কেমন হয় যদি ঘুমের মাঝে মৃত্যু হয় আমার?
কোন শীতের রাতে, যখন কুয়াশার চাদর আদরে জড়ায় চারপাশ,
আর প্রতিটি ঘাসের বুকে জমে এক বিন্দু অভিমানের শিশির?
হয়ত চাদর জড়িয়ে গভীর রাতে মোমের উষ্ণ হলুদ আলোয় শরৎচন্দ্রের পাতা উল্টাচ্ছি আমি,
অরক্ষণীয়ার কষ্টে দুচোখ যাচ্ছে ভিজে, আর অজান্তেই ভেজা পাতা দুটো চুমু খাবে একে অপরকে!
কিংবা কে জানে, হয়ত সে রাত হবে গ্রীষ্মের।
গভীর রাত, ঘুম আসছেনা আমার, খোলা বারান্দায় হেটেই চলেছি অস্থিরতায়।
একসময় উঠোন পেরিয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসলাম, দু’পা ডোবালাম জলের শীতলতায় ।
মনে মনে ভাবছি বুদ্ধদেব গুহ’র কথা,
আর প্রকৃতির ঘোর লাগানো মাতালতায় বিবশ হয়ে যাচ্ছি আমি।
তারপর যখন চাঁদ ডুবে যাবে যাবে, উঠোন পেরিয়ে ফিরে আসব আমি, তৃপ্তময়তায় বুঝব দুচোখ।
অথবা এমন কোন বাসন্তি রাত, যে রাতে ফাল্গুনী চাঁদ জ্যোৎস্নায় ভাসায় চরাচর ।
সে রাতে কেয়া তার সুবাশে পূর্ণ করবে পৃথিবীর নির্লজ্জ রাতের সাজ।
দখিনা হাওয়া লুটোপুটি খাবে আমার খোলা চুলে।
আমি শিহরিত হব! জানতেও পারবনা কখন হারিয়ে গেছি ঘুমের দেশে!
আচ্ছা, এমনকি হতে পারেনা সে রাত হবে শ্রাবণের?
আমি বসে আছি জানালায় দু হাত রেখে। চুপচাপ।
শ্রাবণের কান্না ভিজিয়ে দিচ্ছে আমায় , আমার মন নেই সেদিকে।
আমি খুজে ফিরছি আমার আমিত্বকে,এই রিনিঝিনি নিরবতার অবসরে?
কেমন হয় যদি ঘুমের মাঝে মৃত্যু হয় আমার?
জীবনের রঙ আমি দেখেছি প্রতি মুহূর্তে ।
তিব্রতার সে রঙ আমি ছুয়েছি প্রতি নিঃশ্বাসে ।
তাই অভিযোগ নেই কোন
যদি মৃত্যুর সাদাকালো রঙ আজ আমার ঘুমের মাঝে স্বপ্নের মাঝে আসে?