বাবার কাছে ছেলে
আজ ২৬ শে জুলাই মঙ্গলবার,সকাল থেকেই মনটা খুব খারাপ, শুধু খারাপ বললে ভুল হবে অনেক খারাপ, কারন আগামীকাল বুধবার আমার ছেলে আমাকে ছেড়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবে। তাই কেন মনটা কেন জানি বার বার ভিতর থেকে কেদে কেদে আসছিল। ওর বয়স সাড়ে ছয় বছর, নাম সাঈফান ফাইয়াজ নিহান, সবাই আমরা ওকে নিহান বলেই ডাকি। ওর জন্মের পর একসাথে এতদিন ঢাকায় এসে আমার কাছে থাকে নাই। এইবার প্রায় এক বছর ধরে আমার কাছে আছে, স্বাভাবিক ভাবেই ওর প্রতি আমার ভালোবাসাটা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিত্রঃঃ বাবা ও ছেলে।
যাই হোক ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম, সকালে ঘুম ভাংলো ঘুম থেকে উঠেই দেখি ওর মা ওকে জামা কাপড় পরিয়ে প্রস্তুত করে ফেলেছে। এটা দেখে আমার কষ্টটা যেন আবার জেগে উঠল।
যাই হোক সব কিছু গুছিয়ে সকাল ৬.৩০ মিনিটের দিকে ওর ছোট মামার সাথে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আমি ওদের সাথে নিচে নেমে ওদেরকে রিক্সায় ওঠিয়ে দিয়ে আসলাম। সে যেন এক মহা কষ্ট, আমি যেন কিছুতেই আমার চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারছিলাম না। তবুও কোন মতে নিজেকে সামলে নিয়ে রুমে আসলাম। রুমে আসার পর মনে হলো আমার রুম থেকে একটা চাদ হারিয়ে গেছে।
চিত্রঃ ছেলে।
আমি কিছুক্ষণ নিরব হয়ে রইলাম, চেয়ে চেয়ে শুধু ওর পরিধেয় পোশাক কিংবা অন্যান্য সব কিছু দেখতেছিলাম আর মনটাকে বুঝাচ্ছিলাম যে, সে তো আবার ফিরে আসবেই তাহলে কেন এই সামান্য সময়ের জন্য তার জন্য এত কষ্ট, কেন এত ভাবনা। মাত্র তো কয়টা দিন তার পর ও কেন ছেলেটার জন্য এত খারাপ লাগছে। আসলে এখানে সময়ের ব্যাপারটা প্রধান নয়, বিষয়টা হচ্ছে সম্পর্কের, একজন বাবার কাছে একজন ছেলের যে ভালবাসা কিংবা অনুভূতি কতোটা গভীর সেই বিষয়টিই এখানে প্রকাশ পেয়েছে। এ থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের প্রতি ও আমাদের পিতা-মাতার অনুভুতি বা ভালবাসা কতটা গভীর। সুতরাং এই বিষয়টা উপলব্ধি করে হলেও আমরা আমাদের পিতা মাতার খেদমত করবো এবং তাদের পাশে থাকব।