মানুষ যদি অন্য মানুষের সামনে না থাকে সে যতই আপন হোক না কেন তার থেকে পরকে বেশি আপন মনে হয়। এই আপন পর ভাবার পাল্লাটা এতোই ভারী হয়ে থাকে যে এ ক্ষেত্রে কোন ন্যায়, অন্যায় কাজ করেনা।
একটা বাস্তব সম্মত উদাহরণ দেই। আমার এক পরিচিত পরিবার তার চার সন্তান, ২ ছেলে ২ মেয়ে। সবার বিয়ে সাদি হয়ে গেছে। সবার ১টা বা ২টা করে বাচ্চা আছে যারা কোন না কোন স্কুলে পড়ে। পরিবার প্রধান হলো তাদের মা।
তাদের সম্পত্তি অগাধ, এই পরিবার এর প্রত্যেকটা ছেলে মেয়েই যথেষ্ট বুদ্ধি সম্পন্ন উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতায় পরিপূর্ণ। বছর খানেক আগে শুনেছিলাম ছোট ছেলেটা পারিবারিক ব্যবশা পরিচালনা করছে। যখন আরও মিশলাম দেখলাম ২ টা ছেলে যাদের বয়স ৩২- ৩৮ এর মধ্যে তাদের কেউ কিছু করেনা।
কিছু করার দরকার কি তাদের যে ৪ ভাই বোনের নামে ৪ টা বাড়ী রয়েছে, খামুখা কাজ করে সময় নষ্ট করার কি প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা তো সেখানে না। ওই যে বললাম সামনে না থাকলে গুরুত্ব ও কমে যায়। ২ টা ছেলেই চরম নেশা করে সাথে বড় ছেলের বউ ও, বড় ছেলে এর সংসার তো আরও ভালো, বাসায় নতুন নতুন মেয়ে নিয়ে প্রতিদিন জলসা হয়, আর বড় বউ বাইরে জলসা করে। প্রতিদিন বড় এবং ছোট ছেলেকে কোথাও পাওয়া যাক আর না যাক বারে পাওয়া যাবেই। সেখানে গিয়ে তারা তাদের স্বর্ণের চেইন লকেট বিক্রির মেলা বসায়।মায়ের কথা ওদের কাজ করার কি দরকার আমি তো আছি।
৪ নং মেয়ে তার স্বামী সংসার বাদ দিয়ে মায়ের বাড়ী থাকে কিছুই করা লাগে না। খায় আর ঘুমায়। তাদের ছেলে মেয়ে সহ। প্রতিদিন নতুন নতুন blackmail আজ আমার গায়ে বেথা মা টাকা দাও কাল ছেলের জ্বর ডাক্তার দেখাতে হবে টাকা লাগবে ইত্যাদি।
৩ নং মেয়েটা জেদি সেই জন্য নিজের পছন্দ মত মধ্যবিত্ত family এর সরকারী চাকরিজীবি ছেলেকে বিয়ে করে স্বামীর সাথে সুখেই আছে। এই একটি মাত্র মেয়েই বাড়িতে থাকে না সে বাহিরে স্বামীর সাথে থাকে। কিন্তু মায়ের কাছে এই মেয়ে সব থেকে খারাপ সে মায়ের কথা শুনে না। তাই সে কোনও সুযোগ সুবিধা পাবে না , যা তার অন্য ৩ সহোদর ভোগ করছে।
সামনে না থাকার দূরত্বটা এতোটাই যে তাদের মায়ের চোখকে অন্ধ করে রেখেছে, যে তিনি এটা দেখতে পারছেন না যে এই একটি জেদি সন্তানই তার বাকি সন্তানদের থেকে সব দিক থেকে উথক্রিস্ট। কিন্তু তার বেলায় তার মা এখানে তার সাথে অবিচার করছেন (অজুহাত প্রয়োগ করছেন যে সে তার কথা শুনে না অন্য গুলো কথা শুনে) । এখানে দূরত্বের পাল্লাটা এতোটাই ভারী যে সেটা মায়ের মমতা কে হার মানালো, হার মানালো সন্তানদের মধ্যে পরিপূর্ণ অধিকার এর সুশম বণ্টনকে।
একটা সময় ছিলো যখন বলা হতো পিতা মাতা সব সন্তান কে সমান চোখে দেখে, এই বিংশ শতকে দেখছি যে Out of sight, out of mind এর theory টি পিতা মাতার সমান চোখে সন্তান কে দেখা কে হার মানায়।
উপরের উল্লেখিত ক্ষেতে ওই মা এখনো এটা চিন্তা করেন না যে তার অন্য সন্তানদেরকে উনি যেভাবে দেখছেন সেটার দ্বারা তিনি তাদের জীবন ধ্বংস করে ফেলছেন। কিন্তু যে অজুহাতে (আমার এই মেয়েটি আমার কথা শুনে নাই, সে আমার control এ নাই সুতরাং আমি তাকে কিছু দিবনা) তিনি তার জেদী সন্তান কে দুরে রেখেছেন সেই তার যোগ্য সন্তান, যদি কেউ পারে তাহলে সেই পারবে তার কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষা করতে এবং অন্য ৩ টা কে তার অবর্তমানে বাঁচিয়ে রাখতে।
Out of site Out of mind এখানে মাতা পিতার সন্তান এর প্রতি ভালবাসাকেও ব্যবধান করতে বাধ্য করে।