আবিরের আজ মনটা বেশ খারাপ। প্রতিবছরের এইদিনটা তে আবিরের মন খুব একটা ভালো থাকে না। কারন ও যাকে ভালোবাসে তার আজকে জন্মদিন। কিন্তু আজ প্রায় নয় বছর হতে চললো আবিরের সাথে তার ভালবাসার মানুষের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আবির তাকে ভুলতে পারে না। মনে হয় সেই আগের মতই ভালোবাসে।
সম্পর্কটা শুরু হয়েছিলো সেই কলেজে থাকতে। আবিরের মনোযোগ সবসময় পড়াশুনায় ছিলো। সে কখনো প্রেম করবে সেটা কল্পনাও করে নাই। এসএসসিতে আবিরের প্লাস পাবার কথা ছিলো কিন্তু একটুর জন্য প্লাস পায়নি। এইজন্য ওর ভিতরে একটা জেদ ছিলো যে করেই হোক এইচএসসিতে ওর প্লাস পেতেই হবে। অন্য কোন দিকে আবিরের কোন আগ্রহ ছিলো না। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়াশুনা শুরু করতো। কলেজে ক্লাস টাইম হলে ক্লাসে চলে যেতো। সকাল আটটার ভিতরে কলেজে উপস্থিত থাকতে হতো। খুব কড়াকড়ি ছিলো কলেজে এটা নিয়ে।
আবিরের ভালোবাসার মানুষটার নাম ছিলো নাজিয়া। নাজিয়ার সাথে আবিরের প্রথম দেখা হয়েছিলো কলেজ লাইব্রেরীতে। কলেজের বাংলা শিক্ষক ছিলেন অনেক কড়া। সেদিন ক্লাসে স্যার সবাইকে একটা রচনা নোট করে আনতে বলছিলো। কিন্তু আবিরের সেদিন নোট করে আনতে একদমই মনে ছিলো না। এরকমতো হবার কথা না। আবির কখনো পরার কথা ভোলে না। প্রথম ক্লাস শেষ হবার পরের ক্লাস কম্পিউটার ক্লাস ছিলো। আবিরের কম্পিউটার ক্লাস না থাকার কারনে ও লাইব্রেরিতে চলে যায়। এরপরেই বাংলা ক্লাস হবে। হাতে মাত্র চল্লিশ মিনিট সময়। এর মধ্যেই শেষ করতে হবে। আবির একটা বই ইস্যু করে নিয়ে নোট করতে শুরু করে। তখন কলেজে সবেমাত্র ফার্স্ট ইয়ার আসছে। লাইব্রেরিতে দুই সারি টেবিল রাখা। নোট করতে করতে আবির হঠাৎ খেয়াল করে সামনের সারিতে একটা মেয়ে আবিরের দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আবিরের সাথে চোখাচোখি হতেই মেয়েটা পেপার দিয়ে নিজেকে ঢেকে নেয়। আবির সাথে সাথে মাথা নিচু করে আবার লিখতে শুরু করলো। কিন্তু আবিরের মনে কি যেনো চলছে। ও নিজের বারবার মনে হচ্ছে মেয়েটা মনে হয় আবারও ওর দিকে তাকাচ্ছে। ওর কলম কেনো জানি চলছে না। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে আসলেই আবার মেয়েটা তাকিয়ে আছে। আবারও দুজনের চোখাচোখি হতেই দুজনেই মাথা নিচু করে নিলো। আবিরের আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। কেউ ওর দিকে তাকিয়ে থাকলে ওর খুব অসস্থি লাগে। সাথে সাথে খাতা নিয়ে আবির উঠে পরলো। বই ম্যামের কাছে জমা দিয়ে সোজা ক্লাসের দিকে হাটা ধরলো। কিন্তু ওর মাথা থেকে কিছুতেই ওই মেয়ের চাহনি যাচ্ছিলো না। ক্লাস চলাকালীন সময়েও আবির ওই মেয়ের কথাই ভাবলো।
পরেরদিন কলেজে ঢুকতেই আবিরের চোখ সুধু ওই মেয়েকেই খুজলো। ক্লাসের বিরতি পেলে সোজা লাইব্রেরীতে চলে গেলো। কিন্তু ওখানে যেয়ে দেখা পেলো না। ক্লাসেও ঠিক মতো মনযোগ দিতে পারতেছে না। আবিরের তো এমন হবার কথা ছিলো না। আবির কি প্রেমে পরলো নাকি বুঝতে পারতেছে না। বারবার শুধু ওর চোখের সামনে ওই মেয়ের চেহারা ভাসতে থাকে। চোখ দুটো এতো সুন্দর ছিলো আর যখন পেপার দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিচ্ছিলো আবিরের যেনো মাথা থাকে এইসব যাচ্ছেই না। একবার ওকে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। কিন্তু আগামি দুইদিন আবির অনেক খুঁজেও ওকে পেলো না। অবশেষে এরপরে একদিন কলেজ শেষে হোস্টেলে ফেরার পথে মেয়েটাকে দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পরলো। মনের ভিতরে ঝড় শুরু হয়ে গেলো আবিরের। তাহলে ও কি সত্যি প্রেমে পড়ে গেছে? এমন লাগছে কেনো ওর।
এরপরে প্রায় প্রতিদিনই ওকে দেখতে পেতো আবির। কিন্তু ওর সাথে কথা বলার জন্য মনটা ছটফট করতো অনেক। যখন ওদের দুজনার দেখা হত তখন দেখা যেতো দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে আছে। আবির বুঝতে পারতো মেয়েটাও ওকে পছন্দ করে। আবির ওর সাথে কথা বলার জন্য প্রতিদিন কলেজ শেষে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু কোন সময়ই কথা বলতে পারতো না। একদিন বিকালে যখন কলেজ থেকে নাজিয়া কোচিং শেষে ফিরছিলো তখন আবির ওকে ডাক দেয় কথা বলার জন্য। আবিরের তখন হার্টবিট অনেক বেড়ে গেছে। কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। পরিচয় হয়ে নিলো কোন ইয়ারে পরে বাসা কোথায় এইসব শুনে নিলো। ফার্স্ট ইয়ারে পরে নাজিয়া। প্রথমদিন এতোটুকুই কথা হলো। সেদিন আবিরের সারারাত আর ঘুম হলো না। আবির যেখানে পড়াশুনার বাহিরে কিছু ভাবেই নাই আর ও কিনা প্রেমে পরছে।..........(চলবে)