গরিব অসহায়কে সাহায্য করার মাঝে নিজের সুখ খুঁজে পাওয়া
খুব সাধারণ ঘরের সাধারণ একটি ছেলে আমি। করোনা পরিস্থিতির কারণে পড়াশুনা এখন লম্বা বিরতিতে আছে। আমার হাতে একটা বাটন ফোন। এলাকাতে আমার একটায় বন্ধু , সে আর আমি একসাথেই পড়াশুনা করি ও ছোট থেকে আমরা সবসময় একসাথেই আছি। আমরা দুই জন সব সময় খুব সাধারণ ভাবে চলাফেরা করি। কখনো কোনো বাজে ছেলেদের সাথে মিশিনা। আমরা আমাদের মতো ঘোরাফেরা করি ও আড্ডা দেয়। ইদানিং PUBG খেলাটা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমার ফ্রেন্ড ইদানিং একটা নতুন ফোন কিনেছে। কিন্তু সবসময়ের জন্য তার খেলার পার্টনার ছিলাম আমি। আমিও চিন্তা করলাম দুই বন্ধু একসাথে খেলার জন্য আমার একটা ফোন কিনা দরকার।
আজ প্রায় ৬ মাস হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে টাকা জমাতে জমাতে ১২ হাজার টাকা জমেছে। তবে ফোন কিনতে আমার লাগলে ১৫ হাজার টাকা। আমার প্রানপ্রিয় বন্ধু বলতে লাগলো এই কয়দিনে আমিও কিছু টাকা জমিয়েছি সেখান থেকে তোকে ৩ হাজার টাকা ধার দিলে তুই ফোন কিনে নিতে পারবি। পরে আস্তে আস্তে তুই আমাকে টাকা দিয়ে দিছ। বন্ধুর কথা শুনে বেশ ভালো লাগলো। পরের দিন সকালে দুই বন্ধু একসাথে বের হলাম ফোন কিনার উদ্দেশ্যে। আমাদের বাড়ি থেকে বাজার বেশি একটা দূরে ছিল না। হেটেই রওনা হলাম আমরা । কিন্তু রাস্তা দিয়ে হাটতেই একজন রিক্সাওয়ালা চাচা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলতে লাগলো বাবা তোমরা কোথায় যাবে ? আমার রিক্সায় উঠো তোমরা যা ভাড়া দিবে তাই আমি নিবো।
লোকটির কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে কথা গুলো শুনে একটু অবাক হলাম। খুব জানতে ইচ্ছা হলো কি হয়েছে তার। তখন আমরা দুই বন্ধু তার রিক্সায় উঠলাম ও বাজারের দিকে যেতে বললাম। যখন রিক্সাওয়ালা চাচা আমাদের নিয়ে রিক্সা চালাতে শুরু করলো তখন জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম কি হয়েছে চাচা আপনার? আপনি এভাবে কান্না করছেন কেন ? তখন চাচা উত্তরে বলতে লাগলো বাবারে এই রিক্সাটা আমার নিজের না। আমি ভাড়া চালায়। প্রতিদিন আমাকে এই রিকশার ভাড়া ৩০০ টাকা করে দেয়া লাগে। তবে আজকে আমি ২০০ টাকাও কামাইতে পারিনাই। আর এর থেকেও বড় বিষয় হলো আমার মা মরা মেয়েটা বিছানায় পরে আছে। ওর এবেনডিসাইট ব্যথা। অপারেশন করানোটা খুব জরুরি। আমার মেয়েটা ব্যথায় খুব চটপট করতেছে। আমি বাবা হয়ে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা। কি করবো আমি কিছুই বুঝতেছিনা ।
এত টাকা আমি কি ভাবে জোগাড় করবো। লোকটি কান্না করতে করতে কথা গুলো বলছে আমাদের। কথা গুলো শুনে নিজের অজান্তেই চোখের এক কোনে পানি এসে জমাট বাধলো। তখন দুই বন্ধু রিক্সা থেকে নেমে চাচাকে বলতে লাগলাম চাচা আপনার মেয়ের চিকিৎসার জন্য কত টাকা লাগবে ? চাচা বলতে লাগলো চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। আমার কাছে এখন এক হাজার টাকাও নেই। সেই কথা শুনে দুই বন্ধু একসাথে কথা বলে আমাদের ফোন কিনার ১৫ হাজার টাকা পুরোটা উনার হাতে দিয়ে বলি যান চাচা আপনি এই টাকা দিয়ে আপনার মেয়ের চিকিৎসা করা শুরু করেন। বাকিটা আল্লাহ ব্যবস্থা করবে ।
লোকটি টাকা গুলো পেয়ে আমার পায়ের কাছে আসতেই আমি উনাকে আমার বুকে জড়িয়ে ধরি। সাথে আমি আমার ফোন নম্বর দিয়ে বলি আপনার যদি আর কোনো সমস্যা হয় আমাকে ফোন দিয়ে জানাবেন ।
এই পৃথিবীতে গরিব মানুষগুলো বড় অসহায়। এদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ নেই বললেই চলে। আমরা নিজের দামি বাড়ি ও কোটিটাকার গাড়িতে চড়তে পারলেই হলো। কে খেলো না খেলো সেটা আমাদের জানার বিষয় না। কিন্তু এইভাবে কতদিন।
Thank you all for visiting my page and giving your nice support.
Check my others social sides profile-
Facebook - https://www.facebook.com/profile.php?id=100007607950342
Instagram- https://www.instagram.com/aminul6032/?hl=en