বিশুদ্ধ পানি
পানির অপর নাম হল জীবন। পানি বা জল যাই বলি না কেন, এটি হচ্ছে একটি অজৈব রাসায়নিক পদার্থ, যার কোন গন্ধ, স্বাদ এবং বর্ণ বলতে কিছুই নাই। কিছু থাক বা না থাক প্রত্যেকটা উদ্ভিদ বা প্রানির বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।এই জন্য বিজ্ঞানীরা বহির্বিশ্বে প্রানীর অস্তিত্ব খোজার আগে সেখানে পানির অস্তিত্ব খুজে থাকেন। এ থেকাই প্রমাণিত হয় যে পানি ছাড়া কোন উদ্ভিত বা প্রানী বেঁচে থাকতে পারে না। বলা হয় পৃথিবীর তিন ভাগের দুই ভাগ ই পানি। পানির রাসায়নিক সংকেত হলো H2O। অর্থাৎপানির এক একটি অণু দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেনের পরমানুর সমযোজী বন্ধনে গঠিত।
বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক দূষণ আক্রান্ত মানুষের বসবাস। তবে বাংলাদেশ সরকার এদেশের জনগণের জন্য আর্সেনিক মুক্ত পানি সরবরাহের জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ২০১৩ সালের একটি জরিপে জানা যায় যে এদশের শতকরা ৯৭% মানুষের উন্নত উৎসের পানি বা বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার সুযোগ আছে। বাংলাদেশে মাত্র ৩৪.০৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পান করে থাকে। ২০১২ সালের একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০১২ সালে আর্সেনিক যুক্ত পানি পানকারীর হার ২৬.৬ শতাংশ থেকে কমে ১২.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করার কারণে মানুষের শরীরে বিভিন্ন পানি বাহি এবং চর্ম রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি দেখা যায়। ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা ইত্যাদি পানিবাহি রোগ দেখা দেয়। এছাড়া প্যঁজলি, খুঁজলি, ফোস্কা ইত্যাদি চর্ম জাতীয় রোগ দেখা দেয়। তাই আমাদের উচিত যে কোন উপায়ে পানি বিশুদ্ধ করে পান করা ।
পানি বিশুদ্ধ করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর পদ্ধবতি হচ্ছে পানি ফুটিয়ে পান করা। আমাদের সমাজে যারা গরীব, এই পদ্ধবতিতেই তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ উপায়। আমরা ধনীরা হয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে পানি ফুটাতে পারি। যেমন পানির ফিল্টার, পানি ফুটানো মেশিন আর ও বিভিন্ন মাধ্যমে পানি ফুটিয়ে পান করে থাকে। এছাড়া আর ও অনেক মাধ্যমে আছে পানি বিশুদ্ধ করার।
১.ক্লোরিন ট্যাবলেট বা ব্লিচিং
২.পটাশ বা ফিটকিরি
৩. সৌর পদ্ধতি
৪.আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
৫.আয়োডিন
বিশুদ্ধ পানি পান করলে আমাদের শরীর যেমন সুস্থ থাকে তেমনি আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা করে । তাই যথা সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করব। তাই গ্লাস থেকে সমুদ্র সব জায়গার পানি ই আমাদের বিশুদ্ধ করে পান করা উচিত।