২৹ দশকের শুরুতে পোলিও ভয়ংকর রোগের আকার ধারণ করেছিলো৷ ফলে হাজার হাজার শিশু পঙ্গু হয়ে যাচ্ছিল৷ তখন এই রোগের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার না হওয়ায় মানুষ এই রোগকে খোদার ইচ্ছা বলে মানতে শুরু করে৷ এক্ষেত্রে আমরা যখন কোন কিছুর জন্য যোগ্যতা না পাই কিংবা কোন কিছুর ব্যাখ্যা খুঁজে না পাই তখন আমরা সেটাকে ভাগ্য বলে চালিয়ে দেই৷ এটা সান্ত্বনা দায়ক শব্দ হলেও এর ফলে আমরা আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ি৷ এরপর যখন পুরো বিশ্বে এই রোগটিকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তখন দেশজুড়ে টিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়৷ এতে পোলিও রোগীর সংখ্যাও কমতে থাকে৷
একজন মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত নিজের ইচ্ছা মত আশেপাশের পরিবেশের সাথে নিজেকে বদলে ফেলা৷ কিন্তু বর্তমানে আশেপাশের পরিবেশ গুলোই নিজের ইচ্ছে মতন নিজেকে বদলে নিচ্ছে৷ সমস্যাটা হলো যেগুলো আপনি আমি হিসেবে জানেন সেগুলো আসলে আপনার দাড়া কিছু কিছু জিনিস মিলে তৈরি৷ আপনার দেহ আপনি ছোটবেলা থেকে যা যা খেয়েছেন তার মিলে তৈরি হয়েছে৷ আপনার মন ছোট বেলা থেকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তা মিলে তৈরি হয়েছে৷ যা কিছু আপনার দ্বারা জরো হওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে তা হয়তো আপনার হতে পারে কিন্তু তা কখনোই আপনি হতে পারেন না৷ তাহলে আপনি ঠিক কে! সেটা এখন আপনার অভিজ্ঞতায় আসতে বাকি রয়েছে৷ সত্যি হলো এটাই অবচেতন ভাবে আপনি আপনার ভাগ্যকে নির্ধারণ করেন৷ যদি আপনি আপনার শরীরের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে আপনার ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ভাগ্য আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে৷ আপনি যদি আপনার মনের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে আপনার ভাগ্যের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আপনার নিজের উপর থাকবে এবং আপনি যদি আপনার শারীরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার পুরো ১০০ শতাংশ ভাগ্যের উপর নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন৷
নিজের ভাগ্যকে নিজের হাতে না এমন নয় যে আপনি যেমন চাইবেন বাইরের দুনিয়া ঠিক সেইভাবে ঘটবে৷ বাইরের দুনিয়া কোন ভাবে আপনার ইচ্ছা মত চলবে না৷ কারণ সেটা অসংখ্য জিনিসের উপর নির্ভর করছে নিজের ভাগ্য নিজে করে তোলা মানে নিজেকে এরকম ভাবে তৈরি করা যাতে আপনি আপনার চারপাশে যাই ঘটুক না কেন আপনি সহজে এই পরিস্থিতির দ্বারা দমে যাবেন না বরং আপনি সেগুলোর উপরে চড়ে বসবেন৷
আপনার জীবনের বিভিন্ন সমস্যা গুলো যেমন রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা অসস্তির আকারে প্রকাশ পাচ্ছে তা আপনার মৌলিক শারীরিক অংশগুলো বা আপনার শরীর মন এবং মস্তিষ্ক মিলে যা ইচ্ছা করে চলেছে৷ যখনই রাগ, অভিমান, দুশ্চিন্তা, অস্বস্তিগুলো ঘটে চলেছে তখন আপনার উচিত বাইরে এদিক ওদিক না তাকিয়ে নিজের মধ্যে কি করছে তা নিয়ে চিন্তা করা৷ আপনার জীবনে শান্তি আনার জন্য একমাত্র যে মানুষকে ঠিক করা দরকার সেটা হলেন আপনি নিজে৷ আপনি যেটা ভুলে গেছেন সেটা হলো এই যে আপনার শরীর খারাপ হলে যে মানুষটার ওষুধ খাওয়া দরকার সেটা হলেন আপনি নিজে, আপনার যদি খিদে পায় তাহলে যে মানুষটির খাওয়ার দরকার তাহলে আপনি নিজে৷ তাই যে মানুষটির ঠিক হওয়া প্রয়োজন তা হল আপনি নিজে৷ কিন্তু সামান্য জিনিস বুঝতে মানুষ সারা জীবন লাগিয়ে দেয়৷
