হ্যালো বন্ধুরা ,
সবাই কেমন আছেন ?
আশাকরি সবাই অনেক ভালো আছে।
আমি আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আমার হাইভ জার্নি কি ভাবে হয়েছে এটা বলার সুযোক পেয়েছি , এটা সত্যি আমার জন্য অনেক আনন্দের একটা বিষয় , আমার হাইভ জার্নি টা কষ্টের বলবো নাকি অলসতার বলবো আমি ঠিক জানি না , তবে আমি আমার ভিতরের ভাষা গুলো হাইভ বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রকাশ করতে পারবো এতে আমি অনেক আনন্দিত।
আমি আরো বেশি আনন্দের সাথে বলছি যে আমি আমার ভাষা গুলো বাংলায় প্রকাশ করতে পারব , আমাদের হাইভ বাংলাদেশ কমিউনিটি আমাদেরকে এই সুযোক করে দিয়েছে , তাই আজ আমি আমার সম্পূর্ণ কথা বাংলায় লিখলাম , আমি চাইনা ইংলিশ লিখে কিছু ভুল হোক আর সেই ভুলের জন্য আমার পোস্ট খারাপ হোক।
আমি প্রথমেই আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি , আমার লিখার মধ্যে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আমার পক্ষ থেকে আমাদের কমিউনিটির সবাইকে আসসালামু আলাইকুম , প্রথমে সংক্ষিপ্ত আমার পরিচয় দেই ,তাহলে আপনাদের বুঝতে সহজ হবে , আমার নাম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম , আমি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন চাকরি করি , আমার মনে হয় এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা প্লাসপয়েন্ট , কারণ এই বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন চাকরি করে আমাদের কমিউনিটি লিডার হাফিজুল্লাহ ভাই , আমার হাইভ প্লাটফর্ম এ আসার পিছনে মূল কারণ হলো হাফিজুল্লাহ ভাই , আমি আমার মন থেকে উনার প্ৰতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
মূল কথাই আসি ,
তখন হাইভ ডট ব্লগ ছিলো না , তখন ছিল steemit ডট কম , তখন আমরা এটাও জানতাম না , তখন আমাদের পছন্দের কাজ ছিল হিন্দি মুভি দেখা , অফিসে কাজ না থাকলে হাফিজুল্লাহ ভাই এবং আমি একসাথে বসে হিন্দি মুভি দেখতাম।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আমাদের ইন্টার্নেশনাল টুর্নামেন্ট হয় , এই টুর্নামেন্ট প্রতিবছর একবার ডিসেম্বর মাসে হয় , এই বছর করোনা পরিস্থির জন্য হয়নাই , যাইহোক , সেই ২০১৭ সালের টুর্নামেন্ট ঢাকা ইউনিভার্সিটি শূন্য ভাই নামে একজন লিয়াজু অফিসার হিসেবে দায়িক্ত গ্রহণ করেন , উনি এই steemit সম্পর্কে জানতেন এবং সবাইকে এই steemit সম্পর্কে বুজানোর চেষ্টা করতেন। উনি এই বিষয়টা নিয়ে কথা বললেও আমি কোনো কিছু বুজতে পারিনি , এবং কোনো গুরুত্ব দেই নি।
তখন ২০১৮ সালের মার্চ মাস , হাফিজুল্লাহ ভাই একাউন্ট খুলে এবং কাজ শুরু করে , তারপর সে আমাকে steemit সম্পর্কে বুঝাই সে নিজে যতটুকু জানে ততটুকু এবং সে নিজে আমার একটি একাউন্ট খুলে দেই , তখন এই steemit একাউন্ট সাথে সাথে হতোনা , এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ পর জিমেইল এ একটি অনেক বড় পাসওয়ার্ড আসতো এবং লিংক আসতো , আমার একাউন্ট প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওপেন করতে পারি এবং হাফিজুল্লাহ ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে কাজ করতে থাকি , তখন অনেক গুলো সাইট ব্যবহার করা হতো , তবে এখন হাইভ যতটা সহজ এতটা সহজ ছিলো না , এখন হাইভ যেভাবে সবাই সাপোর্ট পাচ্ছে তখন এভাবে কেউ সাপোর্ট পেতোনা ,
