স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপনে আমরা দেখি থেমে নেই কিশোরী! সাদা ফকফকে প্যান্ট পরে ব্যাডমিন্টন খেলছে, দাঁপিয়ে সাইকেল চালাচ্ছে, নাচছে, উৎফুল্ল ভঙ্গীতে জয় করে ফেলছে পিরিয়ড নামের দানবকে!
বাস্তব চিত্র কি সত্যি এমন?
বাস্তবতাঃ
জীবনের প্রথম পিরিয়ডের আগ পর্যন্ত কেউই জানতে পারে না পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত ধরণের, তীব্র, অচেনা কোন ব্যাথা আছে। ক্ষুধায় পেট ব্যাথা হচ্ছে, গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা, পড়ার টেবিলের কোণায় বাড়ি খেয়ে পেটে আঘাতজনিত ব্যাথা, ফুড পয়জনিং এর ব্যাথা?
ট্রাস্ট মি, এইসব ব্যাথা সম্মিলিত করেও তলপেট চিরে চিরে নিম্নগামী এই ব্যাথার তুলনা পৃথিবীর কোন পরিচিত ব্যাথার সাথে মেলে না।
কিছুটা ধারণা দিই- ধরুন একটা আধাভোঁতা ছুরি দিয়ে কেউ যদি আপনার তলপেটে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে ডানে বায়ে পোঁচ মেরে একটু খানি ছুরিটা মুঁচড়ে দিয়ে নিম্নাঙ্গের দিকে নামাতে থাকে থেমে থেমে, কেমন লাগবে আপনার?
ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার বমি পাচ্ছে, মুখ ভরে গেছে ব্রণে। চাইলেও বমি করতে পারছেন না কারণ আপনি বসে আছেন কোন জরুরী মিটিং এ, পরীক্ষার হলে, বিয়ের আসরে,বা ঠ্যালাঠেলির বাসে। মন চাইবে নাচতে, গাইতে?....
অনুভূতি যেহেতু মানুষে মানুষে ভ্যারি করে,এমন অনেক কিশোরী আছে যাদের মেন্সট্রুয়াল পেইন এমন পর্যায়ে ওঠে, তারা 'ডাক ছেড়ে কাঁদে'। তখন দ্রুত ঘরদোর সাউন্ডপ্রুফ করার চেষ্টা করে পরিবারের লোকেরা । কারন কাউকে জানতে বা বুঝতে দেয়া যাবে না কি হয়েছে। এটা একটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি, মানুষ জানলে কি ভাববে?? ছিঃ.... মুখে বালিশ চেপে চুপচাপ পড়ে থাকো। কেউ কেউ প্রতিমাসেই ব্যাথা সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়।
পিরিয়ড কোনো রোগ নয়৷ প্রতিটা নারীর জীবনচক্রের একটা অংশ৷ তাই প্রতিটা মেয়ে যাতে বিষয়টিকে আতঙ্ক হিসেবে না দেখে স্বাভাবিকভাবে দেখতে শেখে এবং সচেতন হয়, সেজন্য পরিবারের অবদান জরুরি ।।
স্যানিটারি ন্যাপকিন শুধুমাত্র তরল শোষক একটি সাপোর্ট সিস্টেম। এটি কোন জাদুকরি তাবিজ না, যা পরলেই নিমিষে বিছানায় শুয়ে কাতরাতে থাকা মেয়েটা টগবগ করে রেসের ঘোড়ার মত উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠবে।
যে কিশোরী বা যে নারী এই ব্যাথা চেপে তার রেগুলার লাইফের কাজকর্ম 'এটাই স্বাভাবিক' ভেবে করে যায়, ধরে নেবেন সে কোন বিজ্ঞাপন থেকে উঠে আসা সুপার মডেল না।সে বাস্তবের তীব্র যন্ত্রণাময় দুনিয়া থেকে উঠে আসা সুপার হিরো।
সুপারম্যানের রক্ত ঝড়ে কিনা আমার জানা নেই, তবে ওয়ান্ডার ওম্যানের রক্ত ঝরে, মাসে ৫ দিন। তারপরেও সেটার কোন অ্যাডভান্টেজ নেয় না সে । কারণ আদতে সে সাইডকিক, সাইডকিকদের ব্যাথা বেদনায় কাঁদতে নেই ।।