একদিন এক শীতের সকালে এক লোক বরফের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে ছিলেন৷ তখন করিতে পাচ্ছিল প্রায় সকাল দশটা৷ মাছ ধরা যেকোনো হাতের মোয়া এটাযে একটি ধৈর্যের একটি কাজ তিনি সেটা খুব ভালোভাবে জানতেন৷ এভাবে ঘড়ি ধরে বসে থাকতে থাকতে বেলা গড়িয়ে বিকাল চারটা বেজে গেল৷ কিন্তু তিনি তখন একটা মাছ ধরতে পারলেন না৷ তার ঝুড়ি তখনও পর্যন্ত খালি৷ এমন সময় সেখানে অল্প বয়স্ক একটি যুবক এসে হাজির হল৷ তার হাতে একটি বড় বুমবক্স যেটাতে খুব জোরে গান বাজছিল৷ সে কাছেই একটি বড় গর্ত করে মাছ ধরার জন্য বসে পরল৷ পাশে তার বুমবক্সে এখনো মিউজিক বেজে চলছে৷
বৃদ্ধ লোকটি অবজ্ঞা সুরে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি সেই সকাল থেকে এখানে চুপচাপ বসে আছি তাও এখন একটা মাছ ধরতে পারলাম না আরে এই গর্ধব টা ভাবছে এত জোরে গান বাজাতে বাজাতে মাছ ধরতে পারবে৷ তাও নাকি বিকেল চারটের সময়৷ এখনকার ছেলে মেয়েদের মাথায় সত্যিই কিছু নেই৷ কিন্তু এর ১০ মিনিটের মধ্যে ছেলেটি একটি মাছ ধরে ফেলল৷ বৃদ্ধ টা এটাকে ছেলেটির সৌভাগ্য বলে অবজ্ঞা করে আবার মাছ ধরতে মনোযোগ দিলেন৷ তার দশ মিনিট পর ছেলেটি আবার একটি বড় মাছ ধরে ফেলল৷ বৃদ্ধ লোকটা এবার এই ব্যাপারটিকে আর অবজ্ঞা করতে পারলেন না৷তিনি ছেলেটির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন এবং ঠিক সেই সময় ছেলেটি আবার একটি বড় মাছ ধরে ফেলল৷
এবার আর তিনি এই ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছিল না তাই তিনি থাকতে না পেরে নিজের অহংকার কে দূরে রেখে দিয়ে বৃদ্ধ লোকটি আস্তে আস্তে ছেলেটির কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো, রহস্যটা কি আমি সেই সকাল থেকে এখানে চুপচাপ বসে আছি কিন্তু এখনো একটাও মাছ ধরতে পারলাম না আর এইটুকু সময়ের মধ্যে তিনটি বড় বড় মাছ ধরে ফেললে! ব্যাপারটা কি হচ্ছে?
ছেলেটি এটা শুনে মুখের ইশারায় উল্টাপাল্টা বলল৷ বৃদ্ধ লোকটি এটা শুনে কিছুই বুঝতে পারলেন না৷ এবার বৃদ্ধ লোকটি ছেলের কানের কাছে গিয়ে বললো কি বলছ? এবার ছেলেটি আবার বুমবক্সের সাউন্ড কমিয়ে মুখের ইশারায় উল্টাপাল্টা কিছু একটা বলল৷ আবারও বৃদ্ধ লোকটি কিছু বুঝতে না পেরে রেগে গিয়ে বললেন, ধুর তুমি যে কি বলছ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না! ছেলেটি এবার একটি জিনিস মুখ থেকে একটি জিনিস থু মেরে তার হাতে ফেলে দিয়ে বলল, আপনাকে মাছের চাড়া গুলোকে গরম রাখতে হবে৷
যদি আপনি সঠিক কাজ না করে তাহলে কোন দিনই আপনার সাথে সঠিক কিছু ঘটবে না৷ আদর্শ এবং মতামত শুধু সামাজিকতার ফলাফল মাত্র৷##আপনি কি নিজেকে মাত্র একটি ভালো মানুষ বলে মনে করতে পারেন কিন্তু আপনি যদি আপনার ফুলের বাগানে ঠিক মতো পানি না দেন তাহলে কি কখনো ফুল ফুটবে? ভালো ফলাফল পেতে চলে সঠিক কাজটা অবশ্যই করতে হবে৷ তখনই আপনার ভাগ্য ১০০ ভাগ আপনার নিজের হাতে থাকবে৷ তাই কোন সময় ভাগ্যের দোষ না নিয়ে সঠিক কাজটি করুন দেখবেন ভাগ্যই আপনার পক্ষে আছে৷
Posted from my blog with SteemPress : http://www.eccheblog.ooo/2018/08/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a6%be