তোমায় নিয়ে কবিতা লেখবার সাধ্য আমার কখনো হয়ে উঠেনি।
ছেঁড়া-ফাটা খাতা বলপয়েন্টের আঁকিবুঁকি দিয়ে ভরিয়ে ফেললেও, সেখানে তোমায় নিয়ে আমার অনুভূতির ছোঁয়া আজও পরেনি।
আমি বরাবরই বাংলায় খুব কাঁচা।
ভুলভাল শব্দচয়ন মিশিয়ে তাও যা কয়েকবার তোমার কাছে লিখেছি,
সেগুলোর অবস্থান বোধহয় তোমার হাতের মুঠোর থেকে টেবিলের তলায় পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় দস্তাবেজের সাথেই বেশি মানানসই।
তাই তোমায় নিয়ে কবিতা লেখার সাহস আমার আজঅব্দি হয়ে নি।
অন্বেষী হয়ে বাচঁবার আমার বড়ই ইচ্ছে, জানোতো?
যুগ যুগান্তর ধরে বইয়ের পাতায় বেচেঁ থাকা সেসব ভ্রমণকারিদের মতন,
যারা এক জীবন পার করে আত্মার সন্ধানে দিকবিদিক নেশাগ্রস্থের মতন ঘুরে বেড়িয়েছে,
তাদের মতন দিক উদ্দেশ্যহীন ভাবে হারিয়ে যাওয়ার বাসনাটা না আমার সাথেই আমার ভেতর বড় হচ্ছে!
আচ্ছা,
আত্মসন্ধানের মানে কি তোমার জানা আছে?
হয়তো আছে, তুমি তো আমার কাছে সবজান্তার সমতুল্য।
শুনেছি, হারিয়ে গেলেই নাকি তার সন্ধান পাওয়া যায়।
আমার মগজে আবার সহজে এসবের উত্তর মেলে না কখনোই। ভাবনায় মগ্ন হতে নিলেই খামখেয়ালীর বসে বাউল গান মনের ভেতর ঘুরে বেড়ায়।
"খুঁজলি তারে আসমান জমিন
আমারে চিনি না আমি।
এ কি বিষম ভুলে ভ্রমি,
এ কি বিষম ভুলে ভ্রমি,
আমি কোন জন, সে কোন জনা?
কে কথা কয় রে দেখা দেয় না..."
কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে,
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে,
জলন্ত সিগারেটের ধোঁয়ার ফাঁকে ফাঁকে আমায় এর মানে বোঝাবে তো?
অন্বেষী হওয়ার প্রয়াস যে আমার বহু দিনের।
আমায় বুঝিয়ে দেবে তো,
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার মানে?
হয়তো এরপরেই আমার তোমায় নিয়ে কবিতা রচনার সাহস হবে।
মহাকাব্য লেখার প্রয়াসটা তাই আপাতত সিন্দুকে ভরে,
মনের আলমিরার ভেতরে তুলে রাখছি।
কোনো এক বর্ষায় নাহয় এ তালা আমি খুলবো...।
P..C: This dude.