আয়শা তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নে মা। আর দেরী করা যাবে না। এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে।
আয়শার জন্য আজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। জীবনে প্রথম বারের মতো ঢাকা যাচ্ছে সে। আয়শা তার পরিবারের সাথে শহরের অদূরে এক ছোট্ট গ্রামে থাকে। ১২ বছর বয়সী আয়শাকে আজ তার বাবা ঢাকা নিয়ে যাবেন তার খালার বাসায়। বেলা ১১ টায় তাদের বাস।
বাসের জানালা দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আয়শা। সব কিছুই তার জন্য নতুন। আয়শার বাবা-ও খুব বেশী পাড়ি জমাননি শহরে। ছোট থেকে পল্লীগ্রামে থাকাটাই তার পছন্দ ছিল। তাই বাবা মেয়ে দুজনের জন্যই শহরটা ছিল বিশাল চমক। বাসের জানালা দিয়ে বড় বড় পাহাড় সমান দালান দেখা যাচ্ছিল। দালান গুলো এতো উঁচু যে এর চূড়া দেখা যাচ্ছিল না। আয়শা জানালা দিয়ে মাথা বের করতেই তার বাবা বাধা দেয়।
জানালার বাইরে হাত / মাথা কিছুই বের করা ঠিক নয় আয়শা। এতে মারাত্মক দূর্ঘটনা হতে পারে।
আয়শা কিছু বলে না শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সে কখনো এতো গাড়ি একসাথে রাস্তায় দেখে নি। জ্যামে বসে গাড়ির লাইন গুলো কেমন সাপের মতো লাগছে তার কাছে। হঠাৎ-ই তার চোখ পড়লো এক অন্ধ লোক রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। সম্ভবত রাস্তা পার হবেন। যেহেতু তিনি চোখে দেখতে পান না তাই অপেক্ষা করছেন হয়তো কেউ রাস্তা পারাপারে সাহায্য করবে। এসব দেখতে দেখতেই বাস আবার চলতে শুরু করলো।
কি রে, ঘুমিয়ে পড়েছিস? ক্ষুদা পেয়েছে মা? খাবি কিছু?
না বাবা, খালার বাসায় গিয়েই খাব। এখন আর কিছু খাব না।
কথা শেষ হতে না হতেই জোরে ঝাকি দিয়ে বাসটা থেমে গেল। আয়শা প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। আয়শার বাবা নিজেকে সামলে মেয়েকে সাহস দিয়ে বলে কিছু হয়নি মা। হয়তো গাড়ি নষ্ট হয়েছে। পরক্ষনেই তারা দেখতে পায় চারিদিক থেকে মানুষ আসছে রাস্তার দিকে। সড়ক দুর্ঘটনা, হ্যা এইতো সামনে একটা ট্রাক গতি হারিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। হয়তো মানুষ আহত হয়েছে আবার হয়তো কেউ মারা গিয়েছেন। কিছুক্ষণ পর বাস আবার চলতে শুরু করলো। এভাবেই তারা নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌছায়। আয়শা লক্ষ্য করে তার বাবা চেহারায় বিশাল চিন্তার ছাপ।
কি হয়েছে বাবা? কি নিয়ে চিন্তা করছো?
মা রে, এই শহরে এসে বড্ড ভুল করে ফেলেছি। আমাদের গ্রাম এর থেকে কয়েকশত গুণে ভাল। মানুষগুলো খুব সহজ সরল। এতো প্যাচ নেই সেখানে, নেই এতো জটিলতা। আমরা কাল-ই গ্রামে ফিরে যাব।
বাবার কথা শুনে আয়শা কি যেন ভাবলো। সে যেন বাবার সাথে একমত হতে পারছে না।
বাবা,তোমার চিন্তার কারণ আমি বুঝি কিন্তু তারপর ও কিছু কথা বলতে চাই। শহরে নানা রকমের মানুষ আছে কেউ হয়তো ভালো কেউবা খারাপ সেই সাথে আছে নানা জটিলতা। কিন্তু এতো কিছুর মাঝেও মানুষের মনুষ্যত্ব কিন্তু হারিয়ে যাই নি। এখানে কেউ বিপদে পড়লে হাজারো মানুষ ছুটে আসে সাহায্য করতে। দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের তারাই উদ্ধার করেছে। পথের ধারের অন্ধ ভিক্ষুককে তাদের-ই একজন রাস্তা পার করিয়ে দেয়। গাড়ির জানালা দিয়ে যখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ফুল বেচতে আসে তখন ফুল কিনে আরো দুটো টাকা বেশী দিয়ে তারাই কিন্তু সাহায্য করে। শত খারাপের মধ্যেও অনেক ভালো লুকিয়ে আছে।
মেয়ের কথা শুনে বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে যান। এই বয়সে এতো গভীর চিন্তা যা সে শেষ বয়সেও ভাবতে পারেননি।।
We always notice all the bad things around us. With all these negativity most of time we fail to realize the humanity. We fail to notice all the goodness as well as positivity. So Let’s rediscover all of these and lead a lively life.