বাড়িতে আসার পর থেকে দিন ভালোই কাটতেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আম্মার হাতের রান্না খাই। সকালে খাবারের কোন চিন্তা নাই। একা থাকলে ঘুম থেকে উঠে খাবার তৈরি করা অনেক কষ্টের কাজ। বাড়িতে আসলে এইদিক দিয়ে কোন চিন্তা নাই। আজকে সকালেও আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম। সারাদিন অনেক কাজ আছে। ইউএনও অফিসে যেতে হবে কিছু কাজ আছে। খেয়েদেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পরলাম। উপজেলাতে যেতে হবে আমাদের এলাকা থেকে দশ কিলোমিটার দূরে। লকডাউনের মধ্যে সব বন্ধ ভ্যানে করে যেতে হবে। বাজারে যেয়ে ভ্যান নিলাম। আগে উপজেলাতে যাওয়ার রাস্তা অনেক ভাঙ্গা ছিলো। এখন নতুন রাস্তা করছে যেতে মাত্র পনেরো মিনিট সময় লাগে। ইউএনও অফিসে যেয়ে কাজ শেষ করে এক খালার বাসাতে যেতে হবে। ছোট বেলায় আমাকে মানুষ করছে। এই খালারা তিন বোন এই তিন বোন আমাদের চার ভাই বোন কে ছোট বেলায় মানুষ করছে। আম্মার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস লাগবে এইজন্য যাওয়া। এর আগে আমি কখনো খালার বাসাতে যাইনাই। আজকে প্রথম যাবো। ফোন করে বাসা কোথায় শুনে নিলাম। ইউএনও অফিস থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে। বাসার কাছাকাছি যেতেই দেখি উনার ছোট ছেলে আমাকে নিতে আসছে। এই খালার নাম রেশমা। রেশমা খালার বড় বোন আমাকে তিন বছর পর্যন্ত দেখাশুনা করছে এর পরে রেশমা খালা। আমার থেকে মাত্র দুই বছরের বড়। ছোট বেলায় অনেক খেলতাম খালার সাথে আর এখন দেখি খালার এই ছেলে ক্লাস ফাইভে পরে। খালার বাসাতে যেয়ে আরও অবাক হলাম তার বড় একটা মেয়েও আছে সে নাকি ক্লাস টেনে পরে। কি একটা অবস্থা, আর আমি এখনও ব্যাচেলর। বাসাতে যেয়ে বেশিক্ষণ বসবো না কিন্তু এই প্রথম বাসাতে যাওয়ার কারনে আমাকে না খেয়ে আসতে দিবে না। আমি আসার আগেই সে রান্না শুরু করে দিছে। লুচি আর মিষ্টি দিয়ে নাস্তা করলাম প্রথমে। দুপুরের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে পরলাম। এই খালা ছোট বেলায় মাঝে মাঝেই বাসা থেকে হারায় যাইতো। পুরা বাসা কোয়ার্টার খুঁজেও তাকে পাওয়া যেতো না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে দেখা যেতো খাটের নিচে চুপ করে শুয়ে আছে। এরকম প্রায় সময়ই ও হারায় যেতো আর বিভিন্ন জায়গা তে ওকে খুঁজে পাওয়া যাইতো। আমি ক্লাস টু তে যখন উঠলাম তখন রেশমা খালা গ্রামের বাড়ি চলে গেলো আর আমার সেই সময়ের খেলার সাথিকেও হারায় ফেললাম। খালার বাসা থেকে আজকে অন্য একটা গ্রামের ভিতর দিয়ে বাসায় ফিরলাম। মেইন রোড থেকে নাকি এদিক দিয়ে গেলে দ্রুত হবে। কিন্তু ওই গ্রামের ভিতর দিয়ে আসতে লেগে দেখি প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লেগে গেলো যেখানে মেইন রোড দিয়ে বাসায় আসলে আমার বিশ মিনিটের মত সময় লাগতো। বাসায় এসে কিছুখন বিশ্রাম নিয়ে বাহিরে গেলাম। বাসা থেকে কিছু দূরে একটা ছোট্ট নদী আছে। আমরা মরা নদী বলি কারন এই নদীতে কখনোই পানি থাকে না। শুধু বর্ষা কালে পানি থাকে।
অনেকদিন এই ব্রিজে আসা হয়না। আগে প্রায় সময়ই এই ব্রিজে আসতাম। রাতে এসে আমি মামা ভাইয়া বসে গল্প করতাম। এখন নাকি রাতের দিকে এইদিকটায় তেমন মানুষ থাকে না চুরি ছিনতাই হয়।