উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে এটিকে মেরিগোল্ড বলেও জানে,তবে দেখতে অনেকটা ছোট সূর্যমুখি ও গাঁদাফুলের মতো। ইন্টারনেটে খুজলে এর তথ্য পেয়ে যাবেন।
আমার এই লিখাটি ফুলের পরিচয় দেয়ার জন্য নয়, এর থেকে যে ঔষধটি তৈরী হয় তার গুনাগুন আপনাদের জানানোর জন্য।
এটি যুগ যুগ ধরে হারবাল ও হোমিওপযাথিক মেডিসিন হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।বই পড়ে কিছু জানা আর নিজে ব্যবহার করে তার সত্যতার প্রমান পাওয়া দুটাই আলাদা জিনিস।
আমার মা ডায়াবেটিস এর রুগী সাথে তো বাত ব্যাথা আছেই। কিছুদিন আগে ওনার পায়ে ছোট্ট দুটি ঠোসা দেখা যায়। আস্তে আস্তে তা বড় হতে থাকে। যেহেতু ওনার ডায়াবেটিস আছে তাই ভয় ও পাচ্ছিলাম। ভিতরে পানি একসময় যে কোন ভাবে তা ফেটে যায়।তিনি সিড়ি বেয়ে উঠানামা করতে পারেন না।তাই বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর শরণাপন্ন হলে (ডাঃ এর নাম পদবী আমি প্রকাশ করছি না) উনি যে ঔষধ গুলো দেন তা নিম্নে-
Rx,
FLUCLOX 500MG, ১টি করে ৬ ঘন্টা পরপর ১৪দিন
ভায়োডিন ৫% অয়েন্টমেন্ট ক্ষতস্থান পরিস্কার করে
Bactrocin 2% অয়েন্টমেন্ট লাগাতে দেন।
সাতদিন অতিবাহিত হবার পর দেখাগেল ক্ষতস্থানের উপর একটি শুকনো আস্তর পড়েছে ঠিকই কিন্তু সেখানে ব্যথা ও আস্তরের নিচে পুজ জমা হচ্ছে। সাথে পরিধিও বাড়ছে। উনি হাটতে পারছেন না,পা নাড়াতে পারছেন না। এন্টিবায়োটিক সেবনের জন্য উনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। প্রেশার ও এলারজির জন্য দুধ ডিম খেতে পারেন না। ভাবলাম এভাবে বাড়তে দেয়া যায় না,তাহলে একসময় মায়ের পা-টাই হয়তো হারাতে হবে।আল্লাহর উপর ভরশা করে সব এলোপ্যাথি বন্ধ করে দিলাম। এবার প্রাক্টিক্যাল হবে মায়ের উপর।
ক্যালেন্ডুলা মাদারটিংচার এনে পানিতে মিশিয়ে প্রথমে উপরের শুকনা চামড়াটা সরিয়ে ফেললাম। ভালো ভাবে ড্রেসিং করে ক্ষতটার পানি শুকিয়ে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ২/৩ বার প্রতিদিন লাগাতে থাকলাম।
ব্যথা কমে গেল,নতুন পুজ হওয়া বন্ধ হলো। ২/৩ দিন পর থেকে ঘা ও শুকাতে শুরু করলো। ছবিটি ১০দিন পরের ছবি। আগের ছবি তোলা হয়নি। যদি জানতাম এমন রেজাল্ট পাবোই তাহলে আগের ছবিও তুলে রাখতাম।
এবার আপনাদের কে জানিয়ে দেই এই হোমিওপযাথিক মেডিসিনটি কোন কোন কাজে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
ঔষধ টি হোমিওপযাথিক ফার্মেসিতে কিনতে পাবেন। আপনার বাসায় এন্টিসেপ্টিক যদি কোন মেডিসিন রাখতে চান এটিকে এক নাম্বারে রাখতে পারেন।এই মেডিসিনটি এন্টিফাংগাল,এন্টি-ইনফ্লামেটরি,এন্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ। যে কোন ভাবেই আপনার ত্বক বা চামড়া যদি কেটে যায়, ছিড়ে যায়, থেতলে যায়,এটি ব্যাবহার করে দেখুন কত তারাতাড়ি আপনাকে সারিয়ে তোলে। এমন কি আপনার ক্ষতের দাগ ও কত তারাতাড়ি বিলীন হয়ে যায়। যদি আপনার ক্ষততে মাংস বিছিন্ন হয়ে যায়, দেখবেন কত তাড়াতাড়ি আপনার ক্ষততে মাংস ভরাট করে দেয়।
আপনি যদি বাইক রাইডার হয়ে থাকেন আর বাইকে মেডিসিন রাখার ব্যবস্থা থাকে তাহলে রেখে দিন কাজে লাগবে।
রান্নাঘরে কাজের সময় অনেকেরই হাত কাটে, একফোঁটা লাগিয়ে দেখুন রক্ত বন্ধ করে কত তাড়াতাড়ি আপনার কাটা স্থানটি সেরে যায়।
আপনার মুখে ব্রণ হয়েছে পানিতে মিশিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগান।
সিজারিয়ান বা যে কোন অপারেশন এর পর এটি দিয়ে কাটা স্থানে ড্রেসিং করে দেখুন।
অনেকের শরীরে ফোঁড়া হয়, অপারেশন করে পুঁজ বের করে বরিক পাউডার দিয়ে প্রতিদিন ড্রেসিং করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে এই মেডিসিন ব্যবহার করে ড্রেসিং করে দেখুন কত তাড়াতাড়ি পুঁজ হওয়া বন্ধ করে তা সেরে যায়।
সন্তান প্রসবের সময় যোনী পথ অনেক সময় ছিড়ে যায়,কোষ্ঠকাঠিন্ন হলে পায়ূপথ ছিড়ে যায় সেই ক্ষেত্রে এই মেডিসিন পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করে দেখুন আপনি কত তাড়াতাড়ি আরাম পান।
দাঁতের ব্যথায় কস্ট পাচ্ছেন তাই ডেন্টিস্ট দাঁত তুলে দিয়েছে রক্ত বের হচ্ছে কি করবেন? একটা গ্লাসে পানি নিন, আট/দশ ফোটা ক্যালেন্ডুলা মাদার দিয়ে কুল্কুচি করে দেখুন রক্ত বন্ধ হয়ে ক্ষত স্থানটি কত তাড়াতাড়ি সেরে যায় ?
ধন্যবাদ সবাইকে।
ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।