আমি মোঃ আখতার উজ জামান। আমার জন্ম বাংলাদেশে। আমার বাবার তিন ছেলে সন্তানের মাঝে আমি সবার বড়। বাবা যেহেতু ফিসারিজ ডিপার্টমেন্ট এ চাকুরী করতেন সেই সুবাদে বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়-তরপুরচন্ডী ফ্রী প্রাইমারী স্কুল,চাঁদপুর গভঃ টেকনিক্যাল হাই স্কুল ও চাঁদপুর সরকারী কলেজ এ শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৮৬ ইং সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নাবিক হিসাবে যোগদান করে খুলনা জেলায় অবস্থিত "বা নৌ জা তিতুমীর" এ ছয় মাস বুট ক্যাম্প ট্রেনিং শেষ করে পাহাড়ী জেলা রাঙ্গামাটি এর কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত "বা নৌ জা শহীদ মোয়াজ্জেম" এ
নয় মাস রেডিও ইলেক্ট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট এর উপর বেসিক ট্রেনিং শেষ করে নেভাল ফ্রিগেট "বা নৌ জা আবুবকর" এ চাকুরী জীবন শুরু করি।
সেই সময় ভারতের কোচিন,
পাকিস্তানের করাচি ও মালদ্বীপ ভ্রমন করি।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজে দীর্ঘ ২৩ বছর চাকুরী জীবন শেষ করে ২০০৯ইং সালে নৌবাহিনী থেকে অবসরে গ্রহন করি। যেহেতু নৌবাহিনীতে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রোনিস এর উপর শিক্ষা গ্রহন করি তাই শখের বসে বিভিন্ন ডিভাইস তৈরী করতাম। ডিলেটাইম সহ হাই-লো ভোল্টেজ গার্ড তৈরী করে নৌবাহিনীতে সবার কাছে পরিচিতি পেয়ে যাই। চাকুরীতে থাকাকালীন আমি বিভিন্ন হারবাল প্রডাক্ট নিয়ে লেখা পড়া করি। এক সময় মনে হয় চিকিৎসা শাস্রে আরো বেশি জানা প্রয়োজন এবং সারটিফিকেট না থাকলে কাউকে কোন পরামর্শ প্রদান করা বেআইনি। সেই চিন্তা থেকে আমি চার বছর মেয়াদে ডিএইচএমএস কোর্স সম্পন্ন করি।
চাকুরী থেকে অবসরে এসে প্রথমে চিকেন প্রসেসিং প্লান্ট করে প্রথম ব্যবসা শুরু করি। বাংলাদেশের ক্রেতারা বাকিতে প্রডাক্ট ক্রয় করে ব্যবসা করে অব্যস্থ। কোন নিয়ম নীতি এদের মাঝে নেই।উৎপাদন ও বিপণনে লাভ এর পরিমান কম হওয়া,ব্যবসার পলিসি গ্রহনের দূরদর্শিতা আর ম্যানেজিং পার্টনারদের অসততার কারনে সেই ব্যবসা এক সময় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।
নতুন করে শুরু করি তাসনীম কন্ডেন্সড মিল্ক এর ডিলার শিপ এর ব্যবসা। সেখানেও বাকিতে পন্য বিক্রি করে করে কোম্পানীর সেলস ম্যানদের অসততার কারনে,সাধারন মানুষের চরিত্র সম্পর্কে ধারনা না থাকার কারনে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হই।
ব্যবসার প্রতি একটি বিরুপ ধারনা জন্ম নেয়াতে এবং আর কোন টাকা ইনভেস্ট না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে "আমেরিকান লাইফ ইনস্যুরেন্স"(আলিকো/মেটলাইফ) এর এজেন্ট হিসাবে যোগ দেই। ইনস্যুরেন্স এর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের একটি নেগেটিভ ধারনা জন্ম হয়ে আছে,কারন কোম্পানী গুলো তাদের শর্ত অনুসারে ক্লেইম প্রদান করে না,মেয়াদ শেষে যথাসময়ে টাকা প্রদান করতে চায়না, এজেন্টরা বা গ্রাহক ঠিক মতো টাকা জমা দেয় না। স্বচ্ছতার অনেক অভাব ইনস্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর। সাত বছর কাজ করা পর কিছু কিছু নিয়ম ভালো না লাগায় সব কিছুর পরিপূর্ণতা নিয়ে মার্কেটে আসে “সোনালি লাইফ ইনস্যুরেন্স” সেখানে জয়েন করি এবং কাজ করে যাচ্ছি।
নৌবাহিনীতে চাকুরীর সাথে সাথে হোমিওপযাথিতে মানুষের মন,চরিত্র,শরীর নিয়ে লেখা পড়া করতে গিয়ে দেখতে পেলাম, আমরা যা খেয়ে জীবন ধারন করি তা উৎপাদনে বাংলাদেশে যে সার,কীটনাশক,প্রিজারভেটিব,হরমোন সহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয় তা আমাদের শরীরের জন্য মোটেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এর কারনে এখন মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর থেকে রেহাই পেতে খাদ্যের বিকল্প হিসাবে আমাদের বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টারী ফুড গ্রহন করা অতীব জরুরী। আবার কেউ যদি অরগানিক ভাবে তা উতপাদন করেও থাকে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল,যে পরিমান খাদ্য প্রতিদিন আমাদের শরীরের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজন তা আমরা শরীরকে দিতে পারি না। সেই হেতু তা নিয়ে আমি সবার বুঝার জন্য সহজ বাংলা ভাষায় লিখার চেস্টা করে যাচ্ছি। সেইহেতু আমি চেস্টা করবো সাপ্লিমেন্টারী ফুড এর পাশাপাশী হারবাল বিউটি কস্মেটিক্স, হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এর উপাদানের উপর ও কিছু কিছু লিখা আপনাদের জন্য আপনাদের মতো করে লিখে উপস্থাপন করতে। আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারেন আপনার শরীর ও সৌন্দর্যের জন্য আপনি কি খাবেন,কেন খাবেন, কতটা খাবেন,কি ব্যবহার করবেন? তার সাথে আপনাদের জন্য ইমারজেন্সী হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন কি কি লক্ষণ আপনার দেহে মনে দেখা পেলে কোন কোন মেডিসিন কি ভাবে ব্যবহার করবেন।
আমার এই লিখা যদি আপনাদেরকে একটুও সাহায্য করে তবেই আমার লিখা সার্থক হবে। আমার লিখা সম্পর্কে যদি কোনও প্রশ্ন থাকে বা কিছু জানতে চান তবে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি আপনাদের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। আপনার চিন্তাভাবনা একটু ভাগ করে নিতে নির্দ্বিধায় শেয়ার করুন এবং আমার প্রথম ব্লকচেইন অভিজ্ঞতায় আমাকে সাহায্য করুন এবং আমার সাফল্য কামনা করুন। আশা করি আমাদের সৃস্টিকর্তা সকলের সবকিছু সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবেন।
ধন্যবাদ।