আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। একথাগুলো আমরা মুখে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু বাস্তবে তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।
এর কারন বংলদেশের প্রতিটা সেক্টরে আজ দুর্নীতিতে সয়লাব হয়ে গেছে। গুটি কয়েক সৎ লোক দিয়ে কি সোনার বাংলা গড়া যায়? সোনার বাংলা তৈরী করার জন্য সোনার লোক প্রয়োজন।
বাংলাদেশে সোনাকে ছাই বানানো লোকের অভাব নেই কিন্তু ছাইকে সোনায় রূপান্তর করার মত লোক কয়জন আছে? এ ধরনের লোক খুঁজে পেতে হলে চিরুনী অভিযান চালাতে হবে।আমাদের প্রায় প্রতিটা নাগরিকই কোন দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই দেশকে বাদ দিয়ে নিজের লাভ-ক্ষতি নিয়ে হিসেব কষতে নেমে পড়ে।দেশের উন্নতি ও সমদ্ধি বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।নিজের পকেটে এক হাজার টাকা পেলে রাষ্টীয় এক লক্ষ টাকা জলাঞ্জলী দিতে দ্বিধাবোধ করে না। সামাজর রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্নীতি বাসা বেধেছে।যে যেভাবে পারছে সরকারী জায়গা স্থাপনা ভোগ দখল করে খাচ্ছে যেকোন রাজনৈতিক দলের তকমা গায়ে লাগিয়ে। অন্যায়কে অন্যায় মনে করছে না। নিজের যা ভালো মনে হচ্ছে তাই করছে। ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।কোন কাজে জবাবদিহীতা নেই, নেই কোন স্বচ্ছতা। জবাবদিহীতা যিনি নিবেন তিনিও অসৎ।
image source
প্রতিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০০ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ গুন বেশী ব্যয় দেখিয়ে বিল তুলে নিচ্ছে। কেউ কেউ ধরা পড়ছে কিন্তু অধিকাংশই পার পেয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশের সোনাগুলোকে খেয়ে ছাই বানিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিটা সরকারী কাজে ঘুষের লেনদেন হচ্ছে।ঘুষ ছাড়া কোন কাগজপত্র সই হচ্ছে না।
এই করোনাকালীন প্রতিটা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০০% বেতন বোনাস তুলেছে কোন রকম কাজ না করেই অথচ বেসরকারী কত কর্মচারী কর্ম, ব্যবসা ও চাকরী হারিয়ে কত মানবেতর জীবন যাপন করছে তার খবর রাখার কেউ নেই।
এভাবে কি চলবে দেশটা? এর কি কোন পরিবর্তন হবে না? একেই কি বলে সোনার বাংলা?
এরপরও যদি আমরা একে সোনার বাংলা বলি তবে সোনার গুনগত মানের ব্যাখ্যা পরিবর্তন করতে হবে। এরকম অন্তসার শুন্য সোনা আমরা চাই না। প্রকৃত সোনা চাই, সোনার বাংলা চাই। সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম।