"সঠিক নিয়মে বই পড়ি সল্প পড়ায় ভাল রেজাল্ট করি"
আমরা যারা স্টুডেন্ট তারা মা বাবার কাছ থেকে সবসময় একটা বাক্য শুনে থাকি “বেশি করে পড়! এবার কিন্তু ভাল রেজাল্ট করতে হবে!” আমরাও ভাল রেজাল্টের আশায় অথবা ভাল কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার আশায় সারাদিন পড়ার মধ্যে ডুবে থাকি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এত পড়ালেখার পরও ফলাফল আশান্রুপ হচ্ছে না। অথচ যে বন্ধু টা সারাদিন খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকার পরও পরীক্ষায় অনেক ভাল ফল করছে। এর কারণ কি শুধুই মেধার তারতম্য? নাকি অন্য কিছু নাকি কোন ম্যাজিক? না শুধু মেধা বা এ কোন ম্যাজিক না ! স্রষ্টা সবাইকেই মেধা দিয়ে পাঠিয়েছেন, কিন্তু মেধার সঠিক ব্যবহারই ভাল ছাত্র আর খারাপ ছাত্র দুই ভাগে ভাগ করে দেই।
অনেকেই আমরা এখনো সেই পুরনো ধারনার উপর ভিত্তি করে পড়ে থাকি " স্টাডি হার্ড" অর্থাৎ যত বেশি পড়ালেখা রেজাল্ট ও তত বেশি ভাল।কিন্তু ধারনা এখন পাল্টেছে, এখন "স্টাডি স্মার্ট" এই নীতির উপর ভিত্তি করে পড়ালেখা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।।তোমার দৈনন্দিন পড়ালেখার পদ্ধতিতে ছোট্ট ছোট্ট কিছু পরিবর্তন যা তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর আজকের আর্টিকেলে জানতে পারবে "স্টাডি স্মার্ট" এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।
১।একটানা বেশি সময় ধরে পড়াশোনা না করা।
আমরা অনেকেই একটানা অনেক সময় ধরে পড়তেই থাকি বিশেষ করে পরীক্ষার সময়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়তেই থাকি।কিন্তু দেখা যায় যে, সব পড়া মনে থাকে না আবার পরীক্ষার খাতায় লিখতে যাওয়ার সময় আবছা আবছা মনে পড়ে যা খুবই অসস্থিকর।বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা একটানা ৩০ মিনিট পরিশ্রমের পর হ্রাস পেতে শুরু করে। সুতরাং, একটানা ঘন্টার পর ঘন্টা বই নিয়ে পড়ে থাকার অভ্যাস এখনই বন্ধ করো। পড়ার সময় কে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নাও।২০- ৩০ মিনিট করে।
প্রত্যেকটা ভাগ শেষ হওয়ার পর ছোট একটা ব্রেক নিয়ে নাও। এই সময়টুকু একদম chill থাক তোমার পছন্দের কিছু করতে পার যেমন; খাওয়া, গান শোনা, গেম খেলা ইত্যাদি। তারপর আবার সতেজ মনে আবার পড়াশোনা শুরু করে দাও।
২। A 2 Z মুখস্থ নয় বুঝে বুঝে পড়তে হয়ঃ
আমরা অনেকেই দাড়ি কমা সহ সব হুবুহ মুকুস্থ করে ফেলি থেকে আমাদের ছড়া, কবিতা প্রভৃতি দাঁড়িকমা সহ মুখস্থ করে ফেলি । অনেকেই আছে, যাদের কোন কিছুর সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে হুবুহু বই এর সংজ্ঞা গড়গড় করে বলে দিতে পারবে, কিন্তু ব্যাখ্যা করতে বললেই চুপ। না বুঝে পড়া হুবুহ মুখস্থ করা পড়ালেখার একটা ভুল পদ্ধতি।
আর বর্তমান সৃজনশীল পদ্ধতিতে মুখস্থবিদ্যা তো পরীক্ষার খাতাই একদমই কাজ করেনা ভালো ফল করতে। সুতরাং বই এর সংজ্ঞা মুখস্থ করা বন্ধ করে মূল টপিকটা বুঝতে চেষ্টা করো। কেননা, মুখস্থ দশবার করলে দশবারই ভুলার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু একবার ভালভাবে বুঝে নিতে পারলে কোনদিনও ভুলার চান্স নেই!
৩।পড়ায় একান্ত মনোনিবেশ করঃ
দেখা যায় যে আমরা অনেকেই আছি যারা বই সামনে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকি কিন্তু ভেবে দেখো তো, এর মধ্যে কতটুকু সময় আমাদের মনোযোগের সাথে পড়া হয়? খেয়াল করলে দেখা যায় যে , প্রতিদিন আমরা অখন্ড মনোযোগের সাথে বই পড়ি যা আমাদের কাজে আসে না শুধু সময় টাকেই নষ্ট করে। পড়তে বসলেই যেন সব চিন্তা মাথায় এসে ভর করে, মনে হয় “জাস্ট ২ মিনিটের জন্য ফেসবুকে যাব ! আর চলে এসেই বই পড়ব অথবা ” “ টিভিটা অন করেই খেলার আপডেট টা দেখেই টিভি বন্ধ করে দিবো!" এমন ইচ্ছা গুল আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কমবেশি হয়। এই ইচ্ছাগুলো এখনই ঝেড়ে ফেলে দাও মাথা থেকে।
একই সাথে অনেক গুলো কাজ করতে গেলে কোন কাজই ভালভাবে করা যায়না। যখন পড়তে বসবে, তখন সম্পুর্ণ মনোযোগ থাকবে বইয়ের পাতায়। মনোযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন যা কিছু আছে, সবকিছু দূরে সরিয়ে রাখ পড়ার সময়টাতে। অল্প সময় পড়লেও ১০০% মনোযোগের সাথে পড়লে সেই পড়াটা বেশি কার্যকর হবে।আর ফেসবুকিং, খেলার আপডেট দেখার জন্য তো পড়ার মাঝে ব্রেক আছেই ১ নাম্বার পর্বে।
৪।বড় বড় লক্ষ্য নয় ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি কর:
আমরা সবাই যখন কোন ক্লাসে বা কোন ইয়ারে উঠি তখন বছরের শুরুতেই লক্ষ্য ঠিক করি, “এইবছর ফাটায়ে পড়াশোনা করবো! এই ইয়ারে ভাল রেজাল্ট করব” এবং বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সেই “লক্ষ্য” লক্ষ্য হয়েই থেকে যায়, সেটা আর বাস্তবে রুপান্তর হয়না।কারন আজ না কাল থেকে পড়া শুরু করব এমন গড়িমসি করতে থাকি এবং একটা পর্যায়ে যেয়ে পড়ার আগ্রহটাই হারিয়ে যায়।তাই প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করো। যেমন ধরো আজ এই চ্যাপ্টার টা শেষ করব অথবা আজ এই ম্যাথ গুল শেষ করব এরকম একদিনের প্ল্যান ঠিক করো। এবং সেটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পড়া চালিয়ে যাও। প্রতিদিন এরকম ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করতে করতে দেখবে যে বছর শেষে অনেক ভাল প্রিপারেশন হয়েছে।