আসসালামুআলাইকুম। কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি ভালো আছেন। আপনাদের দিন কেমন যাচ্ছে?
খুব গরম পড়ছে তাই না?
গ্রীষ্মের আগমনে রৌদ্রের পীড়নে সবাই হঁ াপিয়ে উঠছে। এ সময়, শিশু বৃদ্ধ সবাই একটু গাছের ছায়ায়, কেউবা ফ্যান চালিয়ে, বিত্তবানরা এসির হাওয়ায় শীতলতা পেতে ব্যকুল। গরমের আবহে সবারই ঘর্মাক্ত অবস্থা! 😐
শহরে আর গ্রামে মানুষের অবস্থাভেদে গ্রীষ্মযাপন ভিন্ন মাত্রার, ভিন্ন অভিজ্ঞতার।
গ্রামের দেশে শিশু কিশোররা দলবেঁধে খেলাধুলা করে, পুকুরের পানিতে জুড়িয়ে নেয় প্রান। দাবদাহ থেকে বঁাচতে শহুরে ছেলেপেলেরা কোথাও ঘুরতে বেরোয় অথবা দালানকোঠার বারান্দায় বিশ্রাম নেয়। শিশুদের আইসক্রিম খাওয়ার লোভ সামলানো মুশকিল। ছোটবেলায় কত আইসক্রিম খেয়েছি, লুকিয়ে টাকা চুরি করে, মাকে না বলে, স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে।
কত স্মৃতি! শৈশবের নানান রঙের দিনগুলোর কথা আর কি বলবো!
আজ আইসক্রিম নিয়েই বলি।
গরমের দিনে আইসক্রিম খেতে পছন্দ করে না, এমন লোক অণুবীক্ষণ দিয়ে পাওয়াই দুষ্কর। এই মুখরোচক খাবারটি বৃদ্ধরাতো পছন্দ করেই, তাছাড়া শিশু কিশোরেরাও আইসক্রিম খেতে বায়না ধরে।তাদের আইসক্রিম দিয়েই খুশি করানো যায়।
বিশেষ করে পৃথিবীর এই পূর্বদিকে, গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশে এ খাবারের চাহিদা তুঙ্গে। বাঙালির গ্রীষ্মকালীন অবকাশের রসনা, তৃপ্তিতে আইসক্রিমের জুড়ি মেলা ভার!
বন্ধুগন,
আমাদের অনেকেরই জানতে ইচ্ছা করে,
আইসক্রিম এর জন্ম কোথায়, কীভাবে এলো, কে প্রথম বানালো, এর ইতিহাস, কোন তেপান্তরের মাঠ ঘুরে এটি আমাদের দেশে এলো, আদি অন্ত ইত্যাদি। আজ আমরা এই গল্পখানিই শোনাব।
Ice Cream এর জন্মস্থান নিয়ে অনেক বাদানুবাদ আছে। কেউ বলে রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া,কেউ বলে ইউরোপ সাইবেরিয়া।
তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে, সঠিক তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে, বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ও পরিব্রাজকদের নথি থেকে আমি নিশ্চিত হলাম Ice-Cream এর জন্মস্থান China.
খ্রিস্টের জন্মের ও বহু বছর আগে Ice Cream মানুষের মুখে মুখে ঘুরতো।
১৬০০-১০৪৬ খ্রীস্টপূর্বে চীনের শ্যাং সাম্রাজ্যের সময়কালে Ice Cream এর আদলে মহিষের দুধ, আটা, কর্পূর, সন্দেশ, ঘি, বরফের টুকরো দিয়ে তৈরি খাবারের প্রচলন ছিল।
প্রথমদিকে কেশর, জাফরান দিয়ে বেশ দামী, সুলভ এই খাবার রাজা বাদশাহ পাত্র অমাত্যরা খেলেও পরে, ধীরে ধীরে এ খাবারের কদর সাধারন প্রজাদের কাছে বেড়ে যায়। সে সময় দুধ, ভাত হিমায়িত করে এই খাবার তৈরি করতো।
আবার রোমান সাম্রাজ্যের অধুনা পান্ডুলিপি থেকে পাওয়া এক লিপি থেকে জানা যায়, রোমান সম্রাটরা বরফ দিয়ে মধু ও দুধের মিশেলে একরকম খাবার খেতেন।
তবে, আইসক্রিম প্রচলনেরও অনেককাল পরে এসে ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার পরিব্রাজক বেদুঈনরা ভারতবর্ষ ভ্রমণে এলে ও খাবারের জনপ্রিয়তা ও প্রসার বেড়ে যায়।
যেমন ঃ একাদশ শতাব্দীতেইতালীয় অভিযাত্রী মার্কো পোলো চীনাদের কাছ থেকে রেসিপি শিখে প্রথমে ইউরোপ নিয়ে যান। ১৫৩৩ সালে তা ইতালি থেকে ফ্রান্সে আসে।পরে সেখান থেকে ইংল্যান্ড, অাটলান্টিক হয়ে আমেরিকা যায়।
ভারতে নিয়ে আসে ইরানিরা। তখন কাবুল কান্দাহার, ইরান তুরান ইস্পাহান থেকে প্রচুর বণিক, ঝুলিওয়ালা, নাবিক, সওদাগর নদীবিধৌত এ দেশে জাহাজ বোঝাই করে পণ্য কেনাবেচা করতো। আমি ১৬০০সালের কথা বলছি।
তারপর, মূলত, ১৮ শ শতক পর্যন্ত Ice Cream ছিল অভিজাত শ্রেণির প্রিয় ডেজার্ট। উনবিংশ শতাব্দীতে এর বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়। ফলে ফ্যাক্টরি কেন্দ্রীয় Ice Cream এর বাহারি সমাহার দেখা যেতে থাকে।সহজলভ্যতা আর ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আসতে থাকে।
এখন, প্রায় সবখানেই শিশুদের হাতে হাতে আইসক্রিম ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্বাদের, বিভিন্ন ফ্লেভারের, কালারের মুখরোচক মনোহরি আইসক্রিম শোভা পায় ডিপার্টমেন্টাল দোকানগুলোতে।
😀🙂 কত নামে বিক্রি হয়, কোনোটা ভ্যানিলা, না ঈগলু, চকবার নয়তো মালাইকারি, কুলফি বা কর্নেলি, চকোলেটি নয় ক্রিমি ইত্যাদি।
তারপরের উপাখ্যান সবার জানা আছে।
তাই আমি আর বলবো না। 😃🙂
প্রিয় বন্ধুরা। আমার লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।আমি মূলত গবেষণাধর্মী লেখালেখি করি। ছোটগল্প ও ভ্রমণকাহিনী ও লেখি।
আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে সামনে আরো এমন লিখব আশা করি। ভালো থাকবেন।
দোয়া রইলো সবার জন্য।
ফি আমানিল্লাহ 🙂✌️👍