সু-স্বাগতম, বিডিকমিউনিটি,
ভাদ্র মাসের এই দিনে সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।আজ,আমি আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে,আশা করি সাথেই থাকবেন। প্রতিদিন বাংলায় ব্লগ লেখার চেষ্টা করি,কিন্তু ব্যস্ততা ও সময়ের অভাবে তা হয়ে ওঠে না, হয়ে ওঠে না মনের কোনে জমে থাকা অনুভূতি গুলো ভাষার নৌকায় ভাসিয়ে দেয়া,এভাবেই চলছে।
অপরাধবোধ ,এমন এক বিমূর্ত শব্দ যার ইতিহাসটা ঠিক পৃথিবীর উষালগ্ন থেকে তৈরি হওয়া,যার ব্যপ্তি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল থেকে সবকালের সব পৃথিবীর অনুষঙ্গে জড়িত,বোধহয় কালের সাক্ষী এই অপরাধ নামক শব্দটা, নতুন সভ্যতার পত্তন থেকে নৃশংসতার কালো ছায়ায়,মনের কোনে জমে থাকা কু প্রবৃত্তির এক নির্লিপ্ত চরিতার্থতা, অথবা আমাদের পৃথিবীর দুইরকম বৈপরীত্যের নিরবচ্ছিন্ন অংশ,যেভাবে ভালোর সাথে খারাপ থাকে,ভালোবাসায় কলঙ্ক, দিনের গভীরে রাতের অস্তিত্ব্য,তেমনি মানুষের সাথে অমানুষের উপস্থিতি। আর অমানুষের কাপুরষোচিত কাজটি হলো অপরাধবোধ।
কিছুদিন আগে একটি খবরের কাগজের পত্রিকা পড়ছিলাম সকালে উঠে আর ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে মুখ লাগিয়ে ভাবছিলাম, এ দেশ ও দেশের নানা বিষয় নিয়ে।ভাবতে ভাবতে চোখে পড়লো, পত্রিকার ডান পাশের উপরের কলামে খুব ছোট করে কিছু নাম্বারপত্র, প্রথম দেখায় ভেবেছিলাম হয়তো চাকরির বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে,অথবা কেউ কমার্শিয়াল প্রোডাক্ট বের করে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছে,কিন্তু না ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম একটা নম্বরের ওপর বড় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,রোদেলাকে ফিরে পেতে হলে ৭ দিনের মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা এই নাম্বারে পাঠিয়ে দিতে হবে।
কোনো খবরের কাগজে এই প্রথম আমার চোখে পড়লো কেউ এ ধরনের মুক্তিপন প্রকাশ করতে পারে।যা হোক,কিছুক্ষন আশ্চর্য হয়ে তারপর ভাবতে লাগলাম, এ কোন রোদেলা! এটা কি সেই মেয়েটা যে আমার বাড়ির একটু দূরের প্রতিবেশী ফিরোজ মিয়ার মেয়ে, রোদেলা! নাকি অন্য কেউ,এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সকালে নাস্তা শেষ করে টুপ করে ফ্রেশ হয়ে প্যান্ট শার্ট পড়ে বাজারে চললাম কিছু তরকারী আর ফল কিনবো বলে।এরপর বাড়ির উঠোন পেরিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আর চিন্তা করছি,এমন সময় বন্ধু হাফিজ হন্তদন্ত হয়ে এসে বললো,বন্ধু! জানিস,গতকাল রাতে রোদেলাকে কেউ নিয়ে গেছে,সন্ধ্যার পর থেকে ওকে পাওয়া যাচ্ছিল না আর অনেক খোঁজাখুঁজির পরও লাভ হয়নি, রাত বারোটায় মুঠোফোনে কল আসে,এক অজ্ঞাত কন্ঠে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিতে বলে ৭ দিনের মধ্যে, না হলে নাকি মেয়েকে পাওয়া যাবেনা, এ কথা বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যায়।
আমিও ওর কথা শুনে হকচকিয়ে গিয়েছিলাম প্রথমে, তারপর বললাম যে,খবরের কাগজেও দেখেছি একইরকম কথা,এক আর্টিকেলে এমনি করে বলেছিল কারা যেন।হাফিজকে বললাম চল তো,ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে যাই,হয়তো আমরা একটা বিহিত করতে পারবো, হাজার হোক প্রতিবেশীর সাহায্যেই তো প্রতিবেশী এগিয়ে আসে। আমি ও হাফিজ,ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে এসে বললাম যে, এখনো তো ৭ দিন আছে,পুলিশকে খবর দিয়ে এই অপরাধচক্রের খোঁজ নেয়ার জন্য গুপ্তচর পাঠাই, আমার এক পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বলি, দেখি তিনি কি বলেন।তিনি সায় দিলে আমি ও ফিরোজ গেলাম ওর অফিসে, তারপর বলল যে আচ্ছা,দেখবো কি করা যায়,যে মুঠোফোন দিয়ে কল এসেছে ঐ মুঠোফোনের কল ট্র্যাকার টেকনোলজি দিয়ে অপরাধীদের আস্তানাটা ধরা যায় কিনা।এরপর তদন্ত শুরু হলো, পুলিশ পাকড়াও করলো ও পেশাদারিত্বের সাথে রোদেলাকে উদ্ধার করতে পারলো।
এ ঘটনার পর যা শিখলাম তা হলো, মানুষের কত রূপ, কত পরিচয় থাকতে পারে।এ এক অন্যরকম লীলাখেলার অংশ যা মানুষকে বিচিত্র রূপ দান করে,হয়তো ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এ পৃথিবীতে। শিক্ষার ছোঁয়ায় মানুষ কতটুকু নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমান হলো এ ঘটনা।হয়তো, এই দুষ্টচক্রের যে পরিকল্পনা করেছে,সে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি,নিজের প্রবৃত্তির দোষে অপরাধের জগত বেছে নিয়েছে,একটা মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে অর্থলিপ্সায় ও সীমাহীন লোভে নিজের বিবেকটাকে বিসর্জন দিতে পেরেছে, সুন্দর একটা জীবনকে শেষ করে দিতে উদ্যত হয়েছে।মানুষের শ্রেষ্ঠত্য যদি জ্ঞান ও শিক্ষায় হয়,তাহলে এ কোন শিক্ষার প্রতিফল যা, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে সমর্পন করায়।
প্রচলিত আইনে হয়তো এ অপরাধের বিচার হবে,কাঠগড়ায় হয়তো দাঁড়িয়ে হয়তো এই অপরাধী বিচারকের রায় শুনবে,সাজা হয়তো ভোগ করবে এই গর্হিত কাজের জন্য কিন্তু বিবেক ও মনুষ্যত্বের নিগড়ে যদি এর প্রায়শ্চিত্ত ও অনুশোচনা না জাগ্রত হয়,তাহলে হায়রে মানুষ, এই মানবজন্ম হয়ে কি লাভ হলো,পশুর জীবনও তো এর চেয়ে ভালো, অন্তত না জেনে পশুরা বিবেক বুদ্ধিহীন কাজ করে,পশুত্বের বিকাশ ঘটায়।এই মানুষগুলোর জন্য নুন্যতম সহানুভূতি জাগে না মনে, কারন এরা মনুষ্যত্বের চরম লঙ্ঘন করে বসে আছে,দয়া তাদের জন্য নয়,এভাবে একটি গল্পের শেষ হওয়া, অপরাধীর অপরাধের সমাপ্তি।