বর্ষাকালে চাষাবাদের জন্য একটি উপযোগী ফসল হলো পাট। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে সাধারণত তিন থেকে চার মাস লাগে পাট চাষ করতে। পাট চাষের অনেক উপকারিতা রয়েছে। পাটের শিকর মাটির অনেক গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। যার ফলে মাটির অনেক গভীর থেকে খাবার গ্রহণ করতে পারে এবং মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। পাট চাষের প্রধান একটি সুবিধা রয়েছে। এ ফসল চাষ করতে কোন প্রকার কীটনাশক সার কিংবা ওষুধের প্রয়োজন হয় না। পাট চাষের সকল প্রকার উপকারীতাকে বিবেচনা করে একে বাংলার সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে।
সাধারণত বাংলা বছরের শেষের দিকে পাটের বীজ রোপন করা হয়। অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিকে পাট চাষের জন্য জমিকে প্রস্তুত করা হয় এবং বৈশাখের ঠিক আগে আগে পাটের চাষ শুরু করা হয়। পাট চাষের জন্য পানির প্রয়োজন হয়। এজন্য এমনভাবে এ ফসল চাষ শুরু করা হয় যাতে বর্ষার পানি পায়। যেহেতু এ ফসল চাষ করতে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মতো সময় লাগে, সুতরাং শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ দিকে এ ফসল বাজারজাত করনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ লক্ষ্যে পাট কেটে রেখে দিতে হয়। অর্থাৎ প্রথমে পাটকে পচাতে হয় । পচানের পর ফসল থেকে পাট এবং সিমটা আলাদা করা হয়। পাট আলাদা করার পর শুকাতে হয়।পাট বাজারজাত করণ করা হয় এবং সিমটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবে পাট চাষের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
পাট চাষের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান কিছু সুবিধা হল এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, চাষ করতে সার কিংবা কীটনাশক এর প্রয়োজন হয় না, শেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে খুব কম খরচে এ ফসল চাষাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এজন্য চাষীদের ধান এবং গম চাষের পাশাপাশি পাট চাষেও উৎসাহিত করতে হবে।