খেয়া নৌকা
নদী, খাল অথবা বিলে মানুষকে এপার থেকে ওপারে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ডিঙ্গি ব্যবহার করা হয় তাকে খেয়া বলে। আমাদের দেশে সেই প্রাচীনকাল থেকেই খেয়া নৌকার প্রচলন হয়ে আসছে। খেয়া নৌকা সাধরনত ২০-২৫ ফিট লম্বা এবং ৮-১০ফিট চওড়া হয়ে থাকে। একটি খেয়া নৌকায় সাধারণত একসাথে ১০-১৫ জন মানুষ উঠতে পারে। আকারে ছোট হওয়ায় এ নৌকায় মুলত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় না। খেয়া নৌকা সাধারণত মাসিক চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়। আগের দিনে আমরা দেখতাম মাঝিরা মাস শেষে আমাদের বাড়িতে এসে, ধান পাট, কলাই, মুসুর, শরিসা আরও অনেক কিছু পারাপার বাবদ দিতাম।
image source
চিত্র-১ঃ খেয়া নৌকা।
কালের আবর্তনে আজ খেয়া আজ হারিয়ে যাচ্ছে বা হারিয়ে গেছে। খেয়া নৌকা যে চালায় তাকে বলা হয় মাঝি। তো আমাদের ঘাটে যে মাঝি ছিলো তার নাম হলো সলিমউদ্দিন মাঝি। আমরা তাকে সইল্যা কাকা বলেই ডাকি। ডাকি বললে ভুল হবে ডাকতাম কারণ কিছুদিন আগে সে আমাদেরকে ছেড়ে এই দুনিয়া থেকে চলে গেছে। সইল্যা কাকা অনেক ভালো মানুষ ছিল।
image source
চিত্র-২ঃ খেয়া নৌকা (ছৈ যুক্ত)
আজ আর আমাদের নদীতে নৌকা চলে না, কারণ যেখানে নৌকা চলতো সেখানে আজ বড় বড় ব্রিজ বানানো হয়েছ। এখন আর ইচ্ছে করলে ও খেয়া নৌকায় চড়তে পারি না। আমরা যখন স্কুলে যেতাম তখন অনেক বন্ধুরা মিলে খেয়া নৌকায় করে নদী পার হতাম, নৌকায় উঠে অনেক মজা করতা, অনেক সময় নৌকা পানিতে ডুবে যায়, আমরা যারা নৌকায় উঠতাম তারা মোটামুটি সবাই সাতার কাটতে জানতাম তাই তেমন অসুবিধা হত না। আবার নৌকায় করে নদী পার হয়ে আমার হাট বাজার এ যেতাম। মোটকথা ছোট বেলায় নৌকা ভ্রমণ ছিল খুব মজা। আর হয়ত কোনদিন ও সেই ফেলে আসা দিনগুলো ফিরে পাব না। কিন্তু দিগুলো ছিল খুব মজার।