Source
}
দুখীর নিত্য গন্জনায় কেঁপে ওঠা মন যেমন,
নিথরে মিনতি করে, গাল দেয় বিশ্বসংসারে,
বেঁচে থাকার নাম যেন অস্ফুট এক যন্ত্রণা,
নিয়তির আবেশে সয় কতো কতো লাঞ্চনা।
দীনহীনার জীবন, সে যেন ধুলোমাখা এক টুকরো মর্মর পাতা,
নিত্য ঝাপটায় উড়ে বেড়ানো এক ঝরা পালকের টুকরো,
সদা বায়ুর তাড়নে ঘরহারা তার ভাগ্যলিখন,
এ পথ থেকে ও পথে শোনা যায় তার ক্রন্দন।
সমাজটা ফিরে চায়নি তার দিকে,
না আন্তরিকভাবে না বিরলে,
খেয়ে না খেয়ে ভগ্নদশা যার শীর্ন রূগ্ন কায়া,
ঝিম ধরা দেহে জমেছে এহেন দুস্থের ছায়া।
রাত পেরোলেই রাঙা প্রভাত নামে,
নামে তার জীবন সংগ্রামের উষর কঠোরতা,
বেদনার দ্বিপ্রহরে একটুখানি জলখাবার,
এ কী দুখীর জীবনে বড্ড বেশি আবদার?
ক্ষুধায় নিভে নিভে জীবন প্রদীপ বাতি,
পান্তা মিললে নুন মেলা ভার যার জীবনে,
সে কী রয়েছে পড়ে বৈভবের লোভে,
একটুখানি ভালোথাকা ভাসে তার ঐ দুই নয়নে।
ভাগ্যকে দোষে না নিয়তিকে দোষে,
ভাঙে তার মন, গগনবিদারী মনরোষে,
এ কোন খেলায় পড়েছে সে জড়িয়ে,
অভাবে যার যায় দিন,কড়িপয়সা কুড়িয়ে।
নিঃস্ব দুঃখ তার, সদা আপনমনে বিড়বিড় করে,
একটু সুখের লাগী হয়ে বিবাগী, সদা অশ্রু ঝরে,
নাহি খেদ তার অনাহারে,তবু দেখতে চায় নিজ ভাগ্যকে,
আসবে কবে সে সুদিন, যেদিন হাসবে প্রানভরে মনের পুলকে।
দিন যায় মাস যায়, যায় বছর ঘুরে একটু হেসে,
তবু থামেনা ভাগ্যের অন্বেষণে ফিরে চলা,
ক্লান্ত দেহে, শ্রূান্ত মনে, দিগ্বিদিক বেলা ওবেলা,
বড় স্বপ্নে দেখা ভোরে, ভাসিয়ে দূরের ভ্রমের ভেলা।
কবে আর হবে তার স্বপ্নের দেখা, এ জীবনে নিত্য গরজে,
ভেঙে দুখের শৃঙ্খল, কবে মিলবে মুক্তি সমৃদ্ধির এ আরজে,
দুখের সীমা ছাড়িয়ে বয়ে যায় তার একেলা ভেলা,
পানির স্রোতে দূরে পলকের সীমানায় যার লীলাখেলা।
{