আমাদের শ্রদ্ধেয় বাবা আমাদের ছেড়ে জান্নাতবাসী হয়েছেন ০১ আগস্ট মাস ২০২১ইং সালে। বাবা ছাড়া এই প্রথম ঈদ আমাদের। আউটার স্টেডিয়ামে আমার ছোট ভাই ডাঃ শামছুজ্জামান পলাশ সহ ঈদের নামাজ পড়ে চাঁদপুর পউর কবরস্থানে বাবার
কবর জেয়ারত করতে যাই। আল্লাহ তালার কাছে সকল মুসলমানদের জন্য ক্ষমা চেয়ে জান্নাতের আবেদন কর। কবর জেয়ারত শেষে বের হবার সময় চোখে পড়লো একটু আলাদা ডিজাইনের কয়েকটি কবর।
ছোট ভাই ডাঃ শামছুজ্জামান পলাশ কে জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার এই কবরগুলো এভাবে অন্য রকম ডিজাই করে করা হয়েছে কেন? এখনো নাম ফলক লাগানো হয়নি।সে জানালো এগুলো নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের কবর। পাশেই দেখলাম মুক্তিযোদ্ধা নাম লিখা
সাইনবোর্ড লিখা আরো দুই তিনটি কবর। সেগুলো করা হয়নি কেন? উত্তরে সে জানালো এগুলো নাকি এখনো অনুমোদন পায়নি। বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম ডিজাইনটি তৈরী করেছেন স্থাপত্য বিভাগের সহকারী প্রধান স্থপতি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের 'শিখা চিরন্তন' এর ডিজাইনার জনাব আশিফুর রহমান ভূঁইয়া।
ভালো লাগলো উদ্দোগটি দেখে। কিন্তু কথা হচ্ছে এ্দের সবাই কি আসলেই মুক্তিযোদ্ধা ? নাকি কনভারটেড মুক্তিযোদ্ধা? কারণ ৫০ বছরেও একটি নিরোপেক্ষ তালিকা আমারা প্রস্তুত করতে পারিনি।অনেকের কাছে শুনেছি সে মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু লোক না থাকায় নাম যোগ করতে পারেননি, আর সেই জন্য তার জোন আফসোসও নেই। দেখা যায় প্রতিবছর নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধার নাম যোগ হয় বিভিন্ন কারনে।যাকগে সেটা আমাদের জনার বিষয় নয়। এটা বাংলাদেশ, সব সম্ভবের দেশ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে'শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন' প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এই কাজ শুরু হয়েছে ০১ জুলাই ২০১৮ সাল থেকে। সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের কাজটি করছে-গণপূর্ত অধিদপ্তর।সকল ধর্মের মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধীকে একরকম করে দেওয়া হবে। প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬০,৯৭.৮৯ কোটি টাকা। সরকারি হিসাবে প্রতিটি সমাধির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।জানি না কি হিসাবে এই কাজের বাজেট এতো টাকা হতে পারে!যতটা জানা যায় ধীরে ধীরে সারা বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের কবরকে একই ডিজাইনে তৈরী করা হবে। ছিদ্র যুক্ত স্থানটি বাংলাদেশের পতাকা যা অর্জনের জন্য তাদের আত্মদান।সকলের কবরেই জন্ম তারিখ,মৃত্যু তারিখ,যুদ্ধে তার অবদানের কথা সংক্ষেপে লিখা থাকবে।
দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকারের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই। সরকারের এ উদ্যোগ টি প্রশংসনীয়। এতে আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখা সম্ভব হবে।
ধন্যবাদ।