লেট ফাইজুর, সব কাজে দেরী করে করতে পছন্দ করে। লেকিন গত পাঁচ বছর থেকেই বিয়ে সাদি তারাতারি করতে চায়। কিন্তু চাইতে চাইতেও দেরী করে ফেলছে। মাথার মাল প্রায় শেষের পথে। যেও বা হাতে গোনা দু চারটা বাল আছে তাও এই ঝড় তুফানের দিনে টিকে থাকে কিনা এই ভয়ে ভয়ে দিন যাচ্ছে।
টুকটাক ব্যবসা করে। স্টক বিজনেসের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এক বন্ধু কিছু ভুট্টা আর পাট স্টক করে মোটামোটি ভালোই লাভ করেছে। সেখান থেকে লেট ফাইজুরের ও মাথায় ঢুকলো স্টক বিজনেস করবে।
রমজানে যখন দেখলো সয়াবিন নিয়ে সংকট।সয়াবিনের বোতল গুলো কেটে কেটে খুচড়া বিক্রি করছে তখনেই আঁচ করতে পিরেছিল সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হচ্ছে। সে তখন দ্রুত গতিতে কেরোসিন তেলের স্টক করা শুরু করলো। কারণ সয়াবিন তেল স্টক করে ধরা পরলে আম ছালা সবেই যাবেই। ওর থেকে ভালো কেরোসিন তেল স্টক করা। কারণ সে নিশ্চিত ছিল গনভবণ থেকে কেরোসিন তেল খাওয়ার পরিমর্শ দিবে। আর এই আশায় টিভির রিমোট দুই উরুর চিপায় নিয়ে টিভি অন করে বসে ছিল। বিটিভ হতে কয়েকদিন ধরে চোখ ফেরায় নিই লেট ফাইজুর।
কিন্তু গত পরশুদিন যখন বাদামের তেল খাওয়ার পরামর্শ বিটিভিতে ভেষে আসলো তার পর থেকে ২৪ ঘন্টা পাগল আছিলো। অনেক দোয়া তাবিজ করে তাকে ঠিক করা হয়েছে।
ঠিক হয়েই আমার কাছে পরামর্শ চাচ্ছে এটাতেতো বেশ সুবিধা করতে পারলাম না এবার কি করা যায়?
আমি বললাম দেখেন বাংলাদেশে সৎ পন্থায় ব্যবস্যা করে টিকতে পারবেন না। এইখানে ব্যবস্যার ক্ষেত্রেই শুধু না কোন সেক্টরেই সৎ মানুষের খাওয়া নেই। এইখানে ভেজাল আর এক এর উপর দুই নম্বর, তিন নম্বর বা এর থেকেও যত উপরের নম্বর হবে ততো ভালো। কাজেই অন্যভাবে কিছু চিন্তা করা যায় কিনা ভাবেন।
আপনাকে একটা তথ্য দেই গত কয়েকদিন ধরে সৈয়দপুরে পেট্রলপাম্প গুলোতে পেট্রোল আর অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। বাজার নাকি সংকট। তো ফাইজুরকে পরামর্শ দিলাম বেশি বেশি পানি পান করেন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে। আর সকাল সকাল নিজের শ্যালো মেসিন হতে যাই বার হবে সব পলিথিন বা তেলের ড্রামে মজুদ করেন। এক লিটার পেট্রলের সাথে এক লিটার আপনার মজুদকৃত সম্পদ মিলালেই হয়ে যাবে বাজারের ঘাটতি পূরণ। অল্প পুজিতে ডাবল মুনাফা।
কি জানি আমার পরামর্শটা কেমন লাগলো কিছু তো আর জানাইলো না। হয়তো দিন রাত পানি পান করা শুরু করে দিয়েছে।