নকশিকাঁথা
বর্ষার দিনে পল্লিবধূরা যখন কোনো কাজ থাকে না, তখন তারা নকশিকাঁথা সেলাই করতে বসে।বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা স্বপ্নগুলো সুতার টানে যেন ভেসে ওঠে নকশিকাঁথায়। নকশিকাঁথা আজ বিলুপ্তপ্রায় হলে ও আমাদের লোকশিল্পের তালিকা থেকে এর নাম মুছে যায়নি।আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতো।
নকশিকাঁথা সেলাই করতে করতে কখন যেন বাংলার পল্লী বধুরা মনের অজান্তে পল্লী গান, ভাটিয়ালী এবং তাদের আঞ্চলিক ভাষার গান গেয়ে উঠত।
বর্ষাকালই নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময় । একটি সাধারণ আকারের কাঁথা সেলাই করতে সাধারনত ছয় সাত মাস সময় লেগে যেতো। এক সময় বিছানা ও শীতের চাদর হিসেবে এর বহুল ব্যবহার ছিল।
আমাদের দেশের এই গ্রামীণ লোকশিল্পের সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের। নকশিকাঁথার মাধ্যমে আমরা আমাদের লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।
নকশিকাঁথা তৈরীর উপকরণ এবং স্থানঃ
@সুই
@বিভিন্ন ধরনের রঙিন সুতা।
@প্রথমত একটা সুন্দর নতুন কাপড় অথবা ভালো পুরনো কাপড় নিতে হবে।
@কাপড়টি হতে হবে সুতি ও নরম জাতীয়।
@কাপড়িতে কোন প্রকার ছেড়া বা ফুটো থাকতে পারবে না।
@কাপড়ের রং যাতে নষ্ট না হয় সে ধরনের হতে হবে।
@কাপড়টি একটি নির্দিষ্ট মাপের হতে হবে।
স্থানঃ
@কাথাটি সেলাই করার জন্য একটি পরিস্কার স্থান নির্বাচন করতে হবে।
@স্থানটি ছায়া যুক্ত হলে ভালো হয়।