আমার কাছে আগে থেকে একটি ল্যাপটপ ছিল যেটি আমি মুভি অথবা বাংলা নাটক দেখার কাজে বেশি ব্যবহার করি , এখন আমার এই লেপটপ ভালো কোনো কাজে লাগাতে পারবো বলে মনে হলো।
এখন আমরা যে কোনো প্রব্লেম অথবা মিটিং এর জন্য ডিসকোর্ড সবাই চলে আসি ,কিন্তু তখন ডিসকোর্ড থাকলেও আমরা সবাই ঢাকা উনিভার্সিটি এরিয়াতে গিয়ে সবাই একসাথে বসতাম , আমাদের সাথে আরো অনেকেই সেখানে একসাথে হতো , সবাই নিউ steemit ব্যবহারকারী ছিল।
কিছুদিনের মধ্যে এই গ্রূপের কেউ আর ছিলো না , সবাই যার যার মতো করে নিজের কর্মজীবনে ব্যস্ত হয়ে যাই ,শুধু মাত্র আমাদের লিডার হাফিজুল্লাহ ভাই অনেক কষ্ট করে লেগে থাকে , আমি টানা তিন মাস এই স্টিমিট ব্যবহার করি , আমি প্রতিদিন একটি বা দুইটি করে পোস্ট দিতাম ,কয়েক চেন্ট আসতো , আমি কয়েক হাজার টাকা ইনভেস্ট করি এবং আমি চেষ্টা করি ভালো একটা পর্যায়ে যাওয়ার , কিন্তু দুঃখ জনক হলেও কথা টা বলতে হচ্ছে
আমার কিছু ভুলের জন্য আমার একাউন্ট বাতিল হয়ে যাই , এতে আমি অনেক কষ্ট পাই এবং স্টিমিট একাউন্ট ব্যবহার করা ছেড়ে দেয় , আমার জিবনের অনেক বড় একটি ভুল ছিল এটা।
আমাদের হাফিজুল্লাহ ভাই উনি সত্যি একজন সৎ মানুষ এবং একজন বুদ্ধিতোমি মানুষ , এতদিনের মধ্যে উনার একাউন্ট আমি কখনো কোনো প্রব্লেম হতে শুনি নি ,উনি উনার নিজের দক্ষতা দিয়ে কাজ করে এবং নিজের সততা দিয়ে কাজ করে এবং সবার সাহায্যে এগিয়ে আসে , আমি আমার প্রতিটা সম্যসা উনার সাথে শেয়ার করি এবং উনি আমার অনেক সমস্যা সমাধান করেছে .
চলে যাই মাজখানে ২ বছর ,
আমি তখনো হাইভ সম্পর্কে কিছুই জানি না , কারণ আমার steemit একাউন্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকে কোনো কিছু জানার চেষ্টাও করিনাই , আমাদের এখন আর আগের মতো মুভি দেখাও হয়না , হাফিজভাই প্রতিদিনের মতো অফিসে আসে কাজ করে এবং হাইভ নিয়ে ব্যস্ত থাকে , কিন্তু আমি কখনো এই বেপারে জিজ্ঞাসা করিনি কারণ আমি তখন রিলেশনশিপে ছিলাম , আর এটা যে কতটা পেইনফুল কাজ যারা সম্পর্ক করেছে তারা জানবে , সম্পর্কে জড়িয়ে থাকলে অন্য কোনো দিকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয় না।
রিলেশনে থাকা অবস্থায় আমি অন্য কোনো কিছুতেই মনোযোগী হইতে পারিনি , একবছর একমাস রিলেশন করার পর দুই পরিবারের সম্মতি নিয়ে আমাদের বিয়ে হয় , করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অফিস আবার চালু হয়ে যাই এবং আমি ঢাকায় চলে আসি এবং আবার আগের মতো কর্ম জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই।
আমার বউ পড়াশুনা করার পাশাপাশি আগে কিছু ছোট বাচ্চা পারতো , যার কারণে তার অবসর সময় গুলো কেটে যেত , আমার পরিবারে আমার মা আমার বাবা আমি এই তিন জনের পরিবার , আমি ঢাকা থাকি আব্বুও ঢাকাই চাকরি করে , বাড়িতে মা আর আমার বউ ছোট্ট সংসারে কাজ অনেক তাড়াতড়ি শেষ হয়ে যাই , ঘরের কাজ শেষ করে বউ একাকিত্ব অনুভব করে ,এবং আমাকে বলে তাকে কোনো একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে যেমন আমাদের বাড়ির ছোট্ট বাচ্চাদের পোড়াবে অথবা কোনো প্রাইমারি স্কুল চাকরি করবে , আমি কোনো কিছু চিন্তা করে পাচ্ছিলামনা কি করবো , তখন আমি এই সমস্যার কথা আমাদের হাফিজুল্লাহ ভাইয়ের কাছে শেয়ার করি , তখন সে আমাকে এই হাইভ প্লাটফর্ম সম্পর্কে বলে , এবং সবকিছু বুঝিয়ে দেয় , এবং বলে এখানে ভালো সময় দিলে ভালো কাজ করলে এখান থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারবে।
