হঠাৎ করে বেজে উঠল রাকিব এর ফোন । মাতাল হাতে কোন রকম এ ফোন হাতে নিয়ে দেখে মা কল করেছে । নিজেকে ঠিক করে নিয়ে, কলটা ধরে নরম গলায় বলল -
"হ্যালো মা , কেমন আছ "
ঐ পাশ থেকে স্নেহ মাখা সুরে মা বলল - "বালা আছি বাবা । তর শরীরডা কেমন বাবা ? সারাদিনে খাওয়াদাওয়া করসস? তুই কি বাসাত নাকি কামে ?"
এতগুলো প্রশ্ন শুনে রাকিব প্রতিদিনের মত এক কথায় উত্তর দিলও "হ মা, বালা আছি ।"
"কিরে তর গলা এমন হুনাইতাসে কেন ? ঠাণ্ডা লাগসেনি ?" - মা জিগ্যেস করল খুব বেশি চিন্তিত হয়ে।
"না মা কিচ্ছু অয় নাইখা । ঐ যে এসির মধ্যে থাহন লাগে সারাদিন , এর লাইজ্ঞা একটু ঠাণ্ডা লাগসে । " বলে র মন এ মন এ ভাবে - 'হায়রে মা তর পোলা তরে কেমনে কয় যে অয় মদ খাইয়্যা আছে । '
কথা বলার মাঝেই বেল বেঝে উঠে রুম এর। ঘড়িটা দেখে মাকে বলে রাকিব - ''মা কামের সময় অইসে । পরে আবার ফোন দিমুনে । ''
''আইচ্ছা বাবা । ঠিক মতন থাহিস বাবা । "
ফোনটা রেখে দরজা খুলে রাকিব । দেখে হোটেল বয় ফোন র একটা চিঠি নিয়ে দারিয়ে আছে । রাকিব বুঝতে পারল উপর থেকে আদেশ এসেছে । ফোনটা ধরে কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই গম্ভীর একটি কণ্ঠ বলল
"চিঠিতে সব কিছু দেওয়া আছে । আর এবার আগের বার এর মত ভুল হলে , পরের দিন আর দেখা হবে না তোর । "
"আইচ্ছা, স্যার " - সাহস নিয়ে বলল রাকিব ।
হোটেল বয় চলে গেল চিঠিটি দিয়ে । চিঠিটা খুলে রাকিব এবার এর টার্গেট টা দেখে নিলো । রাত ২ টায় আম্ব্রুজ বার এ । ছবি দেওয়া আছে চার-পাচেক ।
খাটে বসে আর একটু ঢোঁক গিলে নিলো মদ এর বোতল এ । কিছু দিন আগেও ভাত খাওয়ার জন্য ২ টাকা দিত না কেউ । আর এখন সে পোলাও বিরিয়ানির সাথে দামি মদও খাচ্ছে । হাসতে হাসতে ভাবল '' বাত এর লাইজ্ঞা ঈমান বেইচ্ছা দিলাম ।''
গত মাসের কথা চিন্তা করে হুশ ফিরে এলো । ভাবল যে মরে যাবে কিন্তু ঐ আগের অবস্থায় সে র যেতে রাজি না । এসব ওসব ভাবতে ভাবতেই রাত ১ টা বেজে গেল । হাত মুখ ধুয়ে রওনা হল বার এর জন্য । ছুরিটাও নিয়ে নিলো মন পকেট এ করে ।
এবার এর কাজ ঠিক মত হলে ওস্তাদ বলেছে বন্ধুক চালানো শিখাবে । এই কথা মন এ করে খুশি হয়ে বার এ ঢুকল রাকিব । ঢুকতেই দেখতে পেল আজকের টার্গেটকে । টাকা উরাচ্ছে , মদ এর ঘোর এ আবোল তাবোল বকছে । সাথে আবার ২ জন অল্প বয়সী মেয়ে ।
রাকিব গিয়ে ২ প্যাক ব্রান্ডি অরডার করল । সুযোগ এর আশায় বসে আছে রাকিব চিল এর মত । কিছুক্ষণ পর ও দেখল যে টার্গেট বের হচ্ছে বার থেকে , পার্কিং লট এ যাচ্ছে । বিল পরিশোধ করে রাকিব ও গেল পার্কিং এ ।
একটি গাড়ীতে গান শুনা যাচ্ছে । শব্দ শুনতে শুনতে আগাল রাকিব । দেখে এক মেয়ে ঘুম পিছন এর সীট এ আর একজন এর আওয়াজ শুনতে পেল গাড়ী পিছন এ । সেক্স এ মশগুল হয়ে আছে অর টার্গেট । পকেট হাত দিয়ে ছুরি টা ধরতেই মন এ ভয় চলে আসল ওর । নিজেকে বুঝাতে লাগল "অরে তুই আইজকা মারবি আর না হয় ওস্তাদ তরে মারব । আর মারতে তর সমস্যা কি ? অয় দুনিয়াতে থাইক্কা এই গুলাই করব । চাকরীর লাইজ্ঞা ঘুরসস , খাওন চাইসস , দেয় নাই ওর মত অমানুষ গুলাই । "
শরীর এ এক রকম জেদ চলে আসে রাকিব এর , ওর মন এ হয় ওর জীবন এর সব কষ্টের জন্য এই লোকই দায়ী । আস্তে আস্তে পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে গলার মধ্যে ছুরি টেনে দেয় রাকিব । সব চিন্তা ভাবনা মিশে যায় ছুরি তে , মস্তিষ্ক লড়াই করে চলেছে শেষ বারের মত সুস্থ থাকতে । হেরে যায় বিবেক , জিতে যায় চাহিদা । কুরবানির গরুর মত শরীরটা কয়েক বার কেপে নিস্তেজ হয়ে যায় আর মেয়ে এত মাতাল যে বুজতেই পারছে না কি হচ্ছে ।
রাকিব ওই লোক এর দেহ ফেলে দৌড়ে পালায় । কিছুক্ষণ পর কল দেয় ওস্তাদ কে আর বলে - "ওস্তাদ কাম শেষ । "
ওস্তাদ বলে -"হোটেল এ যা । ২ মাস চেহেরা দেখাবিনা কোথাও আর টাকা তর রুম এ পাঠায় দিচ্ছি । " ফোন কেটে দেয় ওস্তাদ ।
এর পর পরই রাকিব এর মা কল দেয় । কিছুক্ষণ ইতস্ত করে ফোন ধরে বলে -"কি অইসে মা "
''না কিছু না । তর ভাই এর টেকা লাগব কিছু কালকা , পরীক্ষার ফিস । " - বলে মা ।
''আইচ্ছা মা এই মাস এর টেকা পাডায় দিমুনে কালকা । ''
''আইচ্ছা বাবা , বালা থাহিস আর নিজের দিহে খেয়াল রাহিস । আর হূন কারো লগে খারাপ আছরন করিস না , বালা না শহরের মানুষ ''
"আইচ্ছা মা " - বলে ফোন রাখে রাকিব ।
-------------------------------------end----------------------------------------------------------
Image source
Its my first time, writing a story in bangla. Let me know how it went (believe me I can handle the truth). Please do forgive any of my mistake and let me know in the comment.