২০১২ সালে চেলসির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। সেবার দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল চেলসি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাও ঘরে তুলেছিল ইংলিশ এই ক্লাব। ওই বছর বার্সার হয়ে বাজেভাবে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি। ওই হারের ভূতই তাড়া করে ফিরছিল মেসিকে, তাঁর ক্লাব বার্সাকেও। সেই ‘ভূত’ কালকের ম্যাচে কাঁধ থেকে নামালেন মেসি-বার্সেলোনা। চেলসিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিলেন মেসি-সুয়ারেজরা।
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগটা ভালো যাচ্ছিল না মেসির। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে কালকের জোড়া গোল নিয়ে মেসির গোল মাত্র ৬টি। যেখানে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর গোলসংখ্যা ১২। আসলে কালকের ম্যাচ মেসিকে অনেক কিছুই দিয়েছে। এই যেমন ম্যাচের দুই মিনিট আট সেকেন্ডে ম্যাচের প্রথম গোলটি তাঁর ক্যারিয়ারে (ক্লাব এবং দেশের হয়ে) সবচেয়ে দ্রুততম গোল। কালকের ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শততম গোলের দেখা পেলেন মেসি।
শেষ ষোলোর প্রথম লেগেই চেলসির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পান মেসি। কাল মনে হচ্ছিল, চেলসির রক্ষণকে কী করে ফাঁকি দিতে হয়, সেটা বুঝে গেছেন বার্সার এই গোল মেশিন।
ন্যু ক্যাম্পে মেসি গোল করেছেন, করিয়েছেনও। চেলসির খেলোয়াড়েরা তখনো বল পায়ে ছোঁয়াতে পারেননি। ততক্ষণে মেসির দ্রুততম গোলে ১-০–তে পিছিয়ে যান আন্তোনিও কন্তের শিষ্যরা। এরপর কিছুক্ষণ আক্রমণ পাল্টা–আক্রমণ চলে। তবে ২০ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠে হুট করেই বল পেয়ে যান মেসি। তাঁকে আর পায় কে? একাই এক এক করে চেলসির রক্ষণভাগের দেয়াল ভেঙে এগিয়ে যান। ডি বক্সে সতীর্থ সুয়ারেজ। ‘হয় নিজে শট নেবেন কিংবা সুয়ারেজকে দেবেন’—এমনটাই হয়তো ভাবছিলেন চেলসির রক্ষণ আগলে রাখা খেলোয়াড়েরা। তিনি মেসি দেখেই হয়তো এর কিছুই করলেন না। দেখলেন, সুয়ারেজের চেয়ে খানিক বেশি তৎপর আরেক উইঙ্গার ওউসমানে ডেমবেলে। মেসি আড়াআড়ি বল ক্রস করলেন তাঁকেই। রেকর্ড পরিমাণ ট্রান্সফার ফি নিয়ে গত বছর বার্সায় যোগ দেওয়া এই ফরাসি ঠিকঠাক কাজটা সেরে ফেললেন। এরপর ৬৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিগে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ফুটবলের এই জাদুকর।