বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য হল গ্রাম।পূর্বে বেশির
ভাগ লোকই গ্রামে বাস করত।এজন্য গ্রামকে ঘিরেই তাদের সকল পরিকল্পনা ছিল।আর গ্রামের একটি পরিবারের সকল লোকজন একত্রে যৌথভাবে বাস করত। গ্রামের প্রায় সকল লোকজনের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে জানাশোনা ভাল ছিল অর্থাৎ ভালো
সখ্যতা ছিল। প্রতিটি লোকজনের মধ্যে চেনা জানা ভালো ছিল যার ফলে যে কোনো বিপদ আপদে একে অপরকে সাহায্য করত। তখন গ্রামের বেশিরভাগ ঘর বাড়ি গুলো মাটির তৈরি ছিল।প্রতিটি ঘর বাড়ি ছিল বিশাল বড় আকৃতির।প্রতিটি বাড়িতেই অনেকগুলো কামরা ছিল।যা একটি যৌথ পরিবারের থাকার জন্য যথেষ্ট। যৌথ পরিবারের সকল লোকজন খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল কাজকর্ম একত্রে করত। পূর্বে গ্রামের লোকজন শিক্ষিত না হওয়ায় তারা কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।পূর্বে লোকজন খুব কম থাকায় মাথাপিছু জমির পরিমাণ বেশি ছিল।গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রধান উৎস হল পতিত জমি গুলোতে লাগানো হরেক প্রজাতির গাছ। পথের ধারে এবং পতিত জমিতে লাগানো গাছগুলো গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
গ্রামীণ ঘরবাড়িগুলো বিশাল বড় ছিল এবং বাড়ির সামনে বেশি জায়গাজুড়ে একটি বড় উঠান বা আঙিনা থাকত।প্রায় প্রতিটি পরিবারের মাছ চাষের জন্য একটি বিশাল বড় পুকুর ছিল।পতিত জমি গুলোতে ধান চাষ করতো।প্রতিটি পরিবারেই একাধিক সংখ্যক গরু ছিল।এজন্যই তো লেখকরাগ্রামীণ মানুষের জীবন কাঠামো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন যে তাদের গোলাভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু এবং পুকুর ভরা মাছ ছিল।পূর্বে প্রায়ই গ্রামীণ সকল অনুষ্ঠান অনেক ধুমধাম এর সঙ্গে পালিত হতো।নবান্ন, পহেলা বৈশাখ,পূজো,দুই ঈদ ইত্যাদি বড় উৎসব ছাড়াও ছোট ছোট উৎসবগুলোও অনেক ঘটা করে পালিত হতো।
গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের জন্য বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবন কাহিনী নিয়ে বিভিন্ন যাত্রাপালা, বই এবং বায়স্কোপ আয়োজন করা হতো।গ্রামের সকল লোকজনই অনেক আগ্রহের সঙ্গে এসব অনুষ্ঠান উপভোগ করত।এখনকার গ্রামীণ কাঠামো আর আগের মতো নেই। বতমান এ গ্রামের বেশিরভাগ লোকজন শহরমুখী হচ্ছে।বর্তমানের গ্রামীণ কাঠামোতে শহরের ছাপ পড়েছে।