তখন কাজটি ভালো করে বুঝার জন্য আমি নিজে একটি একাউন্ট খুলি,হাফিজুল্লাহ ভাই নিজেই আমার একাউন্ট খুলে দেন , সেখানে আমি কিছুদিন কাজ করি , এবং প্রতিদিন হাফিজুল্লাহ ভাই আমাকে শিখতে থাকেন , এবং আমাকে সবসময় সাপোর্ট দেন যাতে আমার কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাই , হাফিজুল্লাহ ভাই সত্যি আজকে আমি আপনার এমন সাপোর্ট না পেলে হয়তো কাজ করার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করতে পারতামনা , আপনাকে আমি কি বলে ধন্যবাদ দিবো এটা আমার জানা নেয়।
মাসখানেক পর আমি আমার বউ এর একাউন্ট খুলে দেই , এবং তাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেই , সেও ভালোভাবে কাজ করা শুরু করে।
তবে একটা দুঃখের বিষয় না বলে থাকে পারছি না হাইভ একাউন্ট খুলার পর থেকে এখন আর ভালবাসাময় কোনো কথা হয় না , আমাদের মধ্যে কোনো রিলেশন আছে বলে মনে হয়না , এখন মনে হয় আমাদের মধ্যে হাইভ এর সম্পর্ক , আমি প্রায় ওর সাথে এই বিষয় নিয়ে ঝগড়া করি , তবে আমি জানি কিছু করার নেই এটাই হওয়ার ছিল।
এখন আমি একটা কথা বলতে চাই সেটা হলো আমার অলসতা , অলসতা মানুষের জীবনকে অনেক নিচে নামিয়ে দেই , এবং মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে , আমি যদি অলসতা না করতাম তাহলে হয়তো আমিও আজকে ভালো জায়গায় থাকতে পারতাম , আমার জীবনে আমার অলসতায় আমাকে শেষ করেছে , আমার জীবনে অলসতা আমাকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে , আমি আমার অলসতার কারণে আমার জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি , আমি অনেক জায়গায় অনেক কাজ শুরু করেও সেই কাজ আর কন্টিনিউ করিনি , আমি এখনো পর্যন্ত হাইভ প্লাটফর্ম কন্টিনিউ পোস্ট দিতে পারছি না , শুধু আমার অলসতার কারনে।
এখনথেকে আমি অবশ্যই আমার অলসতা দূর করে আমি সবসময় চেষ্টা করবো ভালো কাজ করার এবং আপনাদের সাথে সবসময় সংযুক্ত থাকার।
আমি আমার হাইভ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অনেক কিছু বলতে হয়েছে , নিজের সম্পর্কে পরিবারের সম্পর্কে আপনাদের কাছে , আমার কথা গুলো বুঝানোর স্বার্থে এত কিছু বলতে হয়েছে , আমার লিখায় কোনো কিছু ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
আমি জানিনা আপনাদেরকে আমি আমার হাইভ জার্নি সম্পর্কে কতটুকু বুঝাতে পেরেছি , আমি আশাকরবো আপনারা সবাই আমার পোস্ট মনোগক সহকারে পড়েছেন এবং আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন , সবার জন্য শুভকামনা রইলো ,
ধন্যবাদ সবাইকে।
I hope all of you will support me and encourage me to work , I will always try my best to give a good blog.
Thank you all for visiting my page and giving your nice support.
Check my others social sides profile-
Facebook - https://www.facebook.com/profile.php?id=100007607950342
Instagram- https://www.instagram.com/aminul6032/?hl=en