কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন,
কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন
না।
তিনি দেখিলেন , মেয়েটির বিবাহের
বয়স পার হইয়া গেছে , কিন্তু আর
কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র
কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার
হইয়া যাইবে । মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে
বাড়িয়া গেছে বটে , কিন্তু পণের টাকার
আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে
কিঞ্চিৎ উপরে আছে , সেইজন্যই
তাড়া।
আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহসম্বন্ধে
আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক
ছিল। আমার কাজ আমি করিয়াছি ,
এফ.এ. পাস করিয়া বৃত্তি পাইয়াছি।
তাই প্রজাপতির দুই পক্ষ , কন্যাপক্ষ
ও বরপক্ষ, ঘন ঘন বিচলিত হইয়া
উঠিল।
আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ
করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে
আর কোনো উদ্বেগ থাকে না।
নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের
সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়, স্ত্রীর
সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া
উঠে । অবস্থা যেমনি ও বয়স যতই
হউক, স্ত্রীর অভাব ঘটিবামাত্র তাহা
পূরণ করিয়া লইতে তাহার কোনো দ্বিধা
থাকে না। যত দ্বিধা ও দুশ্চিন্তা সে
দেখি আমাদের নবীন ছাত্রদের ।
বিবাহের পৌনঃপুনিক প্রস্তাবে তাহাদের
পিতৃপক্ষের পাকা চুল কলপের
আশীর্বাদে পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে ,
আর প্রথম ঘটকালির আঁচেই ইহাদের
কাঁচা চুল ভাবনায় একরাত্রে পাকিবার
উপক্রম হয়।
চলবে ........