একটা শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন ঐ শিশু কোনো জাত,সম্প্রদায় কিংবা ধরম থাকে না।জন্মের সময় সবাই নিষ্পাপ ই থাকে।তখন ঐ শিশু কেবল তার চারপাশের পরিবেশ,প্রকৃতি ওলোকজনকে দেখে।পথ শিশুর বেড়ে ওঠাও ঠিক এমনভাবেই হয়।
ঐ শিশুটিও বেড়ে ওঠার সময় তার চারপাশের লোকজনরা কেমন তা দেখতে দেখতে বড় হয়।কিন্তু বর্তমান সমাজ এর সুশীল লোকজন এসব পথ শিশুদের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখায় বা যে আচার-আচরণ প্রদর্শন করে তা এই সুশীল লোকজন এর থেকে কোনভাবেই কাম্য নয়।এই ধরনের অবজ্ঞা কিংবা অবহেলার মাধ্যমে বেড়ে উঠতে থাকলে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে, একসময় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। তাদের প্রতি এই আচার-ব্যবহার দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে,সমাজ কাঠামো ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।অর্থাৎ এই অবজ্ঞা অবহেলা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে।
সামাজিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন চুরি-ডাকাতি,খুন-খারাপি,লুটতরাজ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাবে। যার ফল এই সুশীল সমাজের লোকজনকে একদিন ভোগ করতে হবে।ভবিষ্যৎ প্রজন্মে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।এজন্য তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং তারা যাতে কোনো অবহেলা কিংবা অবজ্ঞার শিকার না হয় সেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।তারা যাতে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে এ জন্য এখন থেকেই তাদের একটা সুন্দর জীবন কাঠামো প্রদান করতে হবে।একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা গুলো যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সবগুলোর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।কারণ তারা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগোষ্ঠী,আর এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।একটি জাতির উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন তাদের সমস্ত জনগণকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়।সুতরাং একটি জাতির উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই হোক কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে পরিত্রান পাওয়ার লক্ষ্যে হোক, একজন পথশিশুকে একজন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাতে হবে তাহলেই কেবল জাতির উন্নয়ন হবে।পরিশেষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে যে,পথশিশুরাও মানুষ।