বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ।
Cover photo
আজকে মুসলমানদের জন্য একটা খুশির দিন। মুসলমানদের বছরে দুইটা ঈদ পালন করে থাকে। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। আজকের দিনটা হলো ঈদুল আযহার দিন। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। দিনের শুরুটা হয়েছিল ফজরের সালাত দিয়ে। ভোর ৪ টার সময় এলামের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। উঠে ওয়াশরুম থেকে এসে ওজু করে সালাত আদায় করতে মসজিদে চলে গেলাম। সালাত শেষ করে ফজরের সিদ্ধ বাতাসে কিছুটা সময় হাটাহাটি করলাম। এরপর বাড়ীর দিকে চলে আসলাম। বেশ ক্লান্ত লাগতেছিল, এজন্য একটু ঘুমানোর জন্য বিছানায় চলে গেলাম। আমাদের এলাকাতে ঈদের সালাত সকাল ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সকাল ৭ টা পর্যন্ত একটু ঘুমালাম। এরপর ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নিলাম।
ফজরের সালাতের পর তোলা।
গোসল শেষ করে ঈদের সালাত আদায় করতে যাওয়ার জন্য পাঞ্জাবি পরে রেডি হয়ে গেলাম। এরপর জায়নামাজ নিয়ে বেরিয়ে পরলাম ঈদগাহে যাওয়ার জন্য৷ আমাদের বাড়ী থেকে ১০ মিনিট হাটলেই আমাদের এলাকার ঈদগাহ পাওয়া যায়। আমি হেটে হেটেই আমার মেয়েকে সাথে নিয়ে ঈদগাহে চলে গেলাম।
ঈদগাহে যাওয়ার সময়।
ঈদগাহে গিয়ে জায়নামজ পেরে নিয়ে বসে পরি। একে একে সবাই আসতে থাকে। ঠিক ৮ টার সময় নামাজ শুরু হয়। নামাজ শেষ করে খুতবা পাঠ শুরু হয়। সকল মুসল্লী মনেযোগ সহকারে খুতবা পাঠ শুনতে থাকে। পুরো গ্রামের সবাই এক সাথে ঈদের সালাত আদায় করাটা অনেক আনন্দের। যা বছরের দুইটা সময় আসে।
ঈদগাহে কাটানো কিছু মুহূর্ত
নামাজ শেষ করে সবার সসথে মোসাফা এবং কোকাকুলি করে আবারও বাড়ীর দিকে রওনা হলাম। গতকাল টাত থেকে একটু গলা ব্যাথা আর ঠান্ডা অনুভব হচ্ছিল৷ নামাজ শেষ করার কর পর একটু শরীর খারাপ লাগতেছিল। এজন্য তারাতারি বাড়ী চলে গেলাম। আর খুদাও লাগছিল। বাড়ী গিয়ে পোশাকটা পাল্টে নিলাম। তারপর মায়ের রান্না শেষ হলে খাওয়া দাওয়া করলাম। সকালে মা খিচুড়ি রান্না করেছিল সাথে ছিল ডিম ভাজি আর ভর্তা যা আমার অনেক পছন্দের খাবার৷
সকালের খাবার।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমার শরীরটা খারাপ লাগছিল ভাবলাম একটু ঘুমায়। যদিও বেশির ভাগ ঈদের দিন আমার ঘুমাতে ঘুমাতেই কেটে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখি দুপুর ২:৩০ বেজে গেছে। আসলে ঠান্ডা লাগার কারণে ঘুমটা বেশি সময় ধরে হয়ে গিয়েছিল। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর রেডি হলাম আমার ছোট খালাদের বাড়ী যাওয়ার জন্য। আমি প্রতি ঈদেই সকালে নামাজ শেষে অথবা বিকালে আমার খালাদের বাড়ী যায়। বাইরে গিয়ে যাওয়ার সময় দেখি ব্রীজ এবং বাজারে তেমন কোন লোকজন নাই। এতো শান্ত লোকহীন বাজার কখনও পাওয়া যায় না।
কোলাহলবিহিন বাজার।
খালাদের বাড়ী কিছুটা সময় থাকার পর, আমি আবার বাড়ীর দিকে চলে আসলাম। আসার সময় ব্রীজের উপর থেকে দেখা হলো আমার কলেজ জীবনের বন্ধুদের সাথে অনেক সময় ব্রীজে দাড়িয়ে তাদের সাথে আড্ডা দিলাম। বছরের এই ঈদের সময়ই শুধু সবার সাথে দেখা হয়। বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই দিনগুলো অনেক মিস করি।
ব্রীজে বন্ধুদের সাথে কাটানো কিছু মুহূর্ত।
আমি মাগরিবের বেশ কিছুটা সময় আগে বাড়ী চলে গেলাম। এরপর পোশাক পাল্টে মাগরিবের সালাত আদায় করতে মসজিদে চলে গেলাম। নামাজ শেষ করে এসে রেডি হলাম আবারও ঘুরতে যাওয়ার জন্য। মূলত সন্ধার পর কয়েকজন বন্ধুর আসার কথা আছে, তাদের সাথে কিছুটা সময় ঘুটরাঘুরি করব। এরপর চলে গেলাম বন্ধুদের সাথে ঘুরতে। মূলত ব্রীজের নিচে একটা রেস্টুরেন্ট হয়েছে সেখানেই আমাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য। আমরা ছিলাম পাঁচ জন, আমি, ইমন, ইকরা, আরিফুল এবং ওয়ালিদ। আমি গিয়ে হালিম এবং তার সাথে নান রুটি অডার দিলাম। অডার আসার আগ পর্যন্ত আমরা বসে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম।
রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্ত
রাত ১০ টা পর্যন্ত বাইরেই ছিলাম। এরপর বাড়ীর দিকে চলে আসলাম। মোটামুটি অসুস্থ শরীর নিয়েও বেশ ভালোই ঈদের দিনটা ঘুরাঘুরি করে কাটালাম। আজকে আমার দিনলিপিটা এখানেই শেষ। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।