ভেলা
"ভেলা" নামটা যেন দিনকে দিন হারিয়েই যাচ্ছে। ভেলা হলো গরীবের জলযান। শহরের মানুষেরা ভেলা কি জিনিস সেটা জানলে ও জানতে পারে আবার নাও জানতে পারে। কিন্তু গ্রামে যারা বসবাস করে বিশেষ করে বন্যা কবলিত এলাকায় যারা থাকেন একমাত্র তারাই ভেলার সাথে সম্পুর্নরূপে পরিচিত। সাধারণত বর্ষামৌসুমেই ভেলার প্রচলন বেশি দেখা যায়।বন্যা কবলিত এলাকায় যারা বসবাস করেন তারাই মুলত ভেলা ব্যবহার করে থাকেন।
ভেলা সাধারণত কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা হয়। তিন বা তার অধিক কলাগাছ একসাথে মিলিয়ে ভেলা তৈরি করা হয়। তিন বা তার অধিক কলাগাছ পাশাপাশি সাজিয়ে তারপর কয়েকটি চিকন বাশ বা মোটা বাশের কঞ্চি কলাগাছগুলো একদিক থেকে অন্যদিক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তারপর কয়েকটি পাটের রশি বা অন্য কোন কিছু দিয়ে শক্ত করে বেধে দেওয়া হয় যাতে করে গাছগুলো আলাদা হয়ে যেতে না পারে। আর এভাবেই ভেলা তৈরি করা হয়। একটা ভেলায় সাধারণত তিন থেকে চারজন মানুষ যাতায়াত করা যায়। এগুলো নৌকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
এই বন্যায় যারা গরীব এবং নিন্ম আয়ের লোক,যাদের নৌকা কেনার মতো সামর্থ্য নাই তারাই কলা গাছের ভেলা ব্যবহার করে থাকে। ভেলা তৈরি করতে একদম ই কোন টাকা পয়সা খরচ হয় না বলেই ভেলাকে গরিবের জলযান বলা হয়ে থাকে।
ভেলা একটি আদিম বাহন, যখন কাঠের ব্যবহার একদম ই ছিল না বা মানুষেরা যখন নৌকা বানাতে শিখেনি তখন ভেলার প্রচলন বেশি ছিল। কিন্তু মানুষ যখন কাঠের ব্যবহার শিখলো তখন থেকেই ভেলার প্রচলন আস্তে আস্তে উঠে যেতে লাগলো।
সময়ের সাথে সাথে ভেলাগুলো হারিয়ে যেতে লাগলো এবং আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ভেলা তৈরির প্রধান উপাদান কলাগাছ ও আজকাল তেমন একটা দেখা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো কয়েক বছর পরে ভেলা নামের বাহটি হয়তো বাংলাদেশ থেকে উঠেই যাবে।
তাই আসুন আমরা আমাদের দেশের আদিম জলবাহীযান ভেলাকে বাচিয়ে রাখার জন্য সংকল্প বদ্ধ হই।