বর্তমানে আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর এই সময় বাংলাদেশে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা মহামারির মতোই আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন আগে হঠাৎ নেমন্তন্ন পাই আমার এক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কলিগের বিয়েতে যাওয়ার জন্য। আমি নেমন্তন্ন পাওয়ার পরেই মাথায় হাত! কেননা একদিকে লকডাউন আবার অন্যদিকে বর্ষাকাল। তাছাড়া আমাদের উপজেলায় কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার আশেপাশে। আর নেমন্তন্ন রক্ষার্থে আমাকে উপজেলা অতিক্রম করে যেতে হবে।
পুলিশ বাবু এবং বৃষ্টির সাথে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা
যাইহোক কলিগের আবদার বলে কথা এবং তাহার সাথে অনেকটাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই কথা দিয়ে দিলাম যেভাবে হোক নেমন্তন্ন আমি রক্ষা করবোই। যাই হোক নেমন্তন্নের দিন সকালবেলা ঝকঝকে আকাশ এবং সূর্যের প্রখর তাপ দেখে বেরিয়ে পড়লাম। উপজেলায় অবস্থিত হওয়ায় আমরা তাই 10 থেকে 12 জন কলিগ একসাথে যত হলাম এবং কিছুক্ষণ সেখানে আড্ডা দিলাম। যদিও সেখানে করুনা তথা করোনা ভাইরাস এর কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই। যাই হোক আমরা অনেক কষ্টে তিনটি সিএনজি ভাড়া করলাম। এবার রওনা দিলাম নেমন্তন্ন রক্ষার্থে। গন্তব্য স্থান আমাদের বাসা থেকে প্রায় 30 থেকে 40 কিলোমিটার দূরে এবং উপজেলা থেকে প্রায় 20 থেকে 30 কিলোমিটার দূরে। যাইহোক কিছুদুর যাবার পরেই পুলিশ বাবু এসে হাজির।
পুলিশ বাবু আমাদের সিএনজি আটকে দিলেন। আমাদের অপেক্ষা করার আগেই আমরা পরিচয় দিলাম আমরা শিক্ষক। এবার পুলিশ বাবু নীতিকথা শুরু করলেন। আমরাও সেগুলো মেনে নিলাম কারণ কিছু করার ছিল না। আমাদের অপরাধ থাকা সত্ত্বেও আমরা আরেকটি অন্যায়ের আশ্রয় নিলাম এবং পুলিশ বাবুদের জানালাম আমাদের এক কলিগ গুরুতর অসুস্থ তাকে দেখার জন্যই আমরা বেরিয়ে পড়েছি। এবার পুলিশ বাবুদের কোথায় নাম হয়ে আসলো এবং বলল আপনারাই যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে পালন করবে কে? তাপা আমাদের ছেড়ে দিলেন!
এবার যাত্রা শুরু হলো নদীর পাশ দিয়ে গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে। বেশ ভালোই সময় কাটছিল গ্রামের অসাধারন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে এবং কলিগদের সাথে কথাবার্তায় এবং দুষ্টামিতে। কিন্তু আমাদের এই দুষ্টুমি মাথার ওপরে থাকা নীল-কালো আকাশ সহ্য করতে পারলো না। হঠাৎ ঘুমরুমুখো হয়ে গেল। তার এই গুমরোমুখুর কারণে চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। তারপর শুরু হয়ে গেল অঝোর ধারায় আকাশের ক্রন্দন।।
অবশেষে আমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছলাম। কিন্তু তখনও আকাশের ক্রন্দন বিন্দু পরিমাণ কমলো না। আমরা সিএনজি থেকে নেমে ভিজে ভিজে প্যান্ডেলে প্রবেশ করলাম। সম্ভবত আমরাই তাহাদের নেমন্তন্ন প্রথম অতিথি ছিলাম। তখন প্যান্ডেলের ভিতরে কিংবা তাদের বাড়ির ভিতরে আমাদের ছাড়া অন্য কোন অতিথি ছিল না। কিন্তু একটু পরে আকাশ এতটাই ক্রন্দন শুরু করল যে প্যান্ডেলের ছাদ বেয়ে ক্রন্দন জল আমাদের ওপর পড়তে শুরু করল। যাইহোক কিছুক্ষণ পর আকাশ শান্ত হলো এবং আমরাও নড়েচড়ে বসলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের খাবার দেয়া হলো কিন্তু মনের ভিতর কিছুটা সংকোচ থাকার কারণে নাম রক্ষার্থে হাত নাড়াচাড়া দিয়ে কিছুক্ষণ পর উঠে গেলাম।
এবার শুরু হলো ফটোসেশন।
ফটোশুটের বেশ কিছুটা খটকা লেগে গেল কেন সেখানে দুই দুই জন নববধূ দেখা যাচ্ছিল। পরে জানতে পারলাম তারা দুই ভাই একসাথে নিকা করেছে। এভাবে শুরু হলো আমাদের কলিগের নববধূকে নিয়ে কিছু সময় ফটোগ্রাফি। তারপর আমরা অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে পড়লাম তাদের এলাকা টি দেখার জন্য। কিন্তু আকাশ আবার ঘুমরোমুখো হয়ে গেল এবং অল্প অল্প করে ক্রন্দন শুরু করলো। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে কলিগদের সাথে কিছু ফটোগ্রাফি করেই স্বস্তি বোধ করতে হলো।
তারপরই শুরু হলো আকাশে অঝোরে ধারায় ক্রন্দন। আকাশ থামলোনা বরং তার ক্রন্দন অনবরত চলতেই থাকলো। এবার আমাদের ফিরার পালা। কিন্তু আসার জন্য যানবাহন খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কারণ একদিকে লকডাউন এবং অন্যদিকে বৃষ্টি। সেখানে আমাদেরকে যানবাহন পাওয়ার জন্য প্রায় তিন ঘন্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
অবশেষে আমরা একটি চিঠি পেলাম এবং সেই সিএনজি যোগে বৃষ্টির মধ্যেই রওনা দিলাম বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে। কিন্তু নদীর বাঁধ দিয়ে এবং অর্ধ কাঁচা-পাকা রাস্তায় আসার সময় সম্পূর্ণ শরীর ভিজে গেলো আকাশের ক্রন্দনে। আকাশের ক্রন্দনময় দিনে নেমন্তন্ন রক্ষা করে আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে গেল এবং সমস্ত শরীর ভিজে একাকার হয়ে গেল। আর মনের স্মৃতিতে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে জমা হয়ে গেল।
Much Love And Best Wishes To All
I am Md. Kawsar Hasan. I am a Bangladeshi. I feel very comfortable to introduce myself as a Bangladeshi. An assistant teacher by profession. A writer intoxicated. So I feel very comfortable writing content on different topics. It’s great to know the unknown and learn something new. Love to travel.
Add Me On Facebook
Follow Me On Twitter