Love At First Sight (প্রথম দেখায় প্রেম)। পৃথিবীর সূচনালগ্ন হইতে এখন অবধি যদি প্রেমের ইতিহাস নিয়ে গবেষনায় শুরু করে দেওয়া যায়, তাহলে একটি বিষয় খুবই আলোচিত হইবে। মানবজাতির প্রেমে পড়ার ধরন। বাংলা সিনেমার মতো চোখের ভাষায় অথবা রাস্তার পথ চলতে আকষ্মিক ধাক্কা খেয়ে প্রেম হয়েছে এমন মানব সন্তানের সংখ্যা অতি নগন্য হলেও প্রথম দেখায় প্রিয়তমার প্রেমে পড়ার উদাহরন রর্তমানে আবিকৃত সর্বাধিক তথ্য ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন কোয়ান্টাম কম্পিউটার এর ধারনক্ষমতাকেও চ্যালেজ্ঞ গ্রহন করতে হবে।
আমি মোটেও বাজে বকসি্ না,বিশ্বাস করতে যদি খুবই কষ্ট হয়ে থাকে তাহলে নিজের প্রেমে পড়ার স্মৃতিটা একবার স্মৃতিচারন করেই দেখুন। কোন সুন্দরী ললনা যদি প্রথম দর্শনের হৃদয়ের মনিকোঠায় সিডর অতবা হ্যারিকেনের মতো ঝড়ের সঞ্চার করিতে না পারে, তাহলে সেই ললনার প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া আপনার পক্ষে বড়ই কঠিনতম। আর আপনি যদি কিছুটা আনরোমান্টিক টাইপের হয়ে থাকেন তাহলে, প্রথম দর্শনের প্রেমে না পড়লেও ভালোলাগা বিষয়টা অন্তত্য কাজ করবে।
রোমান্স ছেড়ে এখন একটু কাজের কথায় আসা যাক, মনুষ্য সন্তানের কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা কি জানেন? আমি কোথা থেকে এসেছি, কোথায় যাব এবং আসা যাওয়ার এই মধ্যবর্তী সময়ে আমার করনীয় কি? যারা ইসলাম ধর্ম অবলম্বী তারা খুবই ভাগ্যবান, কারন তারা আল্লাহ্ প্রদত্ত ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই পেয়ে যান। আমার জীবনের এই কঠিন প্রশ্নটাকে আমরা আমাদের দৈনন্দিন সকল কিছুর সাথেই সম্পকৃ স্থাপন করতে পারি। যেমনটা এই লেখাটার উদ্দ্যেশের সাথে যদি আমি এই প্রশ্নটার সম্পর্ক স্থাপন করতে যাই তাহলে যেমনটা দাড়াবেঃ
আমি কিভাবে #HIVE সম্পর্কে জেনেছি এবং #HIVE পরিবারের একজন সদস্য হয়েছি, আমার #HIVE এ পথ চলা ঠিক কবে শেষ হবে এবং আমার #HIVE এ করনীয় কি?
আমার ইতিহাসটা খুবই সাদামাটা, কিছুটা আপনাদের মতোই। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন তার উপর প্রকৃতি এবং বাস্তবতার দেওয়া এক পদবী “বাপের বড় ছেলে”। ছোট খাট চাকুরী করতাম, চাকুরীরদ্বারা উপার্জন “নুন আনতে পান্তা ফুরাই যায়” টাইপের কিছুটা। স্কুল জীবন থেকেই লেখা লেখির অভ্যাস ছিল, তাই ব্লগিং টাইপের ওয়েবসাইট খুজতেছিলাম যেখানে দিনের রনক্ষেত্র হতে ফিরে নিজেকে একটু সময় দিতে পারি, ভালো লাগার জন্য। অনলাইনের সবচেয়ে বড় পন্ডিত মহাশয় যাকে আমরা গুগল বলে ডাকি, তার আর্শিবাদেই আমি প্রথম #STEEMIT এর সাথে পরিচিত হই।
Blockchain এ যেন জ্ঞানের বিশাল সমূদ্র, হাবুডুবু খেতে শুরু করলাম, এসেছিলাম নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে, #STEEMIT প্রতিভার নীলাখেলা দেখে আমি নিজেই হতবিম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না, ”মেঘ না চাইতে জল” STEEMIT আমার কাছে সেই মহূর্তে ঠিক তেমটাই ছিল। কারন আমি আমার প্রতিভার সূষ্ঠ বিকাশ করতে পারি আর নাই বা পারি, আমি এই প্লাটফর্ম থেকে দুই চার পয়সা ইনকাম ঠিকই করতে পারব এমনা বিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল আমার মাঝে।
মাস চারেক STEEMIT এ নিজেকে একমাত্র বাঙ্গালী ভেবে, বাংলার ইতিহাসকে ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপনের সর্বাত্তক চেষ্টা করতে লাগলাম। তারপর, বুঝতে পারলাম STEEMIT এ আমি একা বাঙ্গালী নই #HiveBangladesh Community, #bdcommunity এবং #Steemitbd Community এর গর্বিত সদস্যবৃন্দ আমার দেশ বাংলাদেশের অধিবাসি। তাদের হাত ধরেই দীর্ঘ দুইটি বছর STEEMIT এ পথ চলা।
২০২০ সালের প্রথম দিকে STEEMIT এ ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে আমরা আজকে #HIVE কে পেয়েছি। শুধু HIVE কেই নয়, আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতাকে।
STEEMIT কে প্রথম দেখায় ভালোবেসেছিলাম STEEMIT প্রেমিকার হাতে হাত রেখে দুইটি বছর কাটিয়ে দিয়েছি, গতবছরের ব্রেক-আপ করেছি, #HIVE নামের ললনা মন কেড়ে নিয়েছে, আজ অবধি তার সাথেই চুটিয়ে প্রেম করছি।