গভীর রাত। শাওন ও মাধবী পরম তৃপ্তিতে ঘুমোচ্ছে। বাহিরে দিবালোকের ন্যায় জোছনার স্নিগ্ধ আলো। শয়ন কক্ষের একটি জানালা খোলা। তার পাশেই ফুলের বাগান স্বর্গীয় পরশ বুলাচ্ছে সারাটি বাড়িতে।
শাওন গভীর ঘুমে মগ্ন। এক স্বর্গীয় উদ্যানে তাঁর মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন স্বর্গীয় সাজে সজ্জিত! “বাবা শাওন, শাওন, এজন্য কী তোকে পেটে ধরেছিলাম! তুই না প্রতিজ্ঞা করেছিলি এদেশের কোন অমঙ্গল হতে দিবি না। দেশে আজ এ কী হচ্ছে! বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি আর শিক্ষার অবমূল্যায়ন। পুলিশ হেফাজতে থেকে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয় ব্যবসায়ী। দুই নেত্রী জিম্মী করে রেখেছে আমার দেশের বারো কোটি মানুষকে। ভিনদেশীরা আসে তাদের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য! ছি!! ধিক্ তাদের অসৎ চিন্তা-চেতনাকে। ক্যান্সারের ন্যায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাসের জীবাণু। প্রধানমন্ত্রীর ভ্রাতুস্পুত্র অতনুকে সন্ত্রাসীরা আটকে রাখে- মুক্তিপণ দাবী করে! বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়েছে রনাঙ্গণ। হাজারো মায়ের সন্তান সেখান থেকে মায়ের কোলে ফিরে আসে লাশ হয়ে । হরতাল, অবরোধ, ভাঙ্গচুর, রাহাজানি আর ক্ষমতার লোভ আমাদের দেশটাকে ঝাঁঝড়া করে ফেলেছে শাওন। এ জন্যেই কী আমরা জীবন দিয়েছিলাম- অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলি তুই! আমাদের অর্জিত স্বাধীনতার এ কী প্রতিদান শাওন!! জেগে উঠ্ শাওন, জেগে উঠ্। দেশের বারো কোটি মানুষকে বাঁচা- তাঁদের জাগিয়ে তোল”। মাগো, মা; আমি ভুল করে ফেলেছি মা! আমি আমার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবোই মা!! আমি আবার অস্ত্র ধরবো, আবার …………। শাওনের আর্তনাদে মাধবীর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। শাওন শয্যার উপর বসে দিকভ্রান্তের ন্যায় অস্থির হয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। মাধবী শাওনকে জড়িয়ে ধরে প্রবোধ দিচ্ছে। “শাওন, কী হয়েছে! কিছু স্বপ্নে দেখেছো!! আমাকে বলো। প্লিজ, অস্থির হয়ো না শাওন, প্লিজ ……………”ডাক্তার চলে গেলো। মাধবী ব্যথার পাহাড় বুকে নিয়ে শাওনের শিয়রে বসে রইল। তার হৃদয়ে শত সহস্র ভাবনা এসে ভিড় করছে। আর সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় একের পর এক মিলিয়ে যাচ্ছে। তার চোখ দুটো অশ্রুতে সিক্ত হয়ে উঠলো। মসজিদের মিনার হতে ভেসে এলো- “আচ্ছালাতু খায়রুম মিনান্নাওম ………”।
রাত্রি পোহাল। কিন্তু মাধবীর ব্যথার রজনী কিছুতেই পোহাচ্ছে না। (সমাপ্ত)
(পোষ্টটি ভাল লাগলে দয়া করে ভোট, লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করুন)
-------------০০০-----------