করোনা ভাইরাস। এক আতংকের নাম, এ এমন এক ভয়ংকর ভাইরাস যা সারা বিশ্বের প্রতিটা দেশ ও মানুষের কাছে এক মূর্তিমান আতংকের নাম। বিশ্বের এমন কোন দেশ ও জাতি নেই যারা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
image source
এ এমন এক আতংকের নাম যার ভয়ে সারা বিশ্বের সকল ধর্মের লোক ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে দাড়িয়ে মহান প্রভূর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে। ধনি নেই গরীব নেই সব রাষ্ট্রই মৃত্যু ভয়ে আতংকগ্রস্থ। মৃত্যু ভয়ে সারা বিশ্বের মানুষ আজ দিশেহারা। তার সাথে রয়েছে আর্থিক টানাপোড়েন, ব্যবসায়িক মন্দা, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। মানুষ কোনটা সামাল দেবে ? কুল কিনারা খূুঁজে পাচ্ছে না ।
বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলো যেখানে করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মত একটা উন্নয়শীল দেশের পরিস্থিতি কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।করোনা রাজা-বাদশা, ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাউকেই রেহাই দেয়নি।
করোনায় দোকানপাট,ব্যবসা-বানিজ্য, ক্যাফে-রেস্তোরা , ফুটপাত, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে অধিকাংশ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে কাজ থাকতেই সংসার চলে না সেখানে কাজ না থাকলে অবস্থা হয় তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।
উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো বন্ধ থাকার কারনে দিনমজুরেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক চালক, সবজি বিক্রেতা, রাজমিস্ত্রিী থেকে শুরু করে চাকরিজীবিরা পর্যন্ত সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অনেক মানুষের চাকরি নাই, কারো চাকরী থাকলেও কিছু কিছু অসাধু কর্তৃপক্ষ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ২৫ থেকে ৩০% বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। তারা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসবে তো দূরের কথা উল্টো আরও মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে।
মহামারি করোনার কারনে খামারি তার গাভীর দুধ ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে, অনেক ক্ষেতের ফসল যেমন শাক-সবজি নষ্ট হয়ে গেছে পরিবহনের অপ্রতুলতার কারনে। হাস-মুরগীর খামারিরা তাদের ডিম ৪-৫ টাকা পিছ বিক্রি করেছে আর মুরগী বিক্রি করেছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। অথচ এক একটা মুরগীর উৎপাদন খরচই ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
করোনার কারনে এ পর্যন্ত যা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা তুলতেই বাংলাদেশের অনেক বছর লেগে যাবে। বিশ্ব ব্যাংক বলেছে করোনার কারনে এশিয়ার ১ কোটি ১০ লাখ লোক দারিদ্রের শিকার হবে। সামাজিক অবকাঠামো ও চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় পশ্চিমারা যার যার দেশে চলে যাচ্ছে ও আরও যাবে ।
image source
বাংলাদেশের শ্রকিদের মধ্যে ইতিমধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই মহামারি করোনার মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকদের আন্দোলন করতে দেখা গেছে। আর্থিক টানাপোড়েনে পারিবারিক কলোহ দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে মানুষের মধ্যে বিষন্নতার হার। হতাশা ভুলতে মানুষ বিভিন্ন রকম নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। অভাবের কারনে ঘরে ঘরে দাম্পত্য কলহ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।অভাবের তাড়নায় মানুষ চুরি ডাকাতি থেকে শুরু করে ছিনতাই পর্যন্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।
সরকার যেসব সহায়তা প্যাকেজ ঘোষনা করেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল এবং এসমস্ত সাহায্য সহযোগিতা সবার হাতে পৌছছে না, যার ফলে মানুষ ঢাকা ছেড়ে যার যার গ্রামের বাড়ীতে চলে যাচ্ছে। বাড়ীওয়ালারা ভাড়াটিয়া পাচ্ছে না। বিশেষ করে যাদের সংসার বাড়ী ভাড়ার উপর নির্ভর করে চলে তারা প্রচন্ড আর্থিক সংকটে পড়েছে। সময়মত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারার কারনে ভাড়াটিয়া বাড়ীওয়ালা দন্দ্ব চরম আকার ধারন করেছে। মাঝে বাড়ীওয়ালা ভাড়াটিয়াদের বাড়ী থেকে জোর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে এমন খবর পত্র-পত্রিকায় অহরহ ছাপা হচ্ছে যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
সর্বোপরি এক অরাজক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যা মোকাবেলা করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই মহাপ্রাকৃতিক দুর্যেোগ থেকে মানুষ কবে পরিত্রান পাবে তার কোন সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই। মহান সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ ছাড়া এ মহা দুর্যোগ থেকে পরিত্রানের কোন পথ আপাতত দেখছি না। আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টা ও মহান প্রতিপালকের কৃপাই পারে আমদেরকে এ মহা দুর্যেোগ থেকে রক্ষা করতে। সেই আশায়ই আপাতত রইলাম।