"চাঁদপুর" যাকে বলা হয় ইলিশের শহর।
ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে প্রায় মাত্র ৩-৪ ঘন্টা।
আর তাই অনেকেই একদিনের ট্যুরে ছূটে যায় চাঁদপুর
কেউ কেউ যায় পদ্মার তাজা ইলিশ কেনার জন্য আবার কেউ যায় ত্রি-মোহনায় বসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়ার জন্য।
অনেকেই আবার পিকনিকের আয়োজন করে।
গত ১২ তারিখ এমনি একটা নৌভ্রমনে গিয়েছিলাম । মিটফোর্ড এলাকাবাসি কর্তৃক আয়োজিত নৌ ভ্রমনটা ছিল অসাধারন।
তিন তালা বিশিষ্ট একটা বড় লঞ্চ ভারা করা হয় ভ্রমনের জন্য।
১২ তারিখ সকাল বেলা আমি এবং আমার ফ্রেন্ডরা সবাই মিলে সদরঘাট পৌছে নির্ধারিত লঞ্চে উঠে পড়ি।
ভ্রমনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনকৃত সবাই উঠার পর লঞ্চ ছাড়া হয়৷ প্রায় ৬০০-৭০০ জন ভ্রমন পিপাসু মানুষ রেজিষ্ট্রেশন করে ভ্রমনটিতে৷
নানারকম আয়োজনে ভরপুর ছিল পুরো লঞ্চ। সকালের নাস্তা হিসেবে সবাইকে এক প্যাকেট করে খিচুড়ি দেওয়া হয় তারপর ব্রান্ডশিল্পিদের গানের তালে তালে বুড়িগংগা নদীর উপর দিয়ে চলতে থাকে লঞ্চ। সবাই যার যার মত লঞ্চে সময় কাটাচ্ছে। অনেকেই ফটোশেসনে ব্যাস্ত৷ অনেকই আড্ডা গল্পে আর অনেকেই নদীর আশে পাশের প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে এক সময় লঞ্চ পৌছে যায় মোহনপুর পিকনিক স্পটে। তখন সময় প্রায় ১টা। লঞ্চ থেকে নেমে সবাই জুমুআর নামাজ আদায় করে নেয়।
নামাজের পর যার যার খাবারের টোকেন দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে নেয় এবং দুপুরের খাবার পরিবেশন করে।
দুপুরের খাবারে ছিল মোরগ পোলাও আর একটা করে পানির বোতল আর একটা কোক।
তারপর মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রে সবাই যার যার মত ঘুরে বিকেল ৫টার সময় লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বিকেলের নাস্তা হিসেবে সবাইকে এক প্ল্যাট করে ফুছকা দেওয়া হয়। আর সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় ডিজে পার্টি। ডিজের তালে তালে সবাই নেচে নেচে যখন হয়রান। তারপর রাফেলঅ ড্র-য়ের ঘোষনা করা হয়।
অনেক মজা মাস্তির পর অবশেষে রাত ৯ টায় লঞ্চ সদরঘাট এসে পৌছায়। এবং সবাই একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যার যার মত বাসায় চলে যায়।
অনেক সুন্দর একটি ভ্রমন ছিল। আমরা অনেক আনন্দ করেছি। এবং উপভোগ করেছি।