রোগ নিরাময়ের জন্য এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও প্যাথিক ঔষধের পাশাপাশি ভেষজ ঔষধ ও ব্যাবহার হয়ে থাকে। এই ভেষজ উদ্ভিদ আমরা পেয়ে থাকি বিভিন্ন প্রকার গাছ থেকে। ভেষজ ঔষধ খুবই কার্যকরী ঔষধ। ভিন্ন ভিন্ন রোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভেষজ গাছ থেকে ঔষধ তৈরী করা হয় আবার অনেক সময় একই ভেষজ গাছ থেকে একাধিক রোগের ঔষধ তৈরী করা যায়। কলা গাছে এমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা থেকে একাধিক রোগের ঔষধ তৈরী করা সম্ভব এবং কলা গাছের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন তেউর, মোচা, কলা পাতা, কলা খুবই উপকারী।
Image source
প্রদর রোগঃ
প্রদর রোগের ঔষধ তৈরীতে কাঁচা কলা ব্যাবহার করা হয়। একটি কাঁচা কলাকে ছোট ছোট চাকা করে কেটে প্রতিদিন রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সে পানি খালি পেটে পান করতে হবে। এভাবে এক মাস পান করলে প্রদর রোগ সেরে যাবে।
Image source
প্রসূতির কাঁচা নাড়ি শুকাতে কাঁচা কলার ব্যাবহারঃ
প্রসবের কাঁচা নাড়ি শুকাতে কাঁচা কলা বেশ উপকারী একটি ঔষধ। প্রসবের পর শরীরকে ঝরঝরে করতে কিছু কাঁচা কল পুড়ে সিদ্ধ করতে হবে এবং সেগুলোকে ভর্তা করে ভাত খেতে দিতে হবে।
ডায়রিয়া রোগ নিরাময়ের জন্য কাঁচা কলার ব্যাবহারঃ
ডায়রিয়া খুবই মারাত্নক একটি রোগ। ডায়রিয়া রোগে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায়। ডায়রিয়া রোগের ঔষধ বানানোর জন্য ২ থেকে ৩ টি কাঁচা কলা নিতে হবে। সেগুলোকে অর্ধেক করে কেটে পানিতে অল্প সিদ্ধ করে ভর্তা করে খেতে হবে। তাহলে দাস্ত বা বেশি পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে।
যে যে রোগের ঔষধ তৈরীতে কলা পাতা ব্যাবহার করা হয়ঃ
- শরীরের কোথাও ক্ষত বা চর্ম রোগ থাকলে সেখানে কলাপাতার রস ঘষে লাগাতে হবে।
- রক্ত পরিষ্কারের জন্য কলাপাতার সবুজ রস খুব উপকারী।
- স্বর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট রোগের জন্য কলাপাতার রস খুব উপকারী।
- উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের দোষ, আমাশয় রোগ নিরাময়ে কলাপাতার রস ব্যাবহার করা হয়।
- ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশে অনেক রোগের চিকিৎসার জন্য কলাপাতা ব্যাবহার করে থাকে।
- ফরাসি ডাক্তাররা শোথ, যক্ষা, আমাশয় রোগের জন্য কলাপাতার রস খাওয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন।
- রক্তক্ষরণ, জমা সর্দি নিরাময়ে কলা পাতার রস খুব উপযোগী।
- সকল ধরণের দাঁতের ব্যাথায় কলাপাতার রস থেকে তৈরী "প্ল্যান্টাগো" নামের ঔষধটি হোমিওপ্যাথি ডাক্তাররা সুনামের সাথে অনেক বছর ধরে ব্যাবহার করে আসছেন।
কানের ব্যাথা দূর করতে কলা পাতার রসঃ
কলা গাছের মাথা থেকে গোল একটি পাতা বের হয় অর্থাৎ কলা গাছের ঠিক মাঝখান থেকে গোল আকারের একটি কচি পাতা বের হবে যা খুলে যায়নি সেই পাতাটি সংগ্রহ করে থেতলে নিতে হবে। রস নিংরে সেটাকে একটু গরম করে নিতে হবে এবং ২ ফোঁটা কানে দিতে হবে। তাহলেই কানের ব্যাথা কমে যাবে।
শুষ্ক কাশিতে পাকা কলার ব্যাবহারঃ
একটি পাকা কলা নিতে হবে। কলাটিকে চটকে অল্প পানিতে মিশিয়ে হালকা গরম করে ছেকে নিতে হবে। ছেকে নেওয়া পানি সকালে ও বিকালে কয়েকদিন খেলেই উপশম হবে তবে প্রতিদিনের ঔষধ প্রতিদিন তৈরী করে নিতে হবে।
কৃমি দূর করতে কলা গাছের শেকড়ঃ
শিশুদের জন্য ১ চা চামচ, কিশোরদের জন্য ২ চা চামচ, প্রাপ্ত বয়স্কদের ৩-৪ চা চামচ করে কলাগাছের শেকড়ের রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলেই চলবে।