বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ।
Cover image
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আপনাদের আজকের দিনটা ভালো কাটুক, আনন্দে কাটুক এই প্রার্থনা করি। আবারও চলে আসলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে। আজকে আমি আমার একটা দিনের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করব৷ চলুন শুরু করি-
কথায় বলে অসুস্থ হলে বোঝা যায় সুস্থতা সৃষ্টিকর্তার কত বড় নেয়ামত। আপনারা হয়ত অনেকে জানেন আমার মাইগ্রেন এর সমস্যা আছে। গত ৬ তারিখে ডাক্তার দেখায়ছিলাম। তারপর থেকে টানা ১৫ দিন ঔষুধ খাওয়ার পরও সমস্যাটা কমে নাই। মাঝে দুই এক দিন একটু কমলেও সারা দিনই প্রায় চিন চিন করে মাথা ব্যাথ্যা করতো। যদিও ডাক্তার বলেছি সাত দিন ঔষুধ খেয়ে না কমলে সিটি স্ক্যান করে দেখাতে। আমি নিজেই ১৫ দিন ঔষুধ খেয়েছি তাও কোনো কাজ হলো না৷ মাথার সমস্যায় কোনো পড়াশুনাও করতে পারতেছি না, কোনো কাজ পোষ্ট কিছুই ভালো মতো করতে পারতেছিলাম না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এতো সমস্যা নিয়ে যেহেতু পড়াশুনা করতে পারতেছি না, তাহলে মেসে থেকে টাকা নষ্ট করে কি করব। বাড়ি চলে যায়। এজন্য গত ২১ তারিখ রাতে টিকিটও কেটেছিলাম। কিনকতু আমার কোচিং এর সব ভাইয়েরা আমাকেও বোঝাল, দেখো সমস্যা থাকবেই তুমি বাড়ী গিয়ে কি করবা এখন। বরং, তুমি ডাক্তার আবারও দেখাও। পরে রাতে টিকিট ক্যানচেল করলাম। এবং রাতেই ডাক্তারের সিরিয়াল দিলাম ঢাকাতেই ডাক্তার দেখানোর জন্য।
আমি যে ডাক্তার দেখায় তিনি ঢাকার উত্তর বাড্ডার প্রগতি স্মরণীতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। সেখানেই যেতে হবে ডাক্তার দেখানোর জন্য। আমি ২২ তারিখে ডাক্তার দেখানোর জন্য সিরিয়াল দেয়। ভাবলাম গাজিপুর থেকে সিটি স্ক্যানটা করে নিয়ে বিকেলে ডাক্তার দেখাতে যাব৷ পরে গাজিপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটি স্ক্যান করতে কত খরচ হবে জিগাতেই তারা জানালো ৪ হাজার টাকা। তখন আমার কাছে অত টাকা ছিল না। আমি সেখান থেকে আমার রুমে চলে আসলাম। এদিকে মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করতেছিল কিছুই ভালো লাগতেছিল না। পরে এক বন্ধুকে কল দিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ধার নিলাম। আর আমার কাছে ছিল ১৫০০ মতো। এটা নিয়েই উত্তর বাড্ডায় ডাক্তার দেখানোর জন্য বের হলাম। আমি যেহেতু অসুস্থ ছিলাম এজন্য আমার এক বন্ধুকে আমার সাথে নিলাম নাম শরিফুল।
আমরা সকাল ১১ টার দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে চলে গেলাম। সেখান থেকে একটা ট্রেনে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে নামলাম দুপুর ২ টার দিকে। সেখান থেকে এবার একটা বাসে করে উত্তর বার্ডার দিকে রওনা হলাম৷ মাথা ব্যাথা করার কারণে কোনো ছবিও তুলতে পারি নাই। আমরা বিকাল ৩:৩০ টার দিকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সামনে গিয়ে পৌঁছালাম। বাস থেকে নামার আগেই বাইরে দমকা হাওয়া বইছিল। বাস থেকে নামার আগে বৃষ্টি শুরু হলো। কোনো রকম বাস থেকে নেমে একটা জায়গায় গিয়ে দাড়ালাম। সামনেই রাস্তা পার হলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শুধু বৃষ্টি, বৃষ্টির সাথে বপশ বড় সাইজের শীলাও পরতেছিল। বছরের প্রথম বৃষ্টি ছিল তাও আবার শীলা বৃষ্টি। বেশ কিছুটা সময় ধরে হলো।
রাস্তায় ছোট ছোট শীলা পরে আছে।
দূরে সবুজ কালার বিল্ডিংটা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এরপর আমরা একটু দৌড়ে হালকা বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা পার হয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রবেশ করলাম। ভিতরে ঢুকে আগে আমি ডাক্তার কত তলায় বসে সেটা জেনে নিলাম। কারণ এখানে আমি প্রথমবার এসেছিলাম।. এরপর আগে নামাজের স্থানে গিয়ে যোহরের নামাজটা আদায় করে নিলাম। তারপর আমরা ডাক্তার যেখানে বসে সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। তার আগে নামাজ শেষ করে নিচে নেমে ছিলাম দুপুরে কিছু খাওয়ার জন্য৷ আমার বাইরে গেলে কিছু খেতে মন চায় না, তবুও ছুলা ভুনা খেলাম আমি এবং আমার বন্ধু। এরপর ডাক্তার চেম্বারে এসে অপেক্ষা করতে লাগলাম৷
ডাক্তার চেম্বারে অপেক্ষা করার সময়।
প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর জানতে পারলাম ডাক্তার তৃতীয় তলাতে পরিক্ষা করতেছেন৷ সেখানে গিয়ে আমার সিটি স্ক্যান পরিক্ষার জন্য একটু ছাড় নিয়ে আসলাম। তারপর সিটি স্ক্যান করতে চলে গেলাম। পরিক্ষাটা করতে দিয়ে এসে আমরা আসরের নামাজ আদায় করে নিলাম। তারপর জানতে পারলাম আজকে ডাক্তার রোগি দেখা শুরু করবেন দেরিতে। আমি জানতাম বিকাল ৪:৩০ টায় শুরু করবে, কিন্তু সেখানে এসে জানতে পারলাম রাত ৮ টায় শুরু করব। আমার খুব রাগ হচ্ছিল এবং খারাপও লাগছিল। এতো সময় বসে থাকা যায়৷ কি আর করার বসে থাকতে হবে। সন্ধার পূর্বে বাইরে থেকে একটু হাটাহাটি করে আসলাম যাতে ভালো লাগে। তখনও বাইরে শীতল ভাব যেন আবারও বৃষ্টি নামবে। এরপর এসে মাগরিবের নামাজ আদায় করে নিলাম।
সন্ধার পূর্বে ঢাকা শহরের দৃশ্য।
নামাজ শেষ করে সেই এশা পর্যন্ত অলস সময় পার করলাম। এশার নামাজ শেষ করে এসে আমি আমার রিপোর্টটা ডেলিভারি কাউন্টার থেকে নিয়ে আসলাম। তারপর ডাক্তার চেম্বারে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
রিপোর্ট
এরপর ডাক্তার এসে রোগী দেখা শুরু করলেন। আমি রিপোর্ট দেখালাম রাত ৯:৩০ টার দিকে। আলহামদুলিল্লাহ রিপোর্টে কোনো কিছু ধরা পরে নাই। মানে রিপোর্টটা ভালো আছে। এরপর অনেক রাত হয়ে গিয়েছে রুমের দিকে চলে আসতে হবে। ডাক্তার শুধু একটা ঔষুধ পাল্টে দিল ও নতুন একটা এড করে দিল। আর বললো আগের ঔষুধগুলোই খেতে। আমি সেখান থেকে এক সপ্তাহের ঔষুধ কিনে নিয়ে বাসে উঠে পরলাম। এরপর বিমানবন্দরে এসে বাস থেকে নামলাম। ট্রেনে বাকি পথ আসার জন্য। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে থেকে আমরা দুইজন রাতের খাবার খেলাম। যদিও নাস্তা অনুরূপ। খুব খুূদা লাগছিল। তেল ছাড়া রুটি,, ডিম ভাজি, ও সবজি খেলাম। মেট বিল হলো দুইজনের ১০০ টাকা।
বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের বাইরের থেকে করা নাস্তা
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা রাত ১১:২৩ এর দিকে ট্রেনে উঠলাম। ১২:১০ এর দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে নামলাম তারপর সেখান থেকে একটা রিকসা নিয়ে মেসের দিকে চলে আসলাম। রাত ১২:৩০ টার দিকে আমি আমার রুমে চলে আসছিলাম। সারাটা দিন এভাবেই কেটে গিয়েছিল৷ সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।