স্মৃতিচারণের এক মাধ্যমে মাত্র।