১০ বৈশাখ-গতকাল বাবার মৃত্যুবার্ষিকী ছিল।
যথা নিয়মে শাস্ত্রাদি মেনে, বামুনঠাকুর কে ডেকে সাধ্যানুযায়ী পালন করার চেষ্টা করা হলো। পাড়ার বয়ঃজেষ্ঠ, গুরুজন ও জন কতক পরিবারের সদস্যদের নিমন্ত্রণ দেয়া হলো। ভালো ভাবেই সম্পন্ন হলো শ্রাদ্ধানুষ্ঠান।
আজ সকাল থেকেই আকাশ কেমন যেন একটু ভেজা ভেজা ভাব, মেঘ জড় হয় আবার সরেও যায় বাতাসের ঝাপটায়। এই বুঝি গমগমিয়ে বৃষ্টি পড়বে বা শো শো করে ঝড় আসবে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর এলো বৃষ্টির খোজ নাই। কিন্তু এলোকেশী চুলের মত কালো মেঘে ঘিরে আসতে লাগল। ওমনি বৃষ্টিও শুরু হলো। বৃষ্টি মানে সেকি বৃষ্টি! খানিক বাদে ঝড়ও এলো। আমি আর রিমঝিম বৃষ্টিতে ভেজার লোভ সামলাতে পারলাম না। সেই ক্লাস সিক্স থেকে হোস্টেলে থাকা হয়, তাই এমন ভাবে ভেজার সুজোগ হয়নি। প্রায় ৬ বছর পর এমন সুজোগ আর সময় পেলাম। তাই নেমেও গেলাম
মাঠে ভিজতে।
ঝড় থামল; বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যাও নামল,কিন্তু বরুন দেব হয়তো এইটুকু বৃষ্টি তে ক্ষান্ত হতে পারলেন না।
সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই আবার রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি আর বাতাস শুরু হলো। বৃষ্টির ফোটা যে টিনের ওপর পড়ে তার শব্দের কেমন একটা সুর ভেসে আসছিল কানে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পাশের ঘরে মা বিছানায় শুয়ে ছিলেন; বললেন, "লোডশেডিং হয়ে গেল! আমি একটু ঘুমাই। বিদ্যুৎ এলে আমায় ডাকিস। আর তুইও ঘুমো কিচ্ছুক্ষণ। "
আমি কিছু বললাম না। ঘরে গিয়ে একটা মোম জালিয়ে টেবিলে রাখা কাঠ গোলাপের মাঝে রাখলাম। আর মোমের দিকে চেয়ে থাকলাম এক নিরিখে। কাঠ গোলাপ-অন্ধকার-মোমের আলো এই তিনটি জিনিস মিলে পরিবেশ টা আরো চমৎকার করে তুললো
কিছুক্ষণ বসেই রইলাম। পরে ভাবলাম খা খা বৈশাখের তপ্ত রোদ্দুরের পর প্রকৃতির তৃষাতুর পরিবেশের তৃষ্ণা মেটানো এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধায় একটু মনটা ভিজিয়ে নিলে মন্দ হয় না। তাই আর কি করা? চট করেই বইয়ের তাক থেকে
অরুন্ধতী রায়ের লেখা "The God of small things" বইটা নিয়েই এর মে মাসের এক বিকেলে এমেনেম শহরে বর্ষার ক্ষুধা ধারায় নরম মাটির মত মন টা ভিজিয়ে নিতে আরম্ভ করলাম।
২৪-০৪-২০২০.
১১ বৈশাখ, ১৪২৭
নিজ বাড়ি।