বজ্জাত টাইপের ছেলেপুলে হলো সেই প্রকৃতির শয়তানের অনুসারী যাদের শেষ ঠিকানা এতিমখানা বা মাদ্রাসা। কোন কূলকিনারা না পেয়ে, অনেকটা বাধ্য হয়েই বাবা মায়েরা তাদের অবাধ্য সন্তানকে মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে দিয়ে বলতেন, ‘মাংস আপনার হাড্ডি আমার’! অবাধ শাসন করার লাইসেন্স পেয়ে শিক্ষকেরাও তাদের ঘরের যত অশান্তি, বউয়ের উপর যত রাগ- তার সমস্তটাই ঢেলে দিতেন এদের পশ্চাৎপ্রদেশের পাহাড়তলীর উপরে। এরূপ চিকন বেতের বেত্রাঘাতে কারো কারো ঘাড় থেকে শয়তান পালাতো ঠিকই, আবার উল্টোটাও হতো; কেউ কেউ শয়তানের হাত থেকে পিএইচডি ডিগ্রী সার্টিফিকেট নিয়ে নাস্তিক এ রূপান্তরিত হতো। এটা কোন কল্প-কাহিনী নয়, আমার খুব কাছের একজন বন্ধু যার অর্ধেকটা ধর্মগ্রন্থ মুখস্থের পাশাপাশি একজন শীর্ষ পর্যায়ের বজ্জাত এবং নাস্তিক।
যাইহোক আমি অতটা উচ্চমাত্রার শয়তান ছিলাম না, তবে আমার প্রয়াত নানী আমাকে প্রায়ই বলতো ‘মিচকা শয়তান’। তার মানে হলো, আপনি শয়তানি করবেন ঠিকই কিন্তু লোকে ভাববে আপনি একজন গোবেচারা। এবার শয়তান এবং শয়তানির ব্যাখ্যা রেখে কাজের কথায় আসা যাক।
প্রকৃত শয়তানকে নাকি মানুষের ধমনীতে প্রবেশ করে সর্বপ্রকার কুমন্ত্রণা দেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই আমি ওই মাত্রার মনীষীর মধ্যে পরিনা যে আমার শিরা-উপশিরায় শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। তাই স্বভাবতই আমি মানুষকে দেখে ঈর্ষান্বিত হই, মাঝেমধ্যে অর্ধসত্য বলি, অকারণে অধস্তনদের উপর রেগে যাই, সর্বোপরি ধর্মকর্মের ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন। তারমানে মোদ্দাকথা হলো, শয়তানের ছোট করে হলেও একটি আবাসস্থল আমার ভেতরে আছে এবং সেখানে সে ভালো আবাদ করে বেড়াচ্ছে।
তাহলে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? উত্তরটা আমার পুরোপুরি জানা নেই। তবে মাঝে মাঝে মনে হয় যে সংসার বৈরাগী হয়ে সন্ন্যাসী রূপ ধারণ করে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ালে বোধহয় এই মায়া থেকে অনেকটাই নিজেকে সরিয়ে রাখা যেতো। কারণ সংসারটাই একটা মায়া, আর যেখানে মায়া আছে শয়তানের বিচরণ সেখানে থাকবেই।