Source
মিহি রোদের আলোয় ঐ উঠতি আনমনা ভোরে,
আপন রুপে নীত মেঘবালিকার নিখিল চোখ জুড়ানো হাসি,
হিয়ার মাঝে এসে বসিল সে, নিল নিজের করে,
আধো তন্দ্রা, নিষ্পাপ তার চাহনি,
ডানা মেলে উড়ে যায় সে দূরের আকাশে,
কালো মেঘের খেয়ায় ভেসে....
স্বপ্নগুলো কখনো সত্যি হয়ে ওঠে না আমার৷ মনের কল্পনায় যে রংতুলি দিয়ে ছবি আঁকি, তাতে নীলিমার দেখা পাওয়া যায় না।ভোরের আলোতে দিগন্তের লাল আভা থেকে ঠিকরে বের হয় নতুন কোমল রবির মিঠে কিরন, সে কিরনে আলোকিত হয় আমার পৃথিবী, নতুন আলোতে পৃথিবীটাকে দেখি, কত সুন্দর অপরূপ এই ধরা, অনিন্দ্যরুপে মুগ্ধ হয়ে রই।
বছরখানেক আগে যে নীলিমার শেষ দেখা দেখেছি, তাকে আর দেখতে পেলাম না, বহুদিন ধরে পথে প্রান্তরে তাকে খুঁজেছি, অপেক্ষা করে ছিলাম তাকে দেখতে পাবো বলে, কিন্তু সে ধূসর মরীচিকার মতো মিলিয়ে গেল চোখের বাইরে।
হারিয়ে গিয়ে আমার মনের অবস্থায় থমকে যাওয়া ভাব এনে দিল।
Source
এ পৃথিবীতে কত কত অভিজ্ঞতায় আমাদের মন ভরে যায়, কত প্রাপ্তি, কত না পাওয়ার বেদনা, কত সুখ আহ্লাদ, কত যাতনা, সীমাহীন মন বিষিয়ে তোলা ভাব বয়ে যায় এ মন প্রান্তরে, সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে রাখে ভালোলাগা।
না পাওয়া ভালোলাগা চিরন্তন হয়ে থাকে। কেন জানি মনে হয় যা পেলাম না তাতেই তৃপ্তি থাকে। পেয়ে গেলে সে ভালোলাগা বিষাদে রূপ নেয় এ কথা আমার মন বলে। যাকে পেলাম না তাকে মনের মাঝে বসিয়ে দেখ, কিভাবে রুপার আলোতে সে ঝলমল করে, ভরা পূর্ণিমার জোৎস্না হয়ে সে ঝরে পড়ে, অনুভব করতে পারবে তার উপস্থিতি।
যেটা বলছিলাম, নীলিমার চলে যাওয়া, আশেপাশে না থাকা, অন্য এক জায়গায় চলে যাওয়া, আমার শহরের বাইরে, অন্য কোন খানে তার বিরাজ করা, আমার মনটাকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করেছে।
তার প্রস্থানের পর থেকে আমি আর নস্যি ছেলেমানুষ নই, জীবনকে উপভোগে নিয়ে গেলাম। কারন এ জীবনটাতে অনুভবের প্রয়োজন বেশি।বিদায়বেলার ঘন্টাধ্বনি যখন আমার কান স্পর্শ করলো তারপর থেকে আমি বুঝতে পারলাম, খেয়েপরে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে, ভালো চাকরি জুটিয়ে, পরিবারের মধ্যে আবদ্ধ থেকে শুধু বেঁচে থাকার নামই জীবন নয়। এ পৃথিবীর নির্মল বাতাসে মুক্ত পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বাদ গ্রহনের নামও জীবন।
সব শ্রেণির মানুষের সাথে মিশে, তাদের গল্পগুলো শোনার নামও জীবন, এ নিয়ে বেশি কথা বলবো না কারন হয়তো সবার চিন্তাভাবনা একরকম হয়না।
যা হোক, সবার মাঝেই একটা কবিসত্তা থাকে, কারো হয়তো অতোটা অনুভবশক্তি থাকে না, তাই প্রকাশ পায় না সেই কবি অস্তিত্ব।কিন্তু, আমার নীলিমার কথা মনে পড়লেই, এক টুকরো সাদা মেঘ ভেসে আসে, ঐ মেঘের ভেলায় ভেসে আমি মহাবিশ্বে ভ্রমন করি কল্পনায়, অতলে ডুব দিয়ে পাড়ি দেয় সীমাহীন মহাসমুদ্রে, গ্রহ নক্ষত্রের দূর আকাশের দিকে....
হয়তো সবকিছু এক নিমিষে ভুলে যাই, এ এমন এক কাব্য যার বিস্তৃতি সীমাহীন, খুজে পেতে পারি কখনো, কখনো মেলে না....
Source
স্বপ্নগুলো হাতের মুঠোয় নিয়ে পথের ধারে বসে বিরলে তার কথা ভাবি, স্বপ্নের শহরে তার সন্ধান না পেয়ে, হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়৷ অনুভূতিগুলো কাব্য হয়ে ঝরে পড়ে পেন্সিল আর ডায়েরিতে।কথাগুলো লিখে রাখি, মনের কোনে যাহা লুকিয়ে ছিল, হয়তো ডায়েরিটা কোনো এক বন্যার পানিতে ভেসে ভেসে নীলিমার হাতে উঠে পৌঁছাবে কোন একদিন, জেগে উঠবো ঘুম থেকে, চিরশান্তির জগতে হয়তো একদিন দেখতে পাবো তাকে।
স্বপ্নগুলো বাঁধা হয়ে থাকে সবসময় মনের কাছে... নীল আকাশের নীলিমার দিকে তার বেড়ে ওঠা, তারপর চলতে থাকে যে দিকে দু চোখ যায়, কখনো তার বেড়ে ওঠাকে থামাতে চাই নি, বেড়ে উঠুক সাবলীলভাবে তার মানুষ হিসেবে বিকাশ, এ পথের শেষ সীমান্তে চলে যাক, পূর্ণতায় ত্বরিয়ে যাক...এই কামনা করি।