আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি৷ আবারও আপনাদের মাঝে চলে আসলাম, আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে৷ চলুন শুরু করি আমার আজকের পোষ্টটা -
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালোবাসা সব সময়ই একটু বেশিই থাকে। সন্তান যত খারাপই হোক না কেনো, পিতা-মাতা চায় যাতে তার সন্তান ভালো থাকো। শত চেষ্টটা করে যায় সন্তানের ভবিষ্যৎটাকে উজ্জল করার জন্য। একজন মা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাবার দেন যাতে তার সন্তানটা খুদার কষ্টটা বুঝতে না পারে। অথচ মা নিজে খুদার কষ্টের সারাটা দিন পার করে দেন। একজন পিতা, নিজের শত কষ্টের মাঝেও চেষ্টটা করে যান সন্তানের ইচ্ছাগুলো পূরণ করতে। যার পিতা পৃথিবীতে বেঁচে নেই, সেই সন্তান বুঝতে পারে পিতার মর্ম কতটা। পিতা হলো বড় বট বৃক্ষের মতো সন্তানদেরকে ছাড়া দিয়ে আগলে রাখে।
বর্তমান সময় হলো ফলের মৌসুম৷ নানা ধরনের ফলে এখন ভরপুর। বাড়ী থাকলে আব্বু বাজার থেকে কিছু কিনে আনলেই সেটা ভাই বোনদের মধ্যে ভাগ করে খাওয়া শুরু হয়ে যেত। কিন্তু বাড়ীর বাইরে মেসে থাকার কারণে, এই সুযোগটা আর পাওয়া যায় না। কিন্তু আগেই আপনাদেরকে বলেছি, পিতা-মাতা হলো পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ট ব্যক্তি, যারা সন্তানের চিন্তায় সব সময় বিভোর থাকেন। আমার মা আমাকে রেখে কোনো ফল, ভালো খাবারই খেতে চান না। গত কয়েক দিন আগে আমার আব্বু গাছ থেকে লিচু পেরেছিল। বাড়ীর সবাইকে দিয়েছে এবং আমার ভাই বোনদেরকেও দিয়েছে।
কিন্তু আমি যেহেতু বাইরে থাকি, আমার লিচু গুলো আবার সে আমার মেসে পাঠায়ে দিয়েছে৷ আমিও যাতে আমার হক থেকে বাূ না যায়, আর আমাকে রেখে কখনই তারা কিছু খাবে নানে৷ এজন্য আমার লিচুগুলো ব্যাগে করে আমার মেসে পাঠায়ে দিয়েছিল। লিচুগুলো হাতে পাওয়ার পর ভাবলাম, সন্তানের প্রতি কতটা ভালোবাসা থাকলে এতোটা দূরের জিনিস পাঠানো যায়। যারা তাদের পিতামাতাকে হারিয়েছে, তারা আসলে এখন বুঝতে পারে, পিতা-মাতা ছাড়া পৃথিবীটা অন্ধকার। এরা ছাড়া খোজ নেওয়ার যেনো কেউই নাই। লিচুগুলো হাতে পাওয়ার পরই, আমার মেসের সবাইকে লিছু খেতে দিলাম।
তারপর আমি নিজেও কয়েকটা লিছু খেলাম। এভাবে মাঝে মাঝে বাড়ী থেকে আমার জন্য, কলা, অন্যান্য খাবার পাঠায়ে দেয়। যাতে আমি কোনো ভাবে কষ্ট না পায়। আশা করি আমার আজকের পোষ্টটা আপনাদের সবার কাছে ভালো লেগেছে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।