প্রায় দশদিন হয়ে গেলো গ্রামের বাড়ি আসছি। প্রতিদিন বিকালেই বাসার বাহিরে বের হই। সারাদিন বাসায় বসে থাকতেও ভালো লাগেনা। আবার এদিকে লকডাউন চলছে কিছুক্ষণ পরপর পুলিশ, র্যাব ও আর্মি টহল দিতেছে। দু'দিন আগে বাজারে যেয়ে দেখি র্যাব গাড়ি থেকে নেমেই মাস্ক না থাকার কারনে এক লোকের পিছনে ডান্ডার বারি দিলো। আমরা বন্ধুরা বাইক নিয়ে আশেপাশের এলাকায় ফাকা জায়গা গুলোতে যেয়ে বসে থাকি।
সাধারণত বিকালের দিকে আমরা বিলের দিকে যাই। আজকে পাশের গ্রামের দিকে যাবো ঠিক করলাম। এদিকে পালশা নামে একটা গ্রাম আছে। তার পাশে একটা বাজার আছে নাম আমিরের হাট। কিন্তু মজার বেপার হচ্ছে আশেপাশের সবাই ফকিন্নির হাট বলে আর ওখানে যারা থাকে তারা বলে আমিরের হাট।
এদিকটায় অনেকদিন আসা হয় না। ছোট বেলায় শেষ এদিকে আসছিলাম। আম্মার নানির বাড়ি এদিকে। ছোট মামা যখন ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতো তখন আমি ভাইয়া আর মামা হেটে হেটে এদিকটায় আসতাম। আমিরের হাটের খোরমা অনেক বিখ্যাত এখানে। মামা যতদিন বাড়িতে থাকতো আমরা প্রতিদিন বিকালে এদিকটায় হাটতে আসতাম আর খোরমা খেতাম। প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় আজ গেলাম। অনেক কিছুই চিনতে পারছিলাম না। দোকানে যেয়েই আগে খোরমা আর পিয়াজি নিলাম। মুখে দেয়ার পরেই সেই পুরানো স্বাদ। এদিকের খোরমার সাথে আসলেই অন্য খোরমার কোন তুলনা হয় না।
শরৎকালে আকাশ এতো সুন্দর হয়ে থাকে সব পরিষ্কার সাথে সুন্দর বাতাস। বিকালের রোদে চারিপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর লাগে। আমিরের হাট থেকে আজকে নতুন রাস্তা দিয়ে পাশের আরেকটা গ্রাম দিয়ে বাসায় ফিরবো। একটা সময় শহর আমাকে অনেক টানতো মনে হতো গ্রাম থেকে শহরে থেকে অনেক শান্তি। কিন্তু শহরে থাকার পরে এখন গ্রামে আসলে অনেক শান্তি লাগে। এতো সবুজ চারিদিকে শান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারি।
পাশের গ্রামের নাম কানুপুর। এই গ্রাম আমাদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে। আজকে যে রাস্তা দিয়ে গেছি আগে এদিক দিয়ে কখনো আসা হয়নি। বাইকে করে চারিপাশের মনরম পরিবেশ উপভোগ করতে থাকলাম। কিছুদুর যেয়ে রাস্তার পাশে বসলাম। প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে। অনেকদিন পরে গোধুলি দেখলাম।
পশ্চিমা আকাশ একদম রক্তাক্ত লাল রঙ ধারণ করে আছে। বাইক রেখে রাস্তার ধারে অনেকক্ষন বসে থাকলাম। কিছুখন পরে দেখি দুজন পুলিশ আসলো। আমাদের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলো এখান থেকে দ্রুত চলে যেতে বললো। সন্ধ্যার পরে এদিকটায় নাকি চুরি ছিনতাই হয় তাই আমাদের বাড়ি চলে যেতে বললো। অল্পকিছুখন বসে চলে যাবো বললাম। আর কিছুক্ষন গোধুলি উপভোগ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম।