সকল বাঙালি Steemit user দের কাছে আমার অনুরোধ দয়া করে এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে শেষ করবেন।
Image source
বাংলা আমার মাতৃভাষা।ব্যবহারের ভিত্তিতে পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান ৪র্থ।বাংলাই একমাত্র ভাষা যা আমাদের লড়াই করে ছিনিয়ে আনতে হয়েছে।পাকিস্তানি শাসকেরা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল ১৯৪৮ সালে।কিন্তু বাংলার মানুষ এ অন্যায় মেনে নেয় নি।বাংলার দামাল ছেলেরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে।১৯৫২ সালে ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তানি সরকার গুলি চালায়।এতে রফিক, জব্বার, সালাম, শফিউর, বরকত ও আরও নাম না জানা অনেকের রক্তে বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার সম্মান।তাই আমরা আজ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি।পৃথিবীতে বাঙালি ছাড়া এমন কোনো জাতি নেই যারা লড়াই করেছে ভাষার জন্য।বাংলা ভাষায় মনের ভাব যত স্বতঃস্ফূর্ত করা সম্ভব অন্য ভাষায় তা সম্ভব নয়।কিন্তু আজ সবচেয়ে দুঃখের কথা এই যে আমরা কেউ খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলি না।আমরা চাইলেও সেটা পারি না।আমরা আমাদের মাতৃভাষার সম্মান করতে জানি না।আমাদের কথা বলার সময় দু-একটা বিদেশি শব্দের সংমিশ্রণ ঘটে।এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো বিদেশি শাসন।আমাদের এই দেশ প্রচুর ধন-সম্পদে পূর্ণ ছিল।তাই এই দেশে বিভিন্ন দেশ ও জাতির মানুষ এদেশ শাসন করেছে।তাদের ভাষার প্রভাব কিছুটা আমাদের বাংলা ভাষার ওপর পড়েছে।তাই আমাদের মাতৃভাষার এরকম বিকৃত অবস্থা।শুধু শাসনই ভাষা বিকৃতির কারণ নয়।এর আরেকটা বড় কারণ হলো টেলিভিশন।আমরা টেলিভিশনে মুভি দেখতে ভালোবাসি।এই মুভিগুলোতে পরিচালকেরা বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার করে থাকেন।এর প্রভাব পড়ে আমাদের মাতৃভাষার ওপর।বর্তমানে বোধহয় আর এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে।কিন্তু এটা অনেকেই জানে না যে মাইকেল মধূসুদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ এই ভাষায় সাহিত্য রচনা করে বিখ্যাত হয়েছেন।মাইকেল মধূসুদন প্রথমে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে পরে আক্ষেপ করে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করে বিখ্যাত হয়েছেন।
তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে যেন আমাদের বাংলা ভাষা সম্পূর্ণ বিকৃত না হয়।বাংলা ভাষা যদি সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যায় তাহলে ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের অপমান করা হবে।তারা কি জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন?আমাদের এই বিদেশি ভাষায় কথা বলার জন্য?না, তারা প্রাণ দিয়েছিলেন যেন আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি।কিন্তু কী আর বলব তারা যদি শহিদ না হতেন তাহলে আমাদের কথা বলা দেখে হয়তো তারা আত্মহত্যা করতেন।যাই হোক মাতৃভাষা আমাদের, তা রক্ষার দায়িত্যও আমাদের।
আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ এই কথাগুলো সবার সাথে শেয়ার করুন।একজন বাঙালি হিসেবে এটা আপনার কর্তব্য।