"ছেলেরা বুদ্ধি ও জিজ্ঞাসা লইয়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিল অার বাহির হইলো পঙ্গু মন এবং জ্ঞানের প্রতি বিতৃষ্ণা লইয়া।"
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা সংস্কার প্রবন্ধের উক্তিটি অাজও প্রাসঙ্গিক ।
বিদ্যালয় হতে পঙ্গু মন অার বিতৃষ্ণা নিয়েই হয়তো অনেকেই বৃহত্তর জীবনে প্রবেশ করলেও জীবিকার জন্য যারা শিক্ষকতার মতো পবিত্রতম পেশাকে বেছে নেন তারা সমাজ ও মানুষের কাছে নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধার পাত্র।তবে হ্যাঁ, শিক্ষক হতে হলে শিক্ষার প্রতি ভালবাসা,অনুরাগ ও শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।তবু কেউ কেউ জীবন সংগ্রামে নিজ নিজ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন।তবে শিক্ষকতাকে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি।
অন্যদিকে,
অনেকেরই ধারণা স্কুল কলেজ থেকে যা শিখে অাসছি তা দিয়েই অামাদের জীবন চলে যাবে।যা শিখে এসেছি তা নির্ভুল।অাবার অনেকে ছাত্রছাত্রীদের ব্যর্থতার জন্য কতিপয় অভিভাবক সরাসরি শিক্ষকদের দায়ী করেন।এ ধারণাটা ভুল।
অামাদের মনে রাখা দরকার সব ছাত্রছাত্রী শ্রেণিশিক্ষক বা গৃহশিক্ষক থেকে সবকিছু সমানভাবে গ্রহণ করতে পারেনা।কারণ intelligent quotient সবার সমান নয়।
প্রবাদ অাছে,"Home is the seminary of other institutes" এরপর অাসবে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।গরিব পরিবারের কিছু ছেলেমেয়ে প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে থেকে গৃহ শিক্ষক ছাড়াই ভাল ফলাফল করছে।
অাসলে ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা তখনই সম্ভব যখন শিক্ষক অভিভাবক সচেতন থাকেন।উভয়ই সচেতন থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মনে পড়াশোনার প্রতি অাগ্রহ জাগবে এবং অাগ্রহ থেকে মনোযোগ ও একাগ্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
তাছাড়া একজন শিক্ষক হিসেবে অামাদেরও দরকার নিজেদের অাত্নপরীক্ষা বা অাত্নসমালোচনা করা।নিজেদের দুর্বলতা ঢেকে নয় বরং তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করা।
নিজেদের সময়,শক্তি এবং ভালবাসার বিনিময়ে অামাদের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষিত করে তুলতে পারি।এটাই যেন হয় সকল শিক্ষকদের লক্ষ্য।
৫ই অক্টোবর,বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
শিক্ষকের অাদর্শে গড়ে উঠুক শিক্ষার্থীদের সামনের পথচলা।
ভাল থাকুক সকল শিক্ষকরা।
অাগত,অনাগত সত্যিকারের শিক্ষক সমাজের সকলের প্রতি রইলো অান্তরিক ভালবাসা অার সশ্রদ্ধ সালাম।