আমি যখনই কোন নতুন সূর্য দেখি.. তখনই আমার একটা কবিতা মনে পড়ে যায়.. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অসাধারণ কবিতাটি.. প্রথম দিনের সূর্য
প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নতুন
আবির্ভাবে
কে তুমি?
মেলেনি উত্তর।
.
বৎসর বৎসর চলে গেলো।
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল
পশ্চিম সাগর তীরে
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়
কে তুমি?
পেলো না উত্তর।
(প্রথম দিনের সূর্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
যদিও নতুন সূর্য শব্দটা ব্যবহার করেছি.. সূর্য আসলে নতুন নয়.. একই সূর্য প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে আসে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো.. একই সূর্য আমরা পৃথিবীর আদিকাল হতে দেখে আসছি.. তবু আমাদের ক্লান্তি আসে না.. শেষ দিন পর্যন্ত ক্লান্তি আসবে না.. কারণ সূর্যের বয়স বাড়লেও.. সে তার তারুণ্য ধরে রেখেছে।
আমরাও যদি আমাদের তারুণ্য, আমাদের সজীবতা ধরে রাখতে পারি.. তাহলে বয়স কোন ব্যাপার না। কিন্তু আমরা অধিকাংশই দেখা যায়.. নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলি বয়সের সাথে সাথে.. সেই গতিশীল উদ্যম আর ধরে রাখতে পারি না.. তাই আমরা অন্যদের কাছে হয়ে যায় বিরক্তিকর.. হয়ে যাই অপাংক্তেয়!
যাই হোক- অন্য প্রসঙ্গে চলে এসেছি.. কাজের কথায় আসি। রবীন্দ্রনাথের সেই প্রথম দিনের সূর্য কবিতাটি অবলম্বনে একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি।
যেহেতু আমি জল রং ছাড়া অন্য কিছু পারি না.. মাঝে মাঝেই স্কেচ করি, তবে হয় না.. তাই আজও জলরঙে সূর্যের উচ্ছলতাকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি.. শিরোনাম দিলাম: প্রথম দিনের সূর্য
অংকন উপকরণ:
- পেন্সিল (২ বি)
- তুলি (ফ্ল্যাট ৪ ও ৮ নং, নরমাল ৬ নং)
- জলরঙ
- কার্টিজ পেপার (২০০ জিএসএম)
- রাবার, শার্পনার, রুলার, পেপার হোল্ডিং বোর্ড
- কলম (বলপয়েন্ট, কালো)
ধারাবাহিক অংকন পদ্ধতি:
ছবিটি আঁকার বিভিন্ন সময়ে ধারণকৃত ছবি নিচে ধারাবাহিক ভাবে দেওয়া হল, যা দেখলে আশা করি ছবিটি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন..
আমার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
আমি কাব্য, কর্মের সন্ধানে নিয়োজিত এক স্বপ্নবাজ তরুণ। মূলত কবিতা লিখতে ভালোবাসি। দীর্ঘদিন ধরে কাব্যচর্চা করছি। পাশাপাশি সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও বিচরণ করি। পড়তে ভালো লাগে। ছবি আঁকি মনের আনন্